সবজিতে স্বস্তি মিললেও মাছ ডিম তেলের চড়া দামে বিপাকে ক্রেতা
ফাইল ছবি
রাজধানীর খুচরা বাজারগুলোতে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামে মিশ্র চিত্র দেখা গেছে। সরবরাহ কিছুটা বাড়ায় পটল, ঢেঁড়স, ঝিঙে ও পেঁপেসহ কিছু সাধারণ সবজির দামে কিছুটা স্বস্তি মিললেও মাছ, ডিম, মুরগি এবং ভোজ্যতেলের চড়া দাম সাধারণ মানুষের পকেট কাটছে। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষের জন্য প্রতিটি বাজারেই এখন হিসাব করে চলতে হচ্ছে।
শুক্রবার (০৪ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর রায়ের বাজার, মোহাম্মদপুর কৃষি বাজার, যাত্রাবাড়ী, কারওয়ান বাজার, খিলক্ষেত ও শান্তিনগরসহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে এবং ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।
বাজারের ইতিবাচক দিক হলো, বেশ কিছু শীতকালীন আগাম ও গ্রীষ্মকালীন সবজির সরবরাহ বাড়ায় দাম কিছুটা কমেছে। বাজারে সবচেয়ে কম দামে পেঁপে বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৪০ টাকা কেজি দরে। এ ছাড়া পটল, ঢেঁড়স, ঝিঙে, চিচিঙ্গা ও জালি কুমড়া ৬০ থেকে ৭০ টাকা কেজির মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে। শসা বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকা দরে, তবে দেশি শসা এখনও ৮০ থেকে ১০০ টাকা কেজি। কাঁচামরিচের দাম কিছুটা কমে ১২০ থেকে ১৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
তবে এর বিপরীতে এখনও চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে বেগুন, টমেটো ও শিম। লম্বা বেগুন ১০০ টাকা, গোল বেগুন ১২০ টাকা এবং টমেটো ১২০ থেকে ১৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। বর্ষার এই সময়ে বাজারে আসা আগাম শীতের সবজি শিম বিক্রি হচ্ছে চড়া দামে প্রতি কেজি ১৮০ থেকে ২০০ টাকা। করলা, বরবটি ও কচুরমুখী ৭০ থেকে ৯০ টাকার মধ্যে রয়েছে।
অন্যদিকে, শাকের বাজার মোটামুটি নাগালের মধ্যে রয়েছে; লাল শাক ও কলমি শাক ১০ টাকা আঁটি এবং ডাঁটা ও পুঁইশাক ৩০ থেকে ৬০ টাকা আঁটি দরে বিক্রি হচ্ছে।
আমিষের অন্যতম প্রধান উৎস ডিম ও মুরগির বাজার এখনো উচ্চমূল্যেই স্থির রয়েছে। খুচরা বাজারে প্রতি হালি লাল ডিম ৫৫ টাকা এবং ডজন ১৬৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। কোথাও কোথাও এক হালি ডিম ৬০ টাকা পর্যন্ত রাখছেন খুচরা বিক্রেতারা। আগে ডজন কিনলে কিছু ছাড় পাওয়া গেলেও এখন সেই সুযোগ নেই।
আরও পড়ুন: রাজধানীর বাজারে শীতের শিমের ঝাঁজ, কাঁচা মরিচে স্বস্তি
মুরগির বাজারে ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি ১৮০ থেকে ১৯০ টাকা এবং সোনালী ও পাকিস্তানি মুরগি ৩২০ থেকে ৩৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। গরুর মাংসের দাম অপরিবর্তিত থেকে প্রতি কেজি ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকা এবং খাসির মাংস ১১৫০ থেকে ১৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
মাছ কিনতে গিয়ে ক্রেতাদের বড় ধরনের আর্থিক চাপের মুখে পড়তে হচ্ছে। রুই ও কাতল মাছের কেজি ৩৫০ থেকে ৪৫০ টাকা, তেলাপিয়া ২৫০ থেকে ২৬০ টাকা এবং পাঙাশ ২৩০ থেকে ২৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। মাঝারি ও বড় আকারের রুই-কাতলের পাশাপাশি পাবদা ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা, টেংরা ৭০০ টাকা এবং চিংড়ি ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
বাজারে ইলিশের দাম ক্রেতাদের নাগালের বাইরে রয়েছে। এক কেজি ওজনের ইলিশ ২ হাজার থেকে ২ হাজার ২০০ টাকা এবং মাঝারি আকারের ইলিশ ১ হাজার ৫০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া শোল, বাইম, দেশি কৈ ও নদীর বেলে মাছের দাম কেজিতে ৭০০ থেকে ১ হাজার টাকার ওপরে রয়েছে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম লিটারে ৫ টাকা বাড়িয়ে ২০৪ টাকা নির্ধারণ করার অনুমোদন দিলেও খুচরা বাজারে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। অনেক দোকানেই ১ লিটারের বোতলজাত তেল পাওয়া যাচ্ছে না, আর যেসব দোকানে মিলছে সেখানে সরকার নির্ধারিত দামের চেয়েও বেশি বা কৃত্রিম সংকটের অজুহাতে বাড়তি দাম নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি গত দুই সপ্তাহে চিনির দামও কেজিতে ১০ থেকে ১৫ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে।
ক্রেতারা বলছেন, কিছু সবজির দাম কমলেও মাছ, মাংস, ডিম ও তেলের বাড়তি দামের কারণে সামগ্রিক বাজারের চাপে তাদের জীবনযাত্রা দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে।
অন্যদিকে বিক্রেতারা দাবি করছেন, পাইকারি বাজারে দাম বেশি থাকায় এবং সাপ্লাই চেইনে ঘাটতি থাকায় তারা কম দামে পণ্য বিক্রি করতে পারছেন না। সরবরাহ পুরোপুরি স্বাভাবিক না হলে বাজারের এই অস্থিরতা কাটবে না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








