স্টাফ রিপোর্টার || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১২:২৬, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বিদিশার সাজা বাতিল চেয়ে আপিল, জামিন নামঞ্জুর

বিদিশার সাজা বাতিল চেয়ে আপিল, জামিন নামঞ্জুর

বিদিশা সিদ্দিক। ছবি: সংগৃহীত

ফ্ল্যাট বিক্রি নিয়ে রাজধানীর গুলশান থানায় করা প্রতারণার মামলায় দুই বছরের কারাদণ্ডের বিরুদ্ধে আপিল করেছেন প্রয়াত সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সাবেক স্ত্রী বিদিশা সিদ্দিক। একই সঙ্গে আপিলের শর্তে জামিন চাইলেও তার আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) ঢাকা মহানগর দায়রা জজ মো. শাহজাহান কবির শুনানি শেষে জামিন আবেদন নাকচ করেন। ফলে আপাতত কারাগারেই থাকতে হচ্ছে বিদিশাকে বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবী।

আসামিপক্ষের আইনজীবী মো. মাহমুদুল কবির বলেন, আমরা সাজার বিরুদ্ধে আপিল করেছি। আদালত আপিলটি গ্রহণ করেছেন। একই সঙ্গে জামিনের আবেদন করা হয়েছিল। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তান থাকায় এবং তিনি একজন নারী- বিবেচনায় নিয়ে জামিন দেওয়ার আবেদন জানানো হয়। তবে জামিন না মঞ্জুর হওয়ায় এ আদেশের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

এর আগে গত ২০ মে এ মামলায় বিদিশাকে দুই বছরের কারাদণ্ড দেন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জামসেদ আলম। একই সঙ্গে তাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। জরিমানা অনাদায়ে আরও এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেন আদালত।

সাজা পরোয়ানার ভিত্তিতে গত ২৫ আগস্ট রাত সাড়ে ৮টার দিকে রাজধানীর একটি রেস্তোরাঁ থেকে বিদিশাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন তাকে জামিন না দিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত।

২০০৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে মামলাটি করেন মোশাররফ হোসেন নামে এক ব্যবসায়ী। মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০০১ সালে বারিধারার একটি ফ্ল্যাট কেনার জন্য বিদিশার সঙ্গে যোগাযোগ করেন তিনি। পরে বারিধারার প্রেসিডেন্ট পার্কের একটি ফ্ল্যাট ৮০ লাখ টাকায় বিক্রির বিষয়ে চুক্তি হয়।

অভিযোগে বলা হয়, ওই বছরের ১০ জুলাই বিদিশা বাদীকে বনানীর রজনীগন্ধা অফিসে ডেকে তার মনোনীত ব্যক্তি ও বন্ধু আব্দুল রাজ্জাকের নামে ৭৫ লাখ টাকার পে-অর্ডার দিতে বলেন। পরে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের কাওরান বাজার শাখার মাধ্যমে ওই অর্থ পরিশোধ করা হয় এবং উভয়ের মধ্যে বায়নানামা সম্পাদিত হয়।

চুক্তি অনুযায়ী, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নেওয়ার পর বাকি টাকা পরিশোধ করে ফ্ল্যাটটি রেজিস্ট্রি করে দেওয়ার কথা ছিল। ২০০২ সালের ১০ জুলাইয়ের মধ্যে ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেওয়ার কথা থাকলেও তা দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন বাদী।

পরে ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য চাপ দিলে বিদিশা টাকা ফেরত দেওয়ার আশ্বাস দেন। ২০০৫ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি তিনি ৭২ লাখ টাকার একটি চেক দেন। তবে ব্যাংকে জমা দেওয়ার পর পর্যাপ্ত অর্থ না থাকায় চেকটি ডিজঅনার হয়।

আরও পড়ুন: হামে শিশু মৃত্যু: ড. ইউনূসসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে হাইকোর্টের রুল

মামলার অভিযোগে আরও বলা হয়, এরপর বিভিন্ন অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করা হয় এবং টাকা বা ফ্ল্যাট কোনোটিই ফেরত দেওয়া হয়নি। টাকা বা ফ্ল্যাট ফেরত চাইলে সন্ত্রাসীদের দিয়ে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন বাদী। তার দাবি, বিদিশা তাকে জানিয়েছিলেন, সাবেক রাষ্ট্রপতি এরশাদের কাছ থেকে টাকা আদায় না হওয়া পর্যন্ত তাকে অপেক্ষা করতে হবে।

নিউজবাংলাদেশ.কম/এসবি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়