নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ২০:৩৮, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

চার শর্ত পূরণ ছাড়া কোনো সরকারি প্রকল্প নয়: অর্থমন্ত্রী

চার শর্ত পূরণ ছাড়া কোনো সরকারি প্রকল্প নয়: অর্থমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, সরকারি প্রকল্প অনুমোদনের ক্ষেত্রে সাধারণ করদাতাদের অর্থের সঠিক ব্যবহার ও প্রতিদান নিশ্চিত করা সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। বিনিয়োগ থেকে রিটার্ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং পরিবেশগত সুরক্ষা এই চারটি নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ না হলে কোনো প্রকল্প অনুমোদন করা হবে না। 

মঙ্গলবার (০১ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) ২৪তম বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা স্পষ্ট করে দেন।

চুয়েটের স্বাধীনতা চত্বর থেকে একটি আনন্দ র‌্যালির মাধ্যমে দিনব্যাপী কর্মসূচির সূচনা হয়। বেলা সোয়া ১২টার দিকে প্রধান অতিথি হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ে পৌঁছান অর্থমন্ত্রী। এ সময় তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান) আসনের সংসদ সদস্য গিয়াসউদ্দিন কাদের চৌধুরী এবং চট্টগ্রাম-2 আসনের সংসদ সদস্য সরোয়ার আলমগীরসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। পরে জাতীয় পতাকা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা উত্তোলন, স্মারক বৃক্ষরোপণ, চট্টগ্রাম ওয়াসার পানি সংযোগ লাইনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন এবং আলহাজ জসিম উদ্দিন ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে উপহার হিসেবে দেওয়া ছয়টি বাসের চাবি হস্তান্তর করা হয়। কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়ামে প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন ও আলোচনা সভার মধ্য দিয়ে প্রথম দিনের মূল আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, এগুলো সাধারণ মানুষের ঘাম ঝরানো করের টাকা, কোনো অবস্থাতেই এর অপচয় সহ্য করা হবে না। তিনি জানান, যেকোনো প্রকল্প তাঁর দপ্তরে আসার আগে চারটি মৌলিক শর্ত মানতে হবে:

অর্থের সঠিক মূল্য (Value for Money): ব্যয়ের বিপরীতে উপযুক্ত মান ও সুনির্দিষ্ট সুফল মিলছে কি না।

বিনিয়োগের রিটার্ন: নির্দিষ্ট প্রকল্পের মাধ্যমে অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে কী ধরনের প্রতিদান বা সুফল আসবে।

কর্মসংস্থান সৃষ্টি: প্রকল্পটি দেশের যুবসমাজ ও দক্ষ জনশক্তির জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করছে কি না।

পরিবেশগত সুরক্ষা: পরিবেশ ও প্রকৃতির ভারসাম্য বজায় রেখে প্রকল্পটি টেকসই হচ্ছে কি না।

আরও পড়ুন: অর্থনীতি স্থিতিশীল হলে ধীরে ধীরে গতি ফিরবে: অর্থমন্ত্রী

অর্থমন্ত্রী দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে বলেন, এই চার শর্ত পূরণ না হলে আমার কাছে কোনো প্রকল্প আনবেন না, আমি ফেরত পাঠিয়ে দেব।

বিশ্ববিদ্যালয়টির আইটি ইনকিউবেটার প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, প্রায় ২৪ বছর আগে বাণিজ্যমন্ত্রী থাকাকালে তিনি ঢাকায় প্রথম আইটি ইনকিউবেটার স্থাপন করেছিলেন। কিন্তু পরবর্তী সময়ে ধারাবাহিক তদারকি ও উদ্যোগের অভাবে সেখান থেকে পুরোপুরি সুফল পাওয়া যায়নি। চুয়েটেও আইসিটি খাতের উন্নয়নে বড় ধরনের অবকাঠামোগত বিনিয়োগ করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই বিনিয়োগ থেকে কাঙ্ক্ষিত আউটপুট বা ফলাফল আসছে কি না, তা গভীরভাবে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

ইনকিউবেটারের ব্যবস্থাপনার ত্রুটি তুলে ধরে তিনি বলেন, একটি প্রতিষ্ঠানের ওপর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, আইসিটি মন্ত্রণালয় এবং বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) যৌথ নিয়ন্ত্রণ থাকলে কাজের গতি কমে যায় এবং প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি হয়। যেহেতু আইটি ইনকিউবেটারটি সম্পূর্ণভাবে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরীণ বিষয়, তাই এর সার্বিক পরিচালনা ও ভবিষ্যৎ আউটপুট পরিকল্পনা চুয়েট কর্তৃপক্ষকেই করতে হবে। তিনি জানান, ঢাকায় ফিরে আইসিটি মন্ত্রণালয় এবং ইউজিসির সঙ্গে আলোচনা করে এই জটিলতার একটি স্থায়ী সমাধান করা হবে। এ সময় তিনি চুয়েট উপাচার্যের সুদূরপ্রসারী চিন্তা ও চ্যালেঞ্জ নেওয়ার মানসিকতার প্রশংসা করে বলেন, গতানুগতিক ধারার (Business-as-Usual) বাইরে গিয়ে কাজ করলে স্বল্প সময়েই বিশ্ববিদ্যালয়টিকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া সম্ভব।

অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রাম-6 আসনের সংসদ সদস্য গিয়াসউদ্দিন কাদের চৌধুরী বলেন, দেশের প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মেধা ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতাকে জাতীয় উন্নয়নে আরও নিবিড়ভাবে কাজে লাগাতে হবে। শিক্ষার্থীদের শুধু প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় সীমাবদ্ধ না রেখে খেলাধুলা, বিতর্ক এবং সহশিক্ষা কার্যক্রমে যুক্ত করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যৌথ গবেষণা বাড়ানোর ওপর জোর দেন তিনি।

চুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন মালয়েশিয়ার ইউনিভার্সিটি টেকনোলজি পেট্রোলিয়াসের (ইউটিপি) পেট্রোলিয়াম ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চেয়ারম্যান আইআর. ড. মোহাম্মদ আজুয়ান বিন মাওনসার। এ ছাড়াও অনুষ্ঠানে বিভিন্ন অনুষদের ডিন, রেজিস্ট্রার, বিভাগীয় প্রধান, শিক্ষক, কর্মকর্তা এবং শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য, বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উপলক্ষে আয়োজিত দুদিনব্যাপী এই উৎসবে এর আগে ক্লাব ফেস্ট ও জ্বালানি বিষয়ক বিশেষ বক্তৃতার আয়োজন করা হয়।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়