আদাবরে চাপাতিসহ ৬ ছিনতাইকারী গ্রেফতার
ছবি: সংগৃহীত
রাজধানীর আদাবর থানার বিভিন্ন এলাকায় সুনির্দিষ্ট গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পৃথক অভিযান চালিয়ে ৪টি ধারালো চাপাতিসহ সংঘবদ্ধ ছিনতাইকারী চক্রের ৬ জন পেশাদার সদস্যকে গ্রেফতার করেছে আদাবর থানা পুলিশ।
মঙ্গলবার (০১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) তেজগাঁও বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) মো. জুয়েল রানা গণমাধ্যমকে এই গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
আদাবর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জাহিদুল ইসলাম ও এসআই তরুণের নেতৃত্বে পরিচালিত ধারাবাহিক এই সফল অভিযানে ছিনতাইয়ের কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন অস্ত্র ও সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে পূর্বেও ছিনতাই, চুরি এবং বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের একাধিক মামলা রয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, আদাবর থানার একটি বিশেষ টিম গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আদাবরের শেখেরটেক ৭ নম্বর রোডের মাথায় ব্রিজসংলগ্ন প্রেম গলিতে অভিযান চালায়। ওই এলাকায় শামসুল মিয়ার মালিকানাধীন একটি রিকশার গ্যারেজে অভিযান পরিচালনা করে পুলিশ চক্রের ৫ জন সক্রিয় সদস্যকে হাতেনাতে আটক করে। এ সময় তাদের কাছ থেকে ৩টি ধারালো চাপাতি উদ্ধার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত এই পাঁচজন হলেন মিরাজুল ইসলাম (২৫), মো. নিহাদ (২০), মো. শেখ বাচ্চু (৩৫), মো. ফরিদুল ইসলাম (১৯) এবং মো. তামিম (১৯)। এদের মধ্যে চক্রের মূলহোতা কিংবা অন্যতম সদস্য মিরাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে পূর্বে বিভিন্ন থানায় মোট ৭টি মামলা বিচারাধীন বা রেকর্ডভুক্ত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, এই দলটি দীর্ঘদিন ধরে আদাবর এলাকার শেখেরটেক, বাইতুল আমান হাউজিং এবং বেড়িবাঁধ সংলগ্ন জনবহুল ও নির্জন রাস্তাগুলোতে সাধারণ পথচারী ও রিকশাযাত্রীদের টার্গেট করত। চাপাতির ভয় দেখিয়ে তারা অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে পথচারীদের নগদ টাকা, সর্বাধুনিক মোবাইল ফোন এবং মূল্যবান সামগ্রী ছিনিয়ে নিত।
আরও পড়ুন: রাজধানীতে জেনেভা ক্যাম্পের দুই শীর্ষ সন্ত্রাসীসহ আটক ১৫
এদিকে একই দিনে আদাবর থানার অপর একটি টিম সুনিবিড় হাউজিংয়ের আকন্দ গার্মেন্টস গলির পেছনের অংশে পৃথক আরেকটি অভিযান পরিচালনা করে। ওই অভিযান থেকে হৃদয় ওরফে টিকটক হৃদয় (২৫) নামের আরও এক দুর্ধর্ষ ছিনতাইকারীকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, টিকটক হৃদয়-এর বিরুদ্ধে রাজধানীর বিভিন্ন থানায় ১০টি মামলার এজাহারে সুনির্দিষ্ট নাম রয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে আদালত থেকে দুটি গ্রেফতারি পরোয়ানাও জারি করা হয়েছিল। এই অপরাধীর কাছ থেকেও পুলিশের একটি দল ১টি ধারালো চাপাতি উদ্ধার করে। টিকটক বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আড়ালে কিংবা নানা ছদ্মবেশে সে অপরাধ জগতের সাথে যুক্ত থেকে এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করত বলে গোয়েন্দা সূত্রে ধারণা করা হচ্ছে।
আদাবর থানা পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃত এই চক্রটি কেবল সাধারণ পথচারীদের সর্বস্ব লুটে নেওয়ার সাথেই জড়িত ছিল না, বরং তাদের অপরাধের পরিধি ছিল বেশ বিস্তৃত। এরা আদাবর ও এর আশপাশের বিভিন্ন আবাসিক বাসাবাড়িতে ঢুকে এসি স্থাপনে ব্যবহৃত কপার পাইপ বা তামার পাইপ এবং বৈদ্যুতিক তার চুরির মতো অপরাধেও জড়িত ছিল। এছাড়া বিভিন্ন রিকশার গ্যারেজ থেকে কৌশলে বা জোরপূর্বক রিকশা চুরি করে পরবর্তীতে গ্যারেজ মালিকদের নিকট থেকে মোটা অঙ্কের মুক্তিপণ বা চাঁদা আদায় করত।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, এই চক্রটির ভয়ে এলাকার সাধারণ মানুষ এবং ব্যবসায়ীরা প্রায়ই নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতেন।
ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের এডিসি মো. জুয়েল রানা জানান, রাজধানীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এবং সাধারণ মানুষের স্বস্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ডিএমপির তেজগাঁও জোনের প্রতিটি থানায় নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে আদাবর থানায় প্রচলিত আইনে পৃথক মামলা রুজু করা হয়েছে এবং তাদের আদালতে সোপর্দ করার প্রক্রিয়া চলছে। এছাড়া এই চক্রের সাথে অন্য কোনো গডফাদার বা অপরাধী চক্রের যোগসূত্র রয়েছে কি না, সে বিষয়েও রিমান্ডে এনে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। রাজধানীর নিরাপত্তা রক্ষায় অপরাধীদের বিরুদ্ধে এমন কঠোর আইনি ও সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগ।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








