রাজধানীতে জেনেভা ক্যাম্পের দুই শীর্ষ সন্ত্রাসীসহ আটক ১৫
ছবি: সংগৃহীত
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় রাতভর পৃথক অভিযান চালিয়ে জেনেভা ক্যাম্পের দুই শীর্ষ সন্ত্রাসী ও মাদক কারবারি মো. জাহিদ কাদেরী ওরফে মোল্লা জাহিদ এবং ইব্রাহিম সরকার ওরফে রাব্বিসহ ১৫ জনকে আটক করেছে র্যাব-২। অভিযানে বিদেশি পিস্তল, দেশীয় তৈরি ওয়ান শুটার গান, গুলি, সামুরাই ও চাপাতির পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ হেরোইন, ইয়াবা, গান পাউডার এবং একটি চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে।
র্যাবের তথ্য অনুযায়ী, গত সোমবার (৩১ আগস্ট) রাতে নিজস্ব গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে মোহাম্মদপুর, শেরেবাংলা নগর, তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল ও যাত্রাবাড়ী থানার বিভিন্ন এলাকায় একাধিক দল এসব অভিযান পরিচালনা করে।
মঙ্গলবার (০১ সেপ্টেম্বর) র্যাব-২-এর উপ-পরিচালক (মিডিয়া) মেজর এম মুবীন রহমান তাপস অভিযানের বিস্তারিত তথ্য জানান।
র্যাব-২ জানায়, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তারা জানতে পারে, মোহাম্মদপুরের বিভিন্ন এলাকায় অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী, মাদক কারবারি, কিশোর গ্যাংয়ের নেতৃত্বদানকারী এবং ছিনতাইকারী চক্রের সদস্যরা অবস্থান করছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে রাতভর একাধিক দল অভিযান শুরু করে। অভিযানের প্রথম পর্যায়ে মোহাম্মদপুর থানার বটতলা এলাকা থেকে জেনেভা ক্যাম্পের শীর্ষ সন্ত্রাসী ও মাদক কারবারি মো. জাহিদ কাদেরী ওরফে মোল্লা জাহিদকে আটক করা হয়। তার কাছ থেকে ৯০০ গ্রাম হেরোইন উদ্ধার করা হয়। র্যাবের ভাষ্য অনুযায়ী, জাহিদ কাদেরীর বিরুদ্ধে মোহাম্মদপুর থানায় মাদকসংক্রান্ত পাঁচটি মামলা রয়েছে।
একই রাতে মোহাম্মদপুরের লাউতলা এলাকায় অভিযান চালিয়ে জেনেভা ক্যাম্পের আরেক শীর্ষ সন্ত্রাসী ইব্রাহিম সরকার ওরফে রাব্বিকে (৩০) আটক করা হয়। তার কাছ থেকে একটি ৭.৬৫ বোরের বিদেশি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন এবং দুই রাউন্ড তাজা গুলি উদ্ধার করা হয়। র্যাব জানিয়েছে, ইব্রাহিম ওরফে রাব্বির বিরুদ্ধে দস্যুতার একটি মামলা রয়েছে। একই এলাকায় পৃথক অভিযানে কিশোর গ্যাং লিডার মো. রিয়াদ হোসেন ওরফে রজব আলী (২১) এবং মো. রমজান (২৪)-কে আটক করা হয়। রিয়াদের কাছ থেকে একটি চাপাতি এবং রমজানের কাছ থেকে একটি সামুরাই উদ্ধার করা হয়েছে।
র্যাবের তথ্যমতে, রিয়াদের বিরুদ্ধে দুটি মাদক মামলা রয়েছে এবং রমজানের বিরুদ্ধে দস্যুতা ও অস্ত্র আইনে তিনটি মামলা রয়েছে।
মোহাম্মদপুরের কিশলয় স্কুল এলাকায় অভিযান চালিয়ে ছিনতাইকারী মো. ইয়াসিন কবির ওরফে অয়নকে (২২) একটি চোরাই মোটরসাইকেলসহ আটক করা হয়। পরে সাত মসজিদ হাউজিং এলাকায় অভিযান চালিয়ে মো. নাজমুলকে (২৩) একটি সামুরাইসহ আটক করে র্যাব। লিমিটেড এলাকায় একাধিক মামলার আসামি মো. জুনায়েদকে (২৫), শিয়া মসজিদ এলাকায় মো. বাবুকে (৩০) এবং মা ও শিশু হাসপাতাল এলাকায় ছিনতাই মামলার আসামি মো. মাহবুবকে (৪৫) আটক করা হয়। একই অভিযানের সময় সাত মসজিদ হাউজিংয়ের জনতা বাজার এলাকায় পরিত্যক্ত অবস্থায় একটি দেশীয় তৈরি ওয়ান শুটার গান ও তিন রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়।
আরও পড়ুন: মোহাম্মদপুরে অস্ত্র ও মাদকসহ ৩ শীর্ষ সন্ত্রাসী গ্রেফতার
র্যাবের আরেকটি দল শেরেবাংলা নগর থানার তালতলা এলাকায় অভিযান চালিয়ে মো. মনির বেপারীকে (৪০) আটক করে।
র্যাব জানিয়েছে, তিনি পাঁচটি মাদক মামলায় সাজাপ্রাপ্ত এবং তার বিরুদ্ধে দুটি ওয়ারেন্ট রয়েছে। একই সময়ে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার রেলগেট এলাকায় অভিযান চালিয়ে পরিত্যক্ত অবস্থায় ৩৫০ গ্রাম হেরোইন ও ৮২০ গ্রাম গান পাউডার উদ্ধার করা হয়। ফলে পুরো অভিযানে উদ্ধার হওয়া হেরোইনের পরিমাণ দাঁড়ায় ১ হাজার ২৫০ গ্রাম।
এর বাইরে মোহাম্মদপুর থানার রায়েরবাজার বেড়িবাঁধের শুঁটকির আড়ৎ এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে ছিনতাইকারী চক্রের সক্রিয় সদস্য মো. শামীমকে (২৫) আটক করা হয়। তার কাছ থেকে একটি সামুরাই উদ্ধার করা হয়েছে। একই রাতে যাত্রাবাড়ী থানার মুক্তিযোদ্ধা রোড এলাকায় অভিযান চালিয়ে মো. জাকির হোসেন (৩৮), মো. রফিকুল ইসলাম সুমন (৪৫), সোলায়মান হোসেন রাজু ওরফে রাজিব (৩২) এবং মো. শফিকুর রহমানকে (৩৮) আটক করা হয়। তাদের কাছ থেকে এক হাজার ৫০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।
র্যাবের দাবি, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে মাহবুব, সোলায়মান রাজু, শফিকুর রহমান, রফিকুল ইসলাম ও জাকির হোসেনের বিরুদ্ধেও মাদক, চুরি, মারামারি, দাঙ্গা, ভয়ভীতি প্রদর্শনসহ বিভিন্ন অভিযোগে একাধিক মামলা রয়েছে।
র্যাব-২-এর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রাতভর পরিচালিত এসব অভিযানে মোট একজন বিদেশি অস্ত্রধারীসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ১৫ জনকে আটক করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে একটি ৭.৬৫ বোরের বিদেশি পিস্তল, একটি দেশীয় তৈরি ওয়ান শুটার গান, একটি ম্যাগাজিন, পাঁচ রাউন্ড তাজা গুলি, তিনটি সামুরাই, একটি চাপাতি, ১ হাজার ২৫০ গ্রাম হেরোইন, ৮২০ গ্রাম গান পাউডার, ১ হাজার ৫০ পিস ইয়াবা এবং একটি চোরাই মোটরসাইকেল। অর্থাৎ অভিযানে শুধু মাদক নয়, আগ্নেয়াস্ত্র, ধারালো অস্ত্র ও চোরাই যানবাহনও জব্দ করা হয়েছে।
র্যাব বলছে, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে কয়েকজনের বিরুদ্ধে আগে থেকেই মাদক, দস্যুতা, অস্ত্র, ছিনতাই ও অন্যান্য অপরাধে একাধিক মামলা রয়েছে। বিশেষ করে জাহিদ কাদেরী, ইব্রাহিম সরকার ওরফে রাব্বি, রিয়াদ, রমজান এবং মনির বেপারীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন মামলার তথ্য পাওয়া গেছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভাষ্য অনুযায়ী, রাজধানীর ঘনবসতিপূর্ণ এলাকাগুলোতে অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী, মাদক কারবারি ও ছিনতাইকারী চক্রের তৎপরতা ঠেকাতে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
র্যাব-২ জানিয়েছে, উদ্ধার করা অস্ত্র, মাদক ও অন্যান্য আলামত সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হবে এবং আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








