‘জাতিসংঘের আগে দিল্লি নয়, বোয়িং কেনায় চাপ নেই’
ছবি: সংগৃহীত
দিল্লিতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাদের যুক্ত করে আয়োজিত সেমিনারের অনুমতি না দেওয়ার ভারতীয় কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে ঢাকা। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। একই সঙ্গে তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর, সন্ত্রাস দমন এবং যুক্তরাষ্ট্র থেকে উড়োজাহাজ কেনা সংক্রান্ত নানা বিষয়ে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করেন।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে দুই দেশের মধ্যে পুনরায় আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে এখনো সফরটির কোনো নির্দিষ্ট তারিখ বা দিনক্ষণ চূড়ান্ত করা হয়নি। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের আসন্ন অধিবেশনের আগে প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের কোনো সম্ভাবনা নেই বলেও পরিষ্কার করেন তিনি। প্রতিমন্ত্রী বলেন, উপযুক্ত পরিবেশ, পারস্পরিক সম্মান, জাতীয় স্বার্থ এবং উভয় দেশের প্রধানমন্ত্রীর সময় ও উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে এই সফরের তারিখ নির্ধারিত হবে।
আলোচনা থমকে যাওয়ার কোনো কারণ নেই উল্লেখ করে হুমায়ুন কবির আরও বলেন, গত ৫ আগস্টের মতো ঘটনাগুলো বাংলাদেশের মানুষের অনুভূতিতে গভীরভাবে আঘাত হেনেছিল, যা ঢাকর পক্ষ থেকে নয়াদিল্লিকে অত্যন্ত স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে। সেই প্রেক্ষাপট ও অনুভূতির কথা মাথায় রেখেই এখন কূটনৈতিক আলোচনা এগিয়ে চলেছে।
গত ২৯ আগস্ট ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে ফরেন করেসপনডেন্টস ক্লাবে (এফসিসি) কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত বক্তাদের নিয়ে একটি আন্তর্জাতিক সেমিনারের আয়োজন করা হয়েছিল। দিল্লি পুলিশের হস্তক্ষেপে শেষ পর্যন্ত সেই সভার অনুমতি বাতিল করা হয়। এ প্রসঙ্গে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ভারত সরকারের এই সিদ্ধান্ত দুই দেশের সম্পর্কের বরফ গলাতে এবং পারস্পরিক সদিচ্ছা তৈরি করতে একটি ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। বাংলাদেশ আশা করে, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের স্বার্থে ভবিষ্যতেও এ ধরনের ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি বজায় থাকবে।
আরও পড়ুন: বাংলাদেশ ফার্স্ট নীতি মেনেই মক্কা চুক্তির বিষয়টি যাচাই করবে সরকার
প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে নিরাপত্তা ও সন্ত্রাস দমন সহযোগিতা নিয়ে কঠোর বার্তা দিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ভারত থেকে পালিয়ে যাওয়া কোনো দুষ্কৃতকারী বা সন্ত্রাসীকে বাংলাদেশে আশ্রয় দেওয়া হবে না। একইভাবে, বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে যাওয়া কোনো অপরাধী বা সন্ত্রাসী যেন ভারতের কোনো ভূখণ্ড বা সার্বভৌম এলাকায় আশ্রয় না পায়, সেই প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন তিনি।
যুক্তরাষ্ট্র বা অন্য কোনো মহলের অতিরিক্ত চাপে পড়ে ওয়াশিংটনের কাছ থেকে উড়োজাহাজ কেনা হচ্ছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জোরালো কণ্ঠে বলেন, এই চুক্তি সম্পূর্ণভাবে এভিয়েশন খাতের নিজস্ব চাহিদা ও বাস্তব সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার অংশ। যুক্তরাষ্ট্র ও বেইজিংয়ের সঙ্গে চমৎকার ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখে দেশ পরিচালিত হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি জানান, দেশটির সঙ্গে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানোর পাশাপাশি এভিয়েশন খাতের সক্ষমতা বহুগুণ বাড়ানো হচ্ছে।
প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, বাংলাদেশকে এশিয়ার অন্যতম প্রধান এভিয়েশন হাব বা বিমান চলাচলের কেন্দ্রে পরিণত করতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। আগামী ১০ থেকে ১৫ বছরে দেশের পতাকাবাহী বিমান সংস্থার জন্য ৭০ থেকে ৮০টি বা তারও বেশি উড়োজাহাজের চাহিদা রয়েছে। বিমান বহরের আকার না বাড়ালে নতুন আন্তর্জাতিক রুট চালু করা অসম্ভব হয়ে পড়বে এবং বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় ব্যবসা হারাতে হবে। ইথিওপিয়ান এয়ারলাইনসের মতো সফল বৈশ্বিক এয়ারলাইনসগুলোর উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও এভিয়েশন খাতের রাজস্ব আয়ে আধুনিক বহর সম্প্রসারণ এখন সময়ের দাবি।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








