নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৮:১৪, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ডেঙ্গুতে আরও ৫ মৃত্যু, আক্রান্ত ১১০০

ডেঙ্গুতে আরও ৫ মৃত্যু, আক্রান্ত ১১০০

ফাইল ছবি

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ডেঙ্গুর সংক্রমণ পরিস্থিতি দিন দিন আরও জটিল আকার ধারণ করছে। মশাবাহিত এই ভাইরাসের ভয়াবহতা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, চলতি বছরে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা একশ ছাড়িয়ে গেছে। 

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে প্রকাশিত ডেঙ্গু বিষয়ক সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরও পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ১১০ জন রোগী। এর মধ্য দিয়ে চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসের শুরুতেই ডেঙ্গু পরিস্থিতি এক চরম উদ্বেগজনক রূপ লাভ করেছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে বুধবার পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে মোট ১০৭ জনে। এর আগের দিনগুলোতেও মৃত্যুর ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। বিশেষ করে গত আগস্ট মাসজুড়েই ডেঙ্গুর সংক্রমণ ও মৃত্যু ছিল বেশ তীব্র। 

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মোট রোগীর সংখ্যা পৌঁছেছে ৩৮ হাজার ২৮০ জনে। দেশের বিভিন্ন হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে বর্তমানে চিকিৎসাধীন থাকা রোগীর সংখ্যাও হাজার ছাড়িয়ে গেছে, যার ফলে চিকিৎসাসেবায় বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে।

সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যুবরণকারী পাঁচজনের মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় দুজন, ময়মনসিংহ বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) দুজন এবং বরিশাল বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) একজন মারা গেছেন। 

আরও পড়ুন: ক্রমেই ভয়ংকর রূপ নিচ্ছে ডেঙ্গু পরিস্থিতি, একদিনে রেকর্ড ১,৩২৪

বিভাগভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, দেশের প্রায় প্রতিটি বিভাগেই ডেঙ্গুর বিস্তার ঘটেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় বরিশাল বিভাগে ১১০ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ১৭৫ জন, ঢাকা বিভাগে ১৭১ জন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ১৩৫ জন এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ১৩৪ জন নতুন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এছাড়া খুলনা বিভাগে ১৯০ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ৬৫ জন, রাজশাহী বিভাগে ৯১ জন, রংপুর বিভাগে ৩২ জন এবং সিলেট বিভাগে ৭ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছেন।

এদিকে বিশেষজ্ঞদের মতে, ডেঙ্গু আক্রান্ত ও মৃত্যুর পেছনে একটি বিশেষ বয়স ও শারীরিক প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। আক্রান্তদের একটি বড় অংশ তরুণ ও কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী হলেও, মৃত্যুর ঝুঁকিতে নারীরা কিছুটা এগিয়ে রয়েছেন। 
জনস্বাস্থ্যবিদ ও চিকিৎসকদের মতে, বর্ষার এই শেষভাগে থেমে থেমে বৃষ্টিপাত এবং জমে থাকা স্বচ্ছ পানি এডিস মশার প্রজননকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে। ঢাকার পাশাপাশি দেশের মফস্বল শহর ও গ্রামাঞ্চলেও এখন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হচ্ছেন, যা প্রমাণ করে যে ডেঙ্গু এখন আর শুধু রাজধানীমুখী নয়, বরং দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়েছে।

অন্যদিকে, ডেঙ্গুর প্রকোপ বৃদ্ধির পাশাপাশি রোগীদের সুস্থ হয়ে ওঠার হারও কিছুটা স্বস্তি দিচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশের বিভিন্ন হাসপাতাল থেকে ১ হাজার ৪৮ জন ডেঙ্গু রোগী সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। এ নিয়ে চলতি বছর মোট ৩৫ হাজার ৪৩৩ জন রোগী সফল চিকিৎসা শেষে ছাড়পত্র পেয়েছেন। 

তবে চিকিৎসকদের পরামর্শ হলো, সামান্য জ্বর বা ডেঙ্গুর উপসর্গ দেখা দিলে দেরি না করে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে এবং ডেঙ্গু পরীক্ষা করাতে হবে। পাশাপাশি বাসা-বাড়ি ও আশেপাশের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার মাধ্যমে এডিস মশার বংশবিস্তার রোধ করার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব আরোপ করা হচ্ছে।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়