নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৩:২৪, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

শেখ হাসিনা-বেনজীরসহ ৩০ পলাতককে আত্মসমর্পণের নির্দেশ

শেখ হাসিনা-বেনজীরসহ ৩০ পলাতককে আত্মসমর্পণের নির্দেশ

ফাইল ছবি

রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে ২০১৩ সালের ৫ মে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশ ঘিরে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ ও সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদসহ ৩০ পলাতক আসামিকে আগামী ১৬ সেপ্টেম্বরের মধ্যে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে আত্মসমর্পণের নির্দেশ জানিয়ে জাতীয় পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের আদেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল-২। 

বৃহস্পতিবার (০৩ সেপ্টেম্বর) প্রসিকিউশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন।

এদিন সকালে মামলায় গ্রেফতার আসামিদের ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। তবে অসুস্থতাজনিত কারণে সাংবাদিক ফারজানা রুপাকে আদালতে আনা হয়নি। হাজির করা আসামিদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক মন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, দীপু মনি, শামসুল হক টুকু, আবদুল লতিফ সিদ্দিকী, সাবেক আইজিপি এ কে এম শহীদুল হক, সাবেক র‍্যাব কর্মকর্তা জিয়াউল আহসান, সাবেক ডিআইজি আবদুল জলিল মণ্ডল, লেখক শাহরিয়ার কবির এবং সাংবাদিক মোজাম্মেল হক বাবু। তবে বিভিন্ন প্রতিবেদনে হাজির করা আসামির সংখ্যা ও তালিকায় সামান্য পার্থক্য রয়েছে; ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রমে ১০ আসামিকে হাজির করার কথা জানানো হয়েছে।

প্রসিকিউশনের আবেদনে বলা হয়, মামলায় পরোয়ানাভুক্ত ৩০ আসামির স্থায়ী ও অস্থায়ী ঠিকানায় গিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের খুঁজে পায়নি। তাদের বিষয়ে নন-এক্সিকিউশন রিপোর্ট বা এনইআর পাওয়ার পরবর্তী প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে আত্মসমর্পণের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের আবেদন করা হয়। শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনাল ১৬ সেপ্টেম্বরের মধ্যে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেন। এর আগে ১৬ আগস্ট মামলার আসামিদের হাজির করার কথা থাকলেও দুজনের বিরুদ্ধে প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট জারি না হওয়া এবং গ্রেফতারি পরোয়ানা কার্যকরের প্রতিবেদন না পাওয়ায় প্রসিকিউশন সময় চেয়েছিল। পরে ৩ সেপ্টেম্বর পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়।

মামলার পলাতক ৩০ আসামির মধ্যে শেখ হাসিনা ছাড়াও রয়েছেন তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীর, আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ, তৎকালীন তথ্যমন্ত্রী হাসান মাহমুদ, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক প্রতিমন্ত্রী মৃণাল কান্তি দাস, জাহাঙ্গীর কবির নানক, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া ও সাবেক যুবলীগ চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী। এ তালিকায় সাবেক আইজিপি হাসান মাহমুদ খন্দকার, সাবেক আইজিপি মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী, বেনজীর আহমেদ, তৎকালীন র‍্যাব মহাপরিচালক মো. মোখলেছুর রহমান, সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ এবং তৎকালীন র‍্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশনস) লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. মজিবুর রহমানসহ পুলিশের সাবেক ও তৎকালীন কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নামও রয়েছে।

আরও পড়ুন: সাদ্দাম-ইনানকে ফোনে হামলার নির্দেশ দেন ওবায়দুল কাদের

এর আগে গত ২৭ জুলাই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ শেখ হাসিনাসহ ৪১ আসামির বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের দাখিল করা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন। একই সঙ্গে পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি এবং কারাগারে থাকা আসামিদের ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ দেওয়া হয়। ওই আদেশের পর ১৬ আগস্ট শুনানির জন্য দিন ধার্য করা হয়েছিল। ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর সদস্য হিসেবে রয়েছেন।

মামলায় দুটি অভিযোগ আনা হয়েছে। প্রথম অভিযোগে ২০১৩ সালের ৫ মে ঢাকার মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশ ঘিরে ৩২ জনকে হত্যার ঘটনা উল্লেখ করা হয়েছে। দ্বিতীয় অভিযোগে ৬ মে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে ২০ জনসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের কথা বলা হয়েছে। 

প্রসিকিউশনের অভিযোগ, তৎকালীন সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের ব্যক্তিদের যোগসাজশে বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে রাতের আঁধারে অভিযান চালানো হয় এবং এর উদ্দেশ্য ছিল হেফাজতে ইসলামকে নির্মূল করা। তবে এসব অভিযোগ এখনো বিচারাধীন; ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অভিযোগের সত্যতা নির্ধারিত হবে।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, শাপলা চত্বরের ঘটনায় এ পর্যন্ত ৬১ জন নিহতের তালিকা পাওয়া গেছে এবং তাদের মধ্যে ৫৮ জনের পরিচয় শনাক্ত হয়েছে। এর আগে তদন্ত সংস্থা ৩২ জনের প্রাণহানির তথ্য জানিয়েছিল। তদন্ত শেষে ১৯ জুলাই খসড়া তদন্ত প্রতিবেদন প্রসিকিউশনের হাতে পৌঁছায়। ২০২৪ সালের ২০ আগস্ট শাপলা চত্বরের ঘটনা নিয়ে ট্রাইব্যুনালে একটি অভিযোগ জমা পড়ার পর তদন্ত শুরু হয়। ২০২৬ সালের জুলাইয়ে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিলের মধ্য দিয়ে মামলাটি বিচারিক পর্যায়ে এগিয়ে যায়।

মামলার গ্রেফতার আসামিদের মধ্যে সাবেক মন্ত্রী দীপু মনি, হাসানুল হক ইনু, শামসুল হক টুকু, আবদুল লতিফ সিদ্দিকী, সাবেক আইজিপি এ কে এম শহীদুল হক, সাবেক র‍্যাব কর্মকর্তা জিয়াউল আহসান, সাবেক ডিআইজি আবদুল জলিল মণ্ডল, লেখক শাহরিয়ার কবির, সাংবাদিক ফারজানা রুপা ও মোজাম্মেল হক বাবুর নাম রয়েছে। তাদের মধ্যে কয়েকজনকে বিভিন্ন সময়ে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে। অসুস্থতার কারণে ফারজানা রুপাকে ৩ সেপ্টেম্বর হাজির করা হয়নি।

চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, পলাতক আসামিদের দেশে ফেরাতে ইন্টারপোলের সহায়তা নেওয়া হবে। আত্মসমর্পণের জন্য পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশের পাশাপাশি তাদের বিরুদ্ধে জারি করা পরোয়ানা কার্যকরের প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে। ১৬ সেপ্টেম্বর মামলার পরবর্তী শুনানিতে পলাতক আসামিদের আত্মসমর্পণ, পরোয়ানা কার্যকর এবং মামলার পরবর্তী বিচারিক কার্যক্রম নিয়ে অগ্রগতি উপস্থাপনের কথা রয়েছে।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়