আন্তর্জাতিক ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১২:৫২, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
আপডেট: ১২:৫৩, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নেপালে এক বাড়ির ধ্বংসস্তূপ থেকে ২৪ মরদেহ উদ্ধার

নেপালে এক বাড়ির ধ্বংসস্তূপ থেকে ২৪ মরদেহ উদ্ধার

ছবি: সংগৃহীত

নেপাল ও চীনের তিব্বত সীমান্তবর্তী এলাকায় ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার পর উদ্ধার অভিযান যত এগোচ্ছে, ততই সামনে আসছে প্রাণহানির ভয়াবহ চিত্র। নেপালের বিদুর এলাকায় একটি বাড়ির ধ্বংসস্তূপ থেকে একসঙ্গে ২৪টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধারকারীদের আশঙ্কা, ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও মরদেহ চাপা পড়ে থাকতে পারে।

নেপালের পুলিশ সুপার বিপিন রেগমি জানান, বন্যাকবলিত বিদুর এলাকার ওই বাড়ি থেকে ২৪টি মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। তবে ধ্বংসস্তূপ পুরোপুরি সরানো সম্ভব না হওয়ায় সেখানে আরও মরদেহ থাকার আশঙ্কা রয়েছে।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে ওই এলাকায় নতুন করে উদ্ধার অভিযান চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানান তিনি।

বেত্রাবতী পৌরসভার কর্মকর্তা মঙ্গল তামাং জানান, উদ্ধার হওয়া মরদেহগুলোর মধ্যে একটি শিশুর এবং বাকিগুলো প্রাপ্তবয়স্কদের। এরই মধ্যে ছয়টি মরদেহ হেলিকপ্টারে করে রাজধানী কাঠমান্ডুতে পাঠানো হয়েছে। বাকি মরদেহগুলো আপাতত ঘটনাস্থলে রাখা হয়েছে। পরে সেগুলোও রাজধানীতে নেওয়া হবে।

উদ্ধার অভিযান আরও বিস্তৃত করার পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তামাং বলেন, ওই বাড়ির পাশাপাশি আশপাশের এলাকাতেও আবার তল্লাশি চালানো হবে। এতে নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধান পাওয়ার আশা করছেন উদ্ধারকারীরা।

এদিকে, নেপাল ও চীনের তিব্বত সীমান্তবর্তী এলাকায় ভয়াবহ বন্যায় দুই দেশে মৃতের সংখ্যা ৯৫০ ছাড়িয়েছে। নেপালের জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে অন্তত ৯৩৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। অন্যদিকে, চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভির তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে অন্তত ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে।

প্রাণহানির পাশাপাশি নিখোঁজ মানুষের সংখ্যাও উদ্বেগজনক। নেপালে প্রায় ৩ হাজার ৯২৫ জন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ। চীনে নিখোঁজ রয়েছেন অন্তত ৫৪৬ জন।

ঘটনাস্থলে থাকা সিএনএনের সাংবাদিক অ্যান্ডারসন কুপার বন্যার পানির প্রবল স্রোতকে তরল সিমেন্টের সঙ্গে তুলনা করেছেন। প্রবল স্রোত, কাদামাটি ও ধ্বংসস্তূপের কারণে উদ্ধারকাজও কঠিন হয়ে পড়েছে।

আরও পড়ুন: ইরাককে ৮০ কোটি ডলারের হেলিকপ্টার দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

মরদেহ উদ্ধারের সংখ্যা বাড়ার পাশাপাশি এখন সবচেয়ে বড় উদ্বেগ হয়ে দাঁড়িয়েছে নিখোঁজ হাজারো মানুষকে দ্রুত খুঁজে বের করা। উদ্ধার অভিযান যত এগোবে, ভয়াবহ এই দুর্যোগে প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত চিত্র আরও স্পষ্ট হয়ে উঠবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

নিউজবাংলাদেশ.কম/এসবি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়