নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৩:০৬, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

‘সংখ্যালঘু কিংবা সংখ্যাগুরু নয়, আমরা সবাই বাংলাদেশী’

‘সংখ্যালঘু কিংবা সংখ্যাগুরু নয়, আমরা সবাই বাংলাদেশী’

ছবি: সংগৃহীত

সংখ্যালঘু কিংবা সংখ্যাগুরু এই বিভাজক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে দেশের প্রতিটি নাগরিককে বাংলাদেশি হিসেবে পরিচয় দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। 

তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, বর্তমান গ্লোবাল ভিলেজে বা বিশ্বায়নের যুগে এসব কৃত্রিম পরিচয় কোনো মুখ্য বিষয় নয়। রাষ্ট্র ও সমাজে ধর্ম, বর্ণ, দল কিংবা মতের পরিচয় যেন কোনোভাবেই বিভেদ ও বৈষম্যের কারণ হয়ে না দাঁড়ায়। সবার পরিচয় একটাই আমরা সবাই বাংলাদেশি।

বৃহস্পতিবার (০৩ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে শুভ জন্মাষ্টমী উপলক্ষে সনাতন ধর্মাবলম্বী বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, পুরোহিত ও সেবায়েতদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় এবং সম্মানী ভাতা বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। 

ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত ধর্মীয় গুরু, বিশিষ্ট নাগরিক ও সনাতন সম্প্রদায়ের শীর্ষস্থানীয় প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

অনুষ্ঠানে হিন্দু ধর্মীয় শাস্ত্রের অবতার শ্রীকৃষ্ণের আবির্ভাব এবং অত্যাচারী শাসক কংস বধের ইতিহাস তুলে ধরে বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের সঙ্গে তুলনা করেন প্রধানমন্ত্রী। 

তিনি বলেন, শ্রীকৃষ্ণের অন্যতম ব্রত ছিল দুষ্টের দমন ও শিষ্টের পালন। ঠিক তেমনিভাবে দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে জনগণের সব মৌলিক অধিকার কেড়ে নিয়ে কংসের মতো এক নিষ্ঠুর ফ্যাসিস্ট শাসক এ দেশের মানুষের কাঁধে চেপে বসেছিল। হাজারো ছাত্র-জনতার প্রাণের বিনিময়ে সেই ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান ঘটিয়ে দেশে আবারও গণতন্ত্রের যাত্রা শুরু হয়েছে।

ভঙ্গুর অর্থনীতি, বিভাজিত প্রশাসন এবং অবনতিশীল আইনশৃঙ্খলার দ্রুত উন্নতি ঘটিয়ে এখন দেশ পুনর্গঠনের সুবর্ণ সময় চলছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি বৈচিত্র্যময় সমাজে বিভিন্ন ধর্ম ও মতের মানুষের সহাবস্থানই মূল সৌন্দর্য। 

স্বাধীনতার ঘোষকের রাজনৈতিক দর্শন বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ-এর কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, এই দর্শনের মূল কথাই হলো সব নাগরিককে একটি অভিন্ন পরিচয়ে গেঁথে রাখা, যাতে কোনো বৈষম্য বা বিভেদ সমাজকে বিভক্ত করতে না পারে।

আরও পড়ুন: জন্মাষ্টমী উপলক্ষে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছা বিনিময়

দেশকে অস্থিতিশীল করার যেকোনো চক্রান্তের বিরুদ্ধে দেশবাসীকে সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়ে সরকারপ্রধান বলেন, একটি স্বার্থান্বেষী মহল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে নানা ধরনের গুজব ও সাম্প্রদায়িক উসকানি ছড়ানোর অপচেষ্টা চালাচ্ছে। সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষের মাধ্যমে যাতে কেউ দেশে কোনো ধরনের সামাজিক অস্থিরতা বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সর্বোচ্চ সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে। প্রতিটি নাগরিকের জানমালের নিরাপত্তা বিধানে বর্তমান সরকার কঠোরভাবে অঙ্গীকারবদ্ধ।

সমৃদ্ধ ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্র ও সমাজের মূলধারায় নাগরিকদের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নেই বর্তমান সরকার ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, স্পোর্টস কার্ড এবং সব ধর্মের ধর্মীয় গুরু ও পুরোহিতদের জন্য সম্মানী ভাতাসহ নানা জনকল্যাণমুখী উদ্যোগ গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, সরকার এমন একটি কল্যাণমূলক রাষ্ট্র ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায়, যেখানে রাষ্ট্র তার সাধ্য ও সামর্থ্য অনুযায়ী ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে প্রতিটি নাগরিকের প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করবে এবং নাগরিকরাও রাষ্ট্রের প্রতি নিজেদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করবে। ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার ধর্ম যার যার, নিরাপত্তা পাওয়ার অধিকার সবার এই নীতিতে বিশ্বাসী হয়ে সরকার কাজ করছে বলে তিনি জানান।

অনুষ্ঠানের শুরুতে জন্মাষ্টমীর শুভেচ্ছা জানানোর পাশাপাশি আসন্ন দুর্গাপূজারও আগাম শুভেচ্ছা জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, দেশের প্রতিটি নাগরিকের নিজ নিজ ধর্মীয় বিশ্বাস ও সংস্কৃতি অনুযায়ী স্বাধীনভাবে জীবনযাপনের সাংবিধানিক অধিকার রয়েছে। ধর্মীয় সম্প্রীতি, সহনশীলতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ বজায় রেখে সবাই যেন শান্তিতে, স্বস্তিতে ও নিরাপত্তার সঙ্গে সব ধর্মীয় উৎসব পালন করতে পারেন, সে আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী নিজ হাতে ৯ জন পুরোহিত ও সেবায়েতের হাতে সম্মানী ভাতার অর্থ তুলে দেন। এ সময় রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশের মোট ৭৩ জন পুরোহিত ও সেবায়েতকে এই সম্মানী প্রদান করা হয়।

এর আগে সকালে সচিবালয় থেকে হেঁটে সরাসরি ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রটোকল ভেঙে প্রধানমন্ত্রীর এই সাধারণ চলাচলের সময় রাস্তার দুই পাশে থাকা সাধারণ পথচারীরা হাত নেড়ে তাকে শুভেচ্ছা জানান, এবং সরকারপ্রধানও তাঁদের প্রতি হাসিমুখে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। এ ছাড়াও মঞ্চে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন (কায়কোবাদ), প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ শামীম কায়সার এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জবিউল্লাহসহ সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়