নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৪:০০, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

এস আলমের ৮১.৯২ শতাংশ শেয়ার ফ্রিজের নির্দেশ হাইকোর্টের

এস আলমের ৮১.৯২ শতাংশ শেয়ার ফ্রিজের নির্দেশ হাইকোর্টের

ফাইল ছবি

দেশের শরীআহ ভিত্তিক শীর্ষস্থানীয় আর্থিক প্রতিষ্ঠান ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি-তে বিতর্কিত এস আলম গ্রুপের নিয়ন্ত্রণাধীন বিশাল অঙ্কের শেয়ার অবরুদ্ধ বা ফ্রিজ করার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। ইসলামী ইকোনমিক রিসার্চ ব্যুরোর করা একটি রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি ও আইনগত পর্যালোচনার পর বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ এই গুরুত্বপূর্ণ বিচার বিভাগীয় আদেশ প্রদান করেন। 

বৃহস্পতিবার (০৩ সেপ্টেম্বর) এই আদেশের লিখিত অনুলিপি প্রকাশিত হওয়ার পর শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন রিটকারী পক্ষের আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। আদালতের এই নির্দেশ দেশের ব্যাংক ও আর্থিক খাতের শৃঙ্খলা ফেরানোর প্রক্রিয়ায় একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

আদালতে দাখিল করা রিট আবেদনে আইনি দিক তুলে ধরে বলা হয় যে, দেশের প্রচলিত ব্যাংকিং আইন ও কোম্পানি আইন অনুযায়ী কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি, একই গ্রুপভুক্ত প্রতিষ্ঠান কিংবা পরিবারের হাতে ব্যাংকের মোট শেয়ারের ১০ শতাংশের বেশি রাখার কোনো সুযোগ নেই। অথচ ব্যাংক খাতের নিয়মনীতিকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে এস আলম গ্রুপ ও তাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ২৪টি প্রতিষ্ঠান ব্যাংকটিতে প্রাতিষ্ঠানিক শেয়ারহোল্ডার হিসেবে নিজেদের অবস্থান শক্ত করে। পরবর্তীতে বিভিন্ন উপায়ে ব্যাংকটির সিংহভাগ নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে তুলে নেয় এই গ্রুপটি, যার পরিমাণ দাঁড়ায় মোট শেয়ারের ৮১ দশমিক ৯২ শতাংশ। আইনের এই স্পষ্ট লঙ্ঘন এবং ব্যাংক দখলের পেছনের অনিয়ম খতিয়ে দেখতেই মূলত রিটটি দায়ের করা হয়েছিল।

আরও পড়ুন: শেখ হাসিনা-বেনজীরসহ ৩০ পলাতককে আত্মসমর্পণের নির্দেশ

আইনজীবী শিশির মনির জানান, এর আগেও এস আলম গ্রুপের আর্থিক অনিয়ম ও ব্যাংক দখলের ঘটনায় কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছিল উচ্চ আদালত। গত বছর ইসলামী ব্যাংকে এস আলম-সংশ্লিষ্ট ওই ২৪টি প্রাতিষ্ঠানিক শেয়ারহোল্ডার প্রতিষ্ঠান, ব্যাংকের বিভিন্ন পর্ষদে থাকা সংশ্লিষ্ট পরিচালক এবং নির্দিষ্ট ব্যক্তিবিশেষের ব্যাংক হিসাব ফ্রিজ বা অবরুদ্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে ব্যাংকটির বিতর্কিত এসব শেয়ারহোল্ডার ও পরিচালকদের আদালতের সুনির্দিষ্ট অনুমতি ছাড়া দেশত্যাগের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছিল, যাতে তারা ব্যাংক লুটের পর বা দায় এড়াতে দেশত্যাগ করতে না পারেন।

বিশ্লেষকদের মতে, ইসলামী ব্যাংক দখলের পর এস আলম গ্রুপ ব্যাংকটির অর্থ বিভিন্ন বেনামি কোম্পানির মাধ্যমে বের করে নেয়, যার ফলে দেশের পুরো ব্যাংকিং খাতে এক ধরনের তারল্য সংকট ও আস্থার ঘাটতি তৈরি হয়। বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে এস আলম গ্রুপের বিরুদ্ধে চলা আইনি পদক্ষেপে এই নতুন রায় যুক্ত হওয়ায় ব্যাংকটির ওপর তাদের একচ্ছত্র মালিকানা ও নিয়ন্ত্রণ আরও বেশি আইনি সংকটের মুখে পড়ল। রিটের চূড়ান্ত শুনানি ও পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ব্যাংকটির সাধারণ শেয়ারহোল্ডার ও প্রকৃত আমানতকারীদের স্বার্থ সুরক্ষিত হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়