ডেঙ্গুতে একদিনে আক্রান্ত ১১৬৩, মৃত্যু ৪
ফাইল ছবি
বাংলাদেশে মশাবাহিত ডেঙ্গু জ্বরের প্রকোপ আশঙ্কাজনকহারে বৃদ্ধি পেয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ডেঙ্গু পরিস্থিতির অবনতি ঘটে চলতি বছরের এখন পর্যন্ত একদিনে সর্বোচ্চ মৃত্যুর ও নতুন রোগী শনাক্তের নতুন রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে।
সোমবার (৩১ আগস্ট) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে প্রকাশিত সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে চারজনের মৃত্যু হয়েছে, যা চলতি বছরের এক দিনে সর্বোচ্চ মৃত্যুর রেকর্ড। একই সময়ে নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এক হাজার ১৬৩ জন রোগী, যা একদিনে সর্বোচ্চ আক্রান্তের নতুন মাইলফলক।
প্রকাশিত এই পরিসংখ্যানের মধ্য দিয়ে চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মোট মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯৭ জনে। এর আগের দিন রোববার (৩০ আগস্ট) পর্যন্ত ডেঙ্গুতে প্রাণ হারিয়েছিলেন ৯৩ জন এবং একদিনে মৃত্যুর সংখ্যা ছিল তিনজন। ফলে সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসেই মৃত্যুর গ্রাফ আরও ঊর্ধ্বমুখী হলো।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, চলতি বছরের শুরু থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মোট হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৫ হাজার ৮৪৬ জনে। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ৩৩ হাজার ২০৫ জন। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালগুলোতে হাজার হাজার রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন, যা চিকিৎসা ব্যবস্থার ওপরও বাড়তি চাপ তৈরি করছে।
আরও পড়ুন: এক দিনে ডেঙ্গুতে মৃত্যু ৩, হাসপাতালে ভর্তি ১,০৯৭
বিশেষজ্ঞ কীটতত্ত্ববিদ ও চিকিৎসকদের মতে, ডেঙ্গুর এই তীব্র সংক্রমণের পেছনে জলবায়ু পরিবর্তন, অবিরাম বর্ষণ এবং চারপাশের জমে থাকা পরিষ্কার পানি দায়ী। একসময় এডিস মশার প্রাদুর্ভাব মূলত শহরকেন্দ্রিক বা রাজধানী সীমাবদ্ধ থাকলেও, বর্তমান নগরায়ণের বিস্তার ও সচেতনতার অভাবে এটি এখন দেশের বিভিন্ন গ্রামাঞ্চল ও মফস্বল এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে। বাড়ির আশপাশে বা বিভিন্ন পাত্রে জমে থাকা বৃষ্টির পানি, ডাবের খোসা, অব্যবহৃত টায়ার কিংবা প্লাস্টিকের বোতলে সহজেই এডিস মশার বংশবিস্তার ঘটছে। আক্রান্ত রোগীদের পরিসংখ্যানে আরও দেখা যায় যে, চলতি বছর ডেঙ্গুতে আক্রান্তদের বড় একটি অংশ পুরুষ, যা প্রায় ৬১.৯ শতাংশ এবং নারী আক্রান্তের হার ৩৮.১ শতাংশ।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও স্থানীয় প্রশাসন দেশের বিভিন্ন স্থানে সচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার করেছে। বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠনের উদ্যোগে লিফলেট বিতরণসহ মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করার আহ্বান জানানো হচ্ছে।
তবে চিকিৎসকরা বলছেন, শুধুমাত্র প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে আরও বেশি দায়িত্বশীল হতে হবে। বিশেষ করে জ্বর দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া এবং ডেঙ্গুর প্রাথমিক লক্ষণ শনাক্ত করে চিকিৎসা শুরু করা অত্যন্ত জরুরি, অন্যথায় এ পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








