কক্সবাজার সংবাদদাতা || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৭:০১, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কক্সবাজারে বালিয়াড়িতে ৮ সপ্তাহ নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ

কক্সবাজারে বালিয়াড়িতে ৮ সপ্তাহ নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ

ছবি: সংগৃহীত

কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের বালিয়াড়িতে নির্মাণকাজ আট সপ্তাহ বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। এ কাজের পরিপ্রেক্ষিতে কক্সবাজার জেলা প্রশাসক, প্রকল্প পরিচালকসহ মোট চারজনের বিরুদ্ধে আদালতের রায় অমান্য করার অভিযোগে আদালত অবমাননার মামলা এবং পরিবেশবাদী সংগঠন বেলার দায়ের করা রিট পিটিশনের শুনানি শেষে আদালত রুল জারি করেছেন।

এ ছাড়াও, আদালত অবমাননার মামলাটি আট সপ্তাহের জন্য মুলতবি করা হয়েছে।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি জেবিএম হাসান এবং বিচারপতি আজিজ আহমেদ ভুঁইয়ার আদালতে মামলাটির শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, আদালতের রায় অমান্য করে বালিয়াড়িতে নির্মাণ কাজের সংবাদ মিডিয়ায় প্রকাশিত হলে জনস্বার্থে হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ (এইচআরপিবি) একটি আদালত অবমাননার মামলা করে এবং বেলার পক্ষ থেকে উক্ত প্রজেক্ট এর কার্যক্রম বন্ধ করার নির্দেশনা চেয়ে একটি রিট পিটিশন করা হয়।

জনস্বার্থে এইচআরপিবির দায়ের করা রিট পিটিশনে ইতোপূর্বে হাইকোর্ট ডিভিশন রুল জারি করে এবং শুনানি শেষে ২০১১ সালে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য বজায় রাখা এবং বালিয়াড়িতে নির্মাণকৃত সকল স্থাপনা অপসারণের নির্দেশ দেন আদালত। আদালতের নির্দেশনা অনুসারে ইতোপূর্বে দুইবার বালিয়াড়িতে স্থাপিত বিভিন্ন স্থাপনা আদালতের নির্দেশে উচ্ছেদ করা হয়। তা সত্ত্বেও কক্সবাজার পৌরসভা একটি প্রজেক্ট গ্রহণ করে বালিয়াড়ির ভেতর দিয়ে রাস্তা নির্মাণের প্রকল্প গ্রহণ করে।

আরও পড়ুন: সুন্দরবনে তিন দিনের অভিযানে ৫৯টি অস্ত্র, গুলি, ওয়াকিটকি উদ্ধার

আদালতে বেলার পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট মিনহাজুল হক চৌধুরী। তিনি বলেন, কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত এলাকাটি ইকোলজিকাল ক্রিটিকাল এরিয়া (ইসিএ) এলাকার অন্তর্ভুক্ত। এখানে কাজের আগে পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র প্রয়োজন হয়। কিন্তু যারা এই নির্মাণ কাজ করছেন, তারা শুধুমাত্র ভূমি ব্যবহারের অনুমতি নিয়েছেন এবং কাজ শুরু করেছেন যেটা সম্পূর্ণ অবৈধ।

তিনি আরও বলেন, সমুদ্র সৈকতের ৩০০ মিটার পর্যন্ত কোনো ধরনের নির্মাণ কাজ নিষিদ্ধে আইন থাকা সত্ত্বেও পৌরসভা তা অমান্য করে নির্মাণ কাজ শুরু করছে।

শুনানিতে এইচআরপিবির পক্ষের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ বলেন, ২০১০ সালে যখন সমুদ্র সৈকত দখল করে বিভিন্ন স্থাপনা তৈরি হচ্ছিল, তখন জনস্বার্থে বিবেচনা করে এইচআরপিবির পক্ষে রিট পিটিশন করে সমুদ্র সৈকত সুরক্ষার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছিল। শুনানি শেষে সৈকতের প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য বজায় রাখতে বালিয়াড়িতে স্থাপিত সকল স্থাপনা অপসারণের নির্দেশ দেন আদালত। দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে নির্দেশনা বাস্তবায়িত হয়। বর্তমানে কক্সবাজার পৌরসভার উদ্যোগে সমুদ্র সৈকতের বালিয়াড়ির ভেতরে রাস্তা নির্মাণ করে সৈকতের প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য ধ্বংস করছে যা আদালত অবমাননার শামিল।

সরকার পক্ষের ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নূর মোহাম্মদ আজমী বলেন, কক্সবাজারের উন্নয়নের জন্য প্রকল্প তৈরি করে সরকারের অনুমতি নিয়ে রাস্তা নির্মাণ করা হচ্ছে জনগণের চলাচলের স্বার্থে। উক্ত মামলায় অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল আজ শুনানিতে অংশগ্রহণ করেন এবং অন্তর্বর্তীকালীন যেকোনো আদেশ না দেওয়ার প্রার্থনা জানান।

আদালত অবমাননা পিটিশনের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। তাকে সহায়তা করেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ সারোয়ার আহাদ চৌধুরী, অ্যাডভোকেট জাহিদুল হক, অ্যাডভোকেট সঞ্জয় মণ্ডল এবং অ্যাডভোকেট নাসরিন সুলতানা।

বেলার পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট মিনহাজুল হক চৌধুরী। সরকার পক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল এবং ডিএজি নূর মোহাম্মদ আজমী।

নিউজবাংলাদেশ.কম/এনডি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়