নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৭:৫৭, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সয়াবিন তেলের দাম লিটারে বাড়ল ৫ টাকা

সয়াবিন তেলের দাম লিটারে বাড়ল ৫ টাকা

ফাইল ছবি

দেশের বাজারে আবারও ভোজ্যতেলের দামে ঊর্ধ্বগতি দেখা দিয়েছে। ব্যবসায়ীদের দাবির প্রেক্ষিতে এবং আন্তর্জাতিক বাজারের সাথে সামঞ্জস্য রেখে বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম লিটারপ্রতি ৫ টাকা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। 

নতুন নির্ধারিত মূল্য অনুযায়ী, এখন থেকে প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেল কিনতে ভোক্তাকে গুনতে হবে ২০৪ টাকা, যা এতদিন ১৯৯ টাকায় বিক্রি হচ্ছিল। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, খোলা সয়াবিন তেল এবং পাম অয়েলের দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।

বুধবার (০২ সেপ্টেম্বর) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের কক্ষে ভোজ্যতেল পরিশোধন কারখানার মালিক ও আমদানিকারকদের সঙ্গে এক উচ্চপর্যায় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। 

ওই বৈঠকে সার্বিক বাজার পরিস্থিতি পর্যালোচনা শেষে এই দাম বাড়ানোর অনুমোদন দেওয়া হয়। পরে সচিবালয়ে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে বাণিজ্য সচিব মো. আতাউর রহমান খান সাংবাদিকদের আনুষ্ঠানিকভাবে এই তথ্য জানান।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, আন্তর্জাতিক বাজারে ভোজ্যতেলের কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধি এবং পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধির কারণ দেখিয়ে ভোজ্যতেল পরিশোধনকারী মিল মালিকরা শুরু থেকেই লিটারে ১০ টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তবে মন্ত্রণালয় সার্বিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে এবং সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার কথা বিবেচনা করে ১০ টাকার পরিবর্তে ৫ টাকা দাম বাড়ানোর অনুমোদন দেয়।

আরও পড়ুন: ১৩ টাকা কমলো ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম

সংবাদ সম্মেলনে বাণিজ্য সচিব মো. আতাউর রহমান খান বলেন, দেশের চাহিদার সিংহভাগ সয়াবিন তেলই আমদানিনির্ভর। আন্তর্জাতিক বাজারে সয়াবিন ও সংশ্লিষ্ট কাঁচামালের দাম বাড়লে সরাসরি দেশের আমদানি ব্যয়ের ওপর এর চাপ পড়ে। তাছাড়া ক্রমবর্ধমান পরিবহন ব্যয়ও দাম সমন্বয়ের ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলেছে। 

তবে তিনি স্পষ্ট করে জানান যে, বাজারে বর্তমানে ভোজ্যতেলের কোনো কৃত্রিম সংকট বা ঘাটতি নেই। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং সরবরাহ চেইন সচল রাখতে সরকার ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা করেই এই বাস্তবসম্মত মূল্য সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।  

ভোজ্যতেল বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য। ফলে সয়াবিন তেলের দাম বাড়ার এই খবর সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন পারিবারিক খরচে বাড়তি চাপ তৈরি করবে। বিশেষ করে দেশের নিম্ন ও মধ্যম আয়ের শ্রমজীবী মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়ে এর বিরূপ প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করছেন অর্থনীতিবিদ ও সংশ্লিষ্টরা।

সম্প্রতি সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন বেতনকাঠামো অনুমোদন এবং চিনির দাম বাড়ার রেশ কাটতে না কাটতেই ভোজ্যতেলের দাম বৃদ্ধির ঘটনা ঘটল। এর ফলে সার্বিক মূল্যস্ফীতির ওপর কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্য সচিব বলেন, কিছুটা প্রভাব পড়ার আশঙ্কা থেকেই যায়। তবে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং বাজারদর সহনীয় রাখতে সরকার ইতিমধ্যে নানামুখী কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

এর আগে চলতি বছরের ২৬ এপ্রিল দেশের বাজারে সয়াবিন তেলের দাম সর্বশেষ সমন্বয় করা হয়েছিল। সে সময় প্রতি লিটারে ৪ টাকা বাড়িয়ে বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম ১৯৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৯৯ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। দীর্ঘ কয়েকমাস ওই দামে বিক্রির পর নতুন করে আবারও দাম বৃদ্ধির ফলে সাধারণ ভোক্তাদের পকেট থেকে প্রতি লিটারে অতিরিক্ত ৫ টাকা বেশি খরচ করতে হবে।

এদিকে খুচরা বাজারে নতুন এই দাম দ্রুত কার্যকর হতে শুরু করলেও অনেক ক্ষেত্রে বিক্রেতাদের কাছে আগের পুরোনো দামের বোতলও মজুত থাকতে পারে। তাই বাজার মনিটরিং জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন সাধারণ ক্রেতারা, যাতে কেউ অতিরিক্ত সুযোগ নিতে না পারে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, আসন্ন পবিত্র রমজান মাসের বাজার পরিস্থিতির ওপর নজর রেখে পরবর্তীতে প্রয়োজন সাপেক্ষে আবারও বাজারমূল্য পর্যালোচনা করা হবে।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়