সুন্দরবনে তিন দিনের অভিযানে ৫৯টি অস্ত্র, গুলি, ওয়াকিটকি উদ্ধার
ছবি: নিউজবাংলাদেশ
হেরিটেজ খ্যাত সুন্দরবনে টানা তিন দিনের অভিযানে বিদেশী সহ ৫৯ অস্ত্র গুলি ওয়াকিটকি উদ্ধার করেছে র্যাব ।
বুধবার দুপুরে র্যাব-৬ সদর দপ্তরে সংবাদ সম্মেলন করে এই তথ্য জানান র্যাব মহাপরিচালক আহসান হাবিব পলাশ। র্যাবের অস্ত্র উদ্ধারে স্মরণকালের এই সফলতা দেখেতে মহাপরিচালক ঢাকা হতে আজই খুলনা এসেছেন। তার আগে ৫৯ জন বন দস্যু র্যাবের কাছে আত্নসমর্পণ করেছিল।
তিনি সাংবাদিকদের জানান, গোয়েন্দা তথ্যর ভিত্তিতে গত তিন দিন টানা অভিযানের পর এই ৫৯টি অস্ত্র গুলি উদ্ধার করা হয়। এই অস্ত্রর মধ্যে চারটি বিদেশি শটগান, ৪৭টি ওয়ান সুটার গান, ৪টি পাইপগান, ৩টি এয়ার গান, ১টি পয়েন্ট ২২ বোর রাইফেল ও ৭টি ওয়াকিটকি। সর্বমোট ৫৯টি অস্ত্র ও ৫৪১ রাউন্ড তাজা গুলি এবং ১৪টি খালি কার্তুজ উদ্ধার করা হয়।
আরও পড়ুন: গ্রেফতারের ক্ষমতা পাচ্ছে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন
এক প্রশ্নর জবাবে তিনি জানান বিদেশি শাটগানগলি পুলিশের খোয়া যাওয়া অস্ত্র কিনা জানা যায়নি। কারণ বনদস্যুরা অস্ত্রের রেজিষ্টিন নম্বর মুছে ফেলা হয়েছে। সুন্দরবনের জলদস্যু ও বনদস্যু দমনে র্যাব, কোস্ট গার্ড, স্থানীয় প্রশাসন, নৌ-পুলিশ এবং বন বিভাগের সমন্বয়ে "অপারেশন রি-স্টোর পিস ইন সুন্দরবন" নামক বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। অভিযানে বনের প্রতিকূল পরিবেশ এবং অপরাধমূলক জীবনের অনিশ্চয়তার প্রেক্ষাপটে বিভিন্ন দস্যু বাহিনীর সদস্যরা অপরাধের পথ পরিহার করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার প্রত্যয় ব্যক্ত করে এবং আত্মসমর্পণের আগ্রহ প্রকাশ করে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ৩১ আগস্ট সুন্দরবনে সক্রিয় ৫টি জলদস্যু বাহিনীর মোট ৫৯ (ঊনষাট) জন সদস্য র্যাব এর নিকট আত্মসমর্পণ করে। তাদের ইতিমধ্যে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
তিনি বলেন ইউনেস্কো ঘোষিত বিশ্ব হেরিটেজ-আমাদের সুন্দরবন। পৃথিবীর সর্ববৃহৎ এই ম্যানগ্রোভ বনভূমির অপার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আমাদের যেমন মুগ্ধ করে ঠিক একই ভাবে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলের প্রায় ২৫ লাখ মানুষের জীবিকার প্রধান অবলম্বন হিসেবেও কাজ করে। আমরা জানি, আশির দশক থেকে এই গহীন সুন্দরবন ও সংলগ্ন উপকূলীয় অঞ্চলে 'জলদস্যুতা' ও 'বনদস্যুতা'র এক কলঙ্কিত অধ্যায় শুরু হয়েছিল। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সমুদ্রে মাছ ধরতে যাওয়া জেলে কিংবা বনে কাঠ, মধু, গোলপাতা সংগ্রহ করা থেকে শুরু করে জীবিকার উদ্দেশ্যে সুন্দরবনের উপর নির্ভরশীল মানুষেরা এই বাহিনীগুলোর অত্যাচার, জিম্মি ও অবৈধ চাঁদাবাজির স্বীকার হয়ে আসছিল।
ইতিমধ্যে আত্মসমর্পণকারী ব্যক্তিদের বিষয়ে প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণপূর্বক যথাসময়ে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
নিউজবাংলাদেশ.কম/এনডি








