নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৬:০৯, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

‘তারেক রহমানের ভারত সফরে আশাবাদী দিল্লি’

‘তারেক রহমানের ভারত সফরে আশাবাদী দিল্লি’

ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে কেবল সরকারকেন্দ্রিক কাঠামোর বাইরে এনে একটি মজবুত জনগণকেন্দ্রিক ভিত্তির ওপর দাঁড় করানোর ওপর বিশেষ জোর দিয়েছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ এবং ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। 

বুধবার (০২ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদের স্পিকারের কার্যালয়ে এক সৌজন্য সাক্ষাৎ ও উচ্চপর্যায়ের বৈঠক শেষে দুই দেশের পক্ষ থেকেই এই অভিন্ন মনোভাব ব্যক্ত করা হয়। এ সময় ভারতের লোকসভার স্পিকারের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারকে আনুষ্ঠানিকভাবে ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানানো হয়।

বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী জানান, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে দুই দেশের কূটনৈতিক মহলে অত্যন্ত ইতিবাচক ও ফলপ্রসূ আলোচনা চলমান রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর এই সফর এবং দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে দিল্লি অত্যন্ত আশাবাদী বলে উল্লেখ করেন তিনি।

সফরের অনুকূল পরিবেশ রয়েছে কি না এমন এক প্রশ্নের জবাবে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, এটি সম্পূর্ণভাবে প্রধানমন্ত্রীর ওপর নির্ভর করে। তিনি অত্যন্ত প্রজ্ঞাবান ও জনমুখী একজন নেতা। বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের খাতিরে যা করা প্রয়োজন, উভয় পক্ষের অভিপ্রায়ই জনগণকেন্দ্রিক। যখন জনগণের স্বার্থ জড়িত থাকে, তখন ইতিবাচক ফলাফল स्वतःস্ফূর্তভাবেই আসে। গণতন্ত্রের সৌন্দর্য তুলে ধরতে গিয়ে তিনি বলেন, গণতন্ত্রে আলোচনার কোনো শেষ নেই; গঙ্গা বা পদ্মার স্রোতের মতো এই সংলাপ প্রক্রিয়া চিরকাল প্রবহমান থাকবে।

স্পিকারের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ঐতিহাসিক নানা পটপরিবর্তন ও টানাপোড়েনের বিষয়টিও খোলাখুলিভাবে আলোচনায় উঠে আসে। 

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলের সমালোচনা করে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ২০০৮ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন জাতীয় নির্বাচনে (২০০৮, ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪) সাজানো ও প্রহসনমূলক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জনগণের মৌলিক গণতান্ত্রিক অধিকার চরমভাবে ক্ষুণ্ন করা হয়েছিল। পরবর্তীতে ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে বাংলাদেশে পুনরায় গণতন্ত্রের পথ সুগম হয়েছে এবং জনগণের ভোটাধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

আরও পড়ুন: রাজনৈতিক সম্পর্কের সঙ্গে অর্থনৈতিক স্বার্থকে গুরুত্ব দেয়া উচিত

স্পিকার আরও বলেন, অতীতের মতো শুধু নির্দিষ্ট কোনো সরকারের সঙ্গে সরকারের সুসম্পর্ক বজায় রাখাই মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত নয়। এখন থেকে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের পূর্ণমর্যাদা বজায় রেখে দুই দেশের সাধারণ মানুষের আবেগ ও চাহিদাকে প্রাধান্য দিয়ে জনগণকেন্দ্রিক সম্পর্কের নতুন যুগ শুরু করতে হবে। 

ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী স্পিকারের এই বক্তব্যের সঙ্গে পূর্ণ ঐকমত্য প্রকাশ করে জানান, বর্তমান ভারত সরকারও সাধারণ মানুষের কল্যাণ ও দুই দেশের জনগণের পারস্পরিক মেলবন্ধন সুদৃঢ় করতেই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে।

বৈঠকে দুই দেশের সংসদীয় ব্যবস্থার উন্নয়ন, অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং প্রাতিষ্ঠানিক সম্পর্ক আরও দৃঢ় করার ওপর বিশেষ আলোকপাত করা হয়। ভারতের লোকসভার স্পিকারের পক্ষ থেকে জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ এবং ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালকে ভারত সফরের আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণ জানান হাইকমিশনার। একই সঙ্গে দুই দেশের সংসদের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়াতে একটি বাংলাদেশ-ভারত সংসদীয় বন্ধুত্ব গ্রুপ (Parliamentary Friendship Group) গঠনেরও প্রস্তাব দেওয়া হয়।

বৈঠক চলাকালে ভারতের সংসদীয় কার্যক্রমের আধুনিকায়ন ও ডিজিটালাইজেশন প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা হয়, যেখানে সংসদ সদস্যদের কার্যক্রমে কাগুজে নথিপত্রের ব্যবহার কমিয়ে আনা এবং আধুনিক প্রযুক্তির প্রয়োগের বিষয়টি গুরুত্ব পায়। এ সময় ভারতীয় প্রতিনিধিদল সংসদ ভবনের সার্বিক পরিবেশকে অত্যন্ত অনুপ্রেরণাদায়ক ও কর্মবান্ধব হিসেবে অভিহিত করেন।

সৌজন্য সাক্ষাৎ ও আনুষ্ঠানিক বৈঠকে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের সামগ্রিক চিত্র স্থান পায়। আলোচনার মূল এজেন্ডার মধ্যে ছিল দুই দেশের সংসদীয় প্রতিনিধিদলের নিয়মিত সফর বিনিময়, ঝুলে থাকা রোহিঙ্গা সংকট এবং তাদের দ্রুত ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া, দুই দেশের মধ্যে যুব ও ক্রীড়া খাতের উন্নয়ন এবং সাংস্কৃতিক আদান-প্রদান জোরদার করা।

বৈঠকের একপর্যায়ে ভারতীয় হাইকমিশনার স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের পাশাপাশি তাঁর খেলোয়াড়ী জীবনের (ফুটবলার) দক্ষতার ভূয়সী প্রশংসা করেন। বৈঠকে অন্যান্যের মধ্যে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিনিধিরা, জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব এবং সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়