নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৮:৪৭, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

প্রশাসনে বড় রদবদল, ৪ দপ্তরে নতুন সচিব

প্রশাসনে বড় রদবদল, ৪ দপ্তরে নতুন সচিব

ফাইল ছবি

প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়ে বড় ধরনের রদবদল করেছে সরকার। একই দিনে তিনজন অতিরিক্ত সচিবকে সচিব পদে পদোন্নতি দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তিন মন্ত্রণালয় ও বিভাগে পদায়ন করা হয়েছে। পাশাপাশি চুক্তিভিত্তিক দুই সচিবের কর্মস্থল পরিবর্তন, একজন সচিবকে পরবর্তী পদায়নের জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত এবং পরিকল্পনা কমিশনের একজন সচিবকে অবসরে পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। 

বুধবার (০২ সেপ্টেম্বর) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে পৃথক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এসব সিদ্ধান্ত জানানো হয়। 

সরকারি আদেশে বলা হয়েছে, জনস্বার্থে জারি করা এসব আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সরকারি আদেশের তালিকায় ২ সেপ্টেম্বর সচিব পর্যায়ে পদোন্নতি, বদলি/নিয়োগ ও অবসরসংক্রান্ত মোট একাধিক পৃথক আদেশও তালিকাভুক্ত হয়েছে।

নতুন রদবদলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো তিনজন অতিরিক্ত সচিবের সচিব পদে পদোন্নতি। তাদের মধ্যে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত অতিরিক্ত সচিব ড. এ এন এম বজলুর রশীদকে সচিব পদে পদোন্নতি দিয়ে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে। শিল্প মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এ কে এম বেঞ্জামিন রিয়াজীকে সচিব পদে পদোন্নতি দিয়ে স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের সচিব করা হয়েছে। আর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ইয়াসমিন বেগমকে সচিব পদে পদোন্নতি দিয়ে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। পৃথক প্রজ্ঞাপনে এই তিন কর্মকর্তার পদোন্নতি ও নতুন কর্মস্থলে পদায়নের কথা জানানো হয়।

স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের নতুন সচিব ড. এ এন এম বজলুর রশীদ এর আগে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত অতিরিক্ত সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। এর আগে তিনি মাঠ প্রশাসনেও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০২৫ সালের নভেম্বরে তাকে রাজশাহী বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। পরে চলতি বছরের আগস্টে তাকে সেই দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করে পরবর্তী পদায়নের জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়। এবার সচিব পদে পদোন্নতির পর তাকে দেশের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার প্রশাসনিক দায়িত্বে থাকা স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের শীর্ষ পদে আনা হলো।

অন্যদিকে এ কে এম বেঞ্জামিন রিয়াজী শিল্প মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। শিল্প মন্ত্রণালয়ের নথিতে চলতি বছরের জুনেও তাকে অতিরিক্ত সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালনের তথ্য পাওয়া যায়। একই সময়ে বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশনের (বিএসএফআইসি) চেয়ারম্যানের অতিরিক্ত দায়িত্বও তাকে দেওয়া হয়েছিল। সচিব পদে পদোন্নতির পর তিনি স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের দায়িত্ব পেলেন। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কাঠামোয় স্বাস্থ্যসেবা এবং স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ দুটি পৃথক বিভাগের মধ্যে দায়িত্ব বণ্টিত; নতুন পদায়নের ফলে দুই বিভাগেই নতুন সচিব দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন।

সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ইয়াসমিন বেগমকে সচিব পদে পদোন্নতি দিয়ে এ মন্ত্রণালয়ের নতুন সচিব করা হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কর্মকর্তাদের তালিকায় ২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ইয়াসমিন বেগমকে অতিরিক্ত সচিব হিসেবে দেখানো হয়েছে; তিনি মন্ত্রিসভা ও রিপোর্ট অনুবিভাগে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং এর আগে বিভিন্ন সরকারি কার্যক্রম ও আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন।

আরও পড়ুন: পুলিশের ৬ কর্মকর্তাকে বদলি

ইয়াসমিন বেগম দায়িত্ব নেওয়ার ফলে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের বর্তমান সচিব কানিজ মওলার দায়িত্বে পরিবর্তন এসেছে। কানিজ মওলাকে পরবর্তী পদায়নের জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়েছে। অর্থাৎ তাকে এখনই অন্য কোনো নির্দিষ্ট মন্ত্রণালয় বা বিভাগে পদায়ন করা হয়নি; পরবর্তী আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত তিনি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকবেন। একাধিক প্রতিবেদনে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

অন্যদিকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ পদেও এসেছে পরিবর্তন। চুক্তিভিত্তিক স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরীকে বদলি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে। ফলে তিনি প্রশাসনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্ব দেবেন। তার নতুন দায়িত্বের বিষয়টি নিশ্চিত করে বুধবার পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

কামরুজ্জামান চৌধুরীর স্থানান্তরের ফলে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব পদে নতুন দায়িত্ব পেয়েছেন ড. এ এন এম বজলুর রশীদ। অর্থাৎ স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের মধ্যে এই রদবদলের মাধ্যমে একই সঙ্গে দুটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদে পরিবর্তন এসেছে। 

অন্যদিকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের চুক্তিভিত্তিক সিনিয়র সচিব মো. এহছানুল হককে বদলি করে পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য (সিনিয়র সচিব) করা হয়েছে। তিনিও চুক্তিভিত্তিক নিয়োগে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

মো. এহছানুল হক ২০২৫ সালের অক্টোবরে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব হিসেবে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পেয়েছিলেন। এর আগে তিনি সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সিনিয়র সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তার নিয়োগের সময় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবের পদটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল; এর আগে ওই পদে থাকা মো. মোখলেস উর রহমানকে পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য হিসেবে বদলি করা হয়েছিল। এবার এহছানুল হককেও পরিকল্পনা কমিশনে সদস্য হিসেবে পাঠানো হলো।

প্রশাসনের এই পুনর্বিন্যাসের পাশাপাশি পরিকল্পনা কমিশনেও পরিবর্তন এসেছে। কমিশনের আর্থ-সামাজিক অবকাঠামো বিভাগের সদস্য (সচিব) নাসরীন জাহানকে সরকারি চাকরি থেকে অবসর দেওয়া হয়েছে। সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮ অনুযায়ী তার অবসর কার্যকর হবে আগামী ৫ সেপ্টেম্বর। ওই দিন তার বয়স ৫৯ বছর পূর্ণ হবে। অবসরের সঙ্গে তাকে ১৮ মাসের মূল বেতনের সমপরিমাণ অর্থ লাম্পগ্র্যান্ট হিসেবে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। পাশাপাশি ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৭ পর্যন্ত এক বছরের অবসর-উত্তর ছুটি বা পিআরএল মঞ্জুর করা হয়েছে।

সব মিলিয়ে ২ সেপ্টেম্বরের এসব আদেশে প্রশাসনের সচিব পর্যায়ে একসঙ্গে পদোন্নতি, বদলি, নতুন দায়িত্ব ও অবসরের একাধিক সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে। এর মাধ্যমে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ, স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ এবং সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে পরিবর্তন এসেছে। একই সঙ্গে পরিকল্পনা কমিশনেও নতুন করে দায়িত্ব বণ্টন করা হয়েছে। সরকারি প্রজ্ঞাপনভিত্তিক এ রদবদলে তিনজন অতিরিক্ত সচিব সচিব পদে উন্নীত হয়েছেন, একজন চুক্তিভিত্তিক সচিব জনপ্রশাসনের দায়িত্ব পেয়েছেন, একজন চুক্তিভিত্তিক সিনিয়র সচিবকে পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়েছে এবং একজন সচিব অবসরে যাচ্ছেন।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়