নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৬:৪৫, ৩১ আগস্ট ২০২৬
আপডেট: ১৬:৪৭, ৩১ আগস্ট ২০২৬

ধানমন্ডিতে ৩৯ লাখ টাকা ছিনতাই, পিস্তলসহ গ্রেফতার ৩

ধানমন্ডিতে ৩৯ লাখ টাকা ছিনতাই, পিস্তলসহ গ্রেফতার ৩

ফাইল ছবি

রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকায় ব্যাংক থেকে উত্তোলিত ৩৯ লাখ টাকা ছিনতাইয়ের চাঞ্চল্যকর একটি ঘটনার সফল সুরাহা করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ প্রাপ্ত সংবাদের ভিত্তিতে তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে পুলিশ পিস্তল ও ছিনতাই হওয়া টাকার একটি অংশসহ চক্রের মূল হোতাসহ মোট তিনজনকে গ্রেফতার করেছে। স্থানীয় জনগণের সাহসিকতা এবং পুলিশের দ্রুত পদক্ষেপে এই ছিনতাই চক্রের মূলোৎপাটন সম্ভব হয়।

ঘটনাটি ঘটে গত রবিবার (৩০ আগস্ট) দুপুরের দিকে রাজধানীর অন্যতম ব্যস্ত ও জনবহুল এলাকা ধানমন্ডি লেক সংলগ্ন সড়কে। ভুক্তভোগী এক ব্যক্তি একটি ব্যাংক থেকে ব্যবসার বা ব্যক্তিগত প্রয়োজনে ৩৯ লাখ টাকা উত্তোলন করে ব্যাগে ভরে গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন। ঠিক ওই সময়ে মোটরসাইকেলে করে ওত পেতে থাকা তিন সদস্যের একটি পেশাদার ছিনতাইকারী চক্র তার গতি রোধ করে। মুহূর্তের মধ্যে ছিনতাইকারীরা তার হাত থেকে টাকার ব্যাগটি কেড়ে নিয়ে দ্রুত মোটরসাইকেলে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চালায়।

ব্যাগ ছিনতাইয়ের পর ঘাবড়ে না গিয়ে সাহসিকতার পরিচয় দেন ভুক্তভোগী ব্যক্তি। তিনি চিৎকার করতে করতে ছিনতাইকারীদের মোটরসাইকেলের পেছনে ধাওয়া করেন। ধাওয়া খেয়ে পালানোর সময় অতিরিক্ত গতির কারণে মোটরসাইকেল থেকে এক ছিনতাইকারী রাস্তায় সজোরে ছিটকে পড়ে যান। এ সময় তাৎক্ষণিকভাবে আশপাশের উৎসুক ও সচেতন স্থানীয় লোকজন একত্রিত হয়ে ওই ছিনতাইকারীকে ঘেরাও করেন এবং তার কাছে থাকা একটি পিস্তলসহ তাকে হাতেনাতে আটক করে ফেলেন।

আরও পড়ুন: রাজধানীতে সন্ত্রাসীদের এলোপাতাড়ি গুলি, নারীসহ গুলিবিদ্ধ ৩

ঘটনার পরপরই জনতা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে পুরো বিষয়টি বিস্তারিত জানান। ৯৯৯-এর মিডিয়া সেল থেকে জানানো হয়, জরুরি কলটি রিসিভ করেছিলেন কলটেকার কনস্টেবল মজিবুর রহমান। এরপর পুলিশ ডিসপাচার এসআই মো. জহিরুল ইসলাম অত্যন্ত পেশাদারিত্বের সঙ্গে কলার এবং সংশ্লিষ্ট ধানমন্ডি থানার সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করেন। ৯৯৯ থেকে তাৎক্ষণিক বার্তা পেয়ে ধানমন্ডি থানার একটি টহল দল দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়।

ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ প্রথমে পিস্তলসহ আটক হওয়া ছিনতাইকারীকে হেফাজতে নেয়। গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তির নাম তানভীর আবেদীন জুয়েল (৪১)। পরবর্তীতে তাকে থানায় নিয়ে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জুয়েলের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ধানমন্ডি থানার কয়েকটি চৌকস টিম এবং ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) একটি দল যৌথভাবে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে আকস্মিক অভিযান পরিচালনা করে। এই যৌথ অভিযানের মাধ্যমে একই ছিনতাইকারী চক্রের সঙ্গে জড়িত আরও দুই সদস্যকে আটক করতে সক্ষম হয় পুলিশ। তবে তদন্তের স্বার্থে এবং অভিযানের গোপনীয়তা রক্ষা করতে পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে তাদের নাম-পরিচয় প্রকাশ করেনি।

এ ঘটনায় ধানমন্ডি থানায় একটি সুনির্দিষ্ট মামলা রুজু করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতারকৃতদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে চক্রের মূল হোতা এবং এর পেছনে অন্য কোনো বড় কোনো সিন্ডিকেট জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এছাড়া ছিনতাই হওয়া সম্পূর্ণ ৩৯ লাখ টাকা উদ্ধার এবং পলাতক অন্য সহযোগীদের ধরতে সাড়াশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। জনবহুল এলাকায় এভাবে অস্ত্র উঁচিয়ে প্রকাশ্যে চাঞ্চল্যকর ছিনতাইয়ের ঘটনায় ধানমন্ডি ও এর আশেপাশের এলাকার ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিলেও, পুলিশের দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপে স্বস্তি ফিরে এসেছে।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়