নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ০৯:১৬, ৩০ আগস্ট ২০২৬

পানি বাড়ায় খুলে দেওয়া হলো কাপ্তাই হ্রদের ১৬ গেট

পানি বাড়ায় খুলে দেওয়া হলো কাপ্তাই হ্রদের ১৬ গেট

ফাইল ছবি

পাহাড়ি ঢল ও অবিরাম বৃষ্টিপাতের কারণে কাপ্তাই হ্রদে পানির পরিমাণ দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় কর্ণফুলী পানিবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ১৬টি স্পিলওয়ের (জলকপাট) সবকটি খুলে দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের দুই ঘণ্টা আগেই এই জলকপাটগুলো ৬ ইঞ্চি করে খুলে পানি নিষ্কাশন শুরু করে কর্তৃপক্ষ। হ্রদের পানির অতিরিক্ত চাপ সামলাতে এবং সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এই জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।

কর্ণফুলী পানিবিদ্যুৎ কেন্দ্র সূত্রে জানা যায়, স্পিলওয়ের ১৬টি গেট দিয়ে বর্তমানে প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৯ হাজার কিউসেক পানি কর্ণফুলী নদীতে প্রবাহিত হচ্ছে। গেটগুলো খোলার সময় কাপ্তাই হ্রদের পানির উচ্চতা রেকর্ড করা হয় ১০৫.৯৮ ফুট মিন সি লেভেল (এমএসএল), অথচ হ্রদের সর্বোচ্চ ধারণক্ষমতা ১০৯ ফুট এমএসএল। 

এর আগে শনিবার দুপুরে প্রকাশিত জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে রাত ১০টায় গেট খোলার কথা থাকলেও, হ্রদে পানির চাপ দ্রুত বাড়তে থাকায় কর্তৃপক্ষ বাধ্য হয়ে রাত ৮টা বা ৮টা ১৫ মিনিটে কপাটগুলো খুলে দেয়।

স্পিলওয়ের পাশাপাশি বর্তমানে বিদ্যুৎকেন্দ্রের সচল ৫টি ইউনিট দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য প্রতি সেকেন্ডে আরও প্রায় ৩২ হাজার কিউসেক পানি ছাড়া হচ্ছে। ফলে স্পিলওয়ের নিষ্কাশন এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রক্রিয়া মিলিয়ে প্রতি সেকেন্ডে মোট ৪১ হাজার কিউসেক পানি কর্ণফুলী নদীতে গিয়ে পড়ছে এবং তা পরবর্তীতে বঙ্গোপসাগরে পতিত হচ্ছে। এর আগে চলতি বছরের গত ১৮ জুলাই একই কারণে ১৬টি জলকপাট খোলা হয়েছিল, যা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ায় ২৩ জুলাই বন্ধ করা হয়েছিল।

আরও পড়ুন: সংসদ ভবনের সামনে ছিনতাইকারীর টানে রিকশা থেকে পড়ে শিক্ষিকার মৃত্যু

হ্রদের পানি আকস্মিক ছেড়ে দেওয়ার ফলে রাঙামাটির বাঘাইছড়িসহ হ্রদের তীরবর্তী বিভিন্ন এলাকার নিচু স্থান ও চরাঞ্চল প্লাবিত হতে শুরু করেছে। স্থানীয় প্রশাসন ও পানিবিদ্যুৎ কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কর্ণফুলী নদীর তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল, ঘাট ও চরাঞ্চলে পানির স্তর দ্রুত বাড়তে পারে। 

তবে বিদ্যুৎকেন্দ্র কর্তৃপক্ষের দাবি, বর্তমান এই পানি ছাড়ার কারণে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহে বড় ধরনের কোনো বিপর্যয় ঘটার শঙ্কা নেই। তা সত্ত্বেও বিশেষ করে জোয়ারের সময় নদীর পানি স্বাভাবিকের চেয়ে কিছুটা বৃদ্ধি পেতে পারে।

পরিস্থিতি সামাল দিতে স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নদীতীরবর্তী ও ঝুঁকিপূর্ণ নিম্নাঞ্চলে বসবাসরত সাধারণ মানুষকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে। বিশেষ করে নদীপারের বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার প্রস্তুতি নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। 

কর্ণফুলী পানিবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান জানিয়েছেন, কাপ্তাই হ্রদের পানির উচ্চতা, উজান থেকে আসা পানির প্রবাহ (ইনফ্লো) এবং সার্বিক বৃষ্টিপাত নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। বৃষ্টিপাত ও হ্রদের পানির উচ্চতার তারতম্যের ওপর ভিত্তি করে ভবিষ্যতে স্পিলওয়ের গেট খোলার পরিমাণ আরও বাড়ানো বা কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়