জেলা সংবাদদাতা || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৩:৫১, ২৮ আগস্ট ২০২৬
আপডেট: ১৩:৫৩, ২৮ আগস্ট ২০২৬

নাটোরে রোপা আমন চাষে ব্যস্ত কৃষক

নাটোরে রোপা আমন চাষে ব্যস্ত কৃষক

ছবি: সংগৃহীত

নাটোরে রোপা আমন ধান চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। অনুকূল আবহাওয়া, কৃষি উপকরণের সহজলভ্যতা, নতুন জাতের ধানের সম্প্রসারণ, কৃষি বিভাগের প্রণোদনা ও পরামর্শ এবং প্রদর্শনী খামার স্থাপনের উদ্যোগে জেলায় আমন মৌসুমে চাষাবাদে বৈচিত্র্য বাড়ছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, জেলায় ইতোমধ্যে ৪৫ হাজার ৮৬১ হেক্টর জমিতে রোপা আমনের চারা রোপণ করা হয়েছে। এর মধ্যে উফশী জাতের ৪৩ হাজার ৭৮৩ হেক্টর, হাইব্রিড জাতের ১ হাজার ৯০২ হেক্টর এবং স্থানীয় জাতের ১৭৬ হেক্টর জমি রয়েছে। চলতি বছর জেলায় ৭৭ হাজার ১০ হেক্টর জমিতে রোপা আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

নাটোর সদর উপজেলার মোহনপুর এলাকার কৃষক আহমেদুল কবীর বাসসকে জানান, আমন ধান চাষের জন্য অনুকূল আবহাওয়া বিরাজ করছে। তিনি নিজেই বীজতলায় চারা তৈরি করে চার বিঘা জমিতে রোপণ করেছেন। এর মধ্যে দুই বিঘায় মিনিকেট এবং দুই বিঘায় কাজললতা ধান চাষ করছেন। তিনবার করে জমি চাষ দিয়ে প্রস্তুত ও চারা রোপণে বিঘাপ্রতি শ্রমিক খরচ হয়েছে প্রায় ৫ হাজার টাকা।

শস্যভান্ডারখ্যাত চলনবিল এলাকার কৈগ্রামের কৃষক মো. তৌফিকুজ্জামান জানান, তিনি জমিতে সুগন্ধি জাতের ব্রি ধান-৩৪ ও ব্রি ধান-৪৯ রোপণের কাজ শেষ করেছেন। এসব ধানের ফলন তুলনামূলক কম হলেও বাজারমূল্য বেশি বলে জানান তিনি।

চলনবিলের কুমিড়া গ্রামের কৃষক জুলফিকার আনাম জানান, বিলের পানি নেমে যাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন তিনি। ১২ বিঘা জমিতে আমন ধান চাষের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

সিংড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা খন্দকার ফরিদ হাসান বাসসকে জানান, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ২৩ হাজার হেক্টর জমিতে রোপা আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এরই মধ্যে ১২ হাজার হেক্টর জমিতে ধান রোপণ করা হয়েছে। বিলের পানি ধীরে ধীরে নেমে যাচ্ছে। অনেক কৃষক আউশ ধান কাটার পর রোপা আমন চাষ করবেন। অক্টোবরের প্রথমার্ধ পর্যন্ত আমন চাষের কার্যক্রম চলবে।

তিনি বলেন, চলনবিলের কৃষকরা বেশি বাজারমূল্যের কারণে পোলাও চালের জন্য ব্যবহৃত সুগন্ধি ধান চাষে আগ্রহী হয়েছেন। পাশাপাশি পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ জিংক ধানের জাত, যেমন বিনাধান-৯০ ও বিনাধান-১০৩ চাষ করছেন তারা। কৃষি বিভাগ এসব জাতের ধান চাষে কৃষকদের উৎসাহিত করছে।

কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, চলতি মৌসুমে জেলার ১৪ হাজার ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষককে এক বিঘা করে জমিতে রোপা আমন চাষের জন্য বিনামূল্যে প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে। প্রত্যেক কৃষককে ৫ কেজি বীজ এবং ১০ কেজি করে ডিএপি ও এমওপি সার দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ জিংক বায়োফর্টিফাইড জাতের বিনাধান-২০ সম্প্রসারণের লক্ষ্যে জেলার চারটি উপজেলায় ৮০০ কৃষককে বিনামূল্যে বীজ দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে এসব বীজ থেকে চারা তৈরি করে জমিতে রোপণ করা হয়েছে। পাশাপাশি চারটি উপজেলায় এক একর করে জমিতে বিনাধান-২০-এর প্রদর্শনী খামার স্থাপন করা হচ্ছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর নাটোর জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. হাবিবুল ইসলাম খান বাসসকে জানান, রোপা আমন চাষের জন্য বর্তমানে অনুকূল আবহাওয়া বিরাজ করছে। ধানের চারা, সার, সেচসহ প্রয়োজনীয় কৃষি উপকরণও সহজলভ্য রয়েছে।

আরও পড়ুন: দেশে সারের পর্যাপ্ত মজুত ও আমদানি অনুমোদন আছে

তিনি বলেন, কৃষকদের ধান চাষে উৎসাহিত করতে সরকার বীজ ও সার প্রণোদনা হিসেবে দিয়েছে। পাশাপাশি প্রদর্শনী খামার স্থাপন করা হচ্ছে। উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা মাঠপর্যায়ে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিচ্ছেন। উপজেলা ও জেলা কৃষি দপ্তর এসব কার্যক্রম নিবিড়ভাবে তত্ত্বাবধান করছে।

নিউজবাংলাদেশ.কম/এসবি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়