নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১২:১৯, ২৭ আগস্ট ২০২৬

নেপালে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে প্রাণহানিতে রাষ্ট্রপতির গভীর শোক

নেপালে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে প্রাণহানিতে রাষ্ট্রপতির গভীর শোক

ফাইল ছবি

নেপাল ও চীনের তিব্বত সীমান্তবর্তী হিমালয় অঞ্চলে সংঘটিত নজিরবিহীন আকস্মিক বন্যা, পাহাড়ি ঢল ও ভয়াবহ ভূমিধসে ব্যাপক প্রাণহানি এবং অবকাঠামোগত ধ্বংসযজ্ঞের ঘটনায় গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি। 

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) এক শোকবার্তায় তিনি বাংলাদেশের সরকার ও জনগণের পক্ষ থেকে নিহতদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানান।

গত বুধবার হিমালয়ের দুর্গম পার্বত্য অঞ্চলে পাহাড়ের মাটি, বরফ ও পাথরের বিশাল অংশ ধসে পড়ার পর ভোতে কোশি ও ত্রিশুলি নদীর অববাহিকায় এই ভয়াবহ বন্যার সৃষ্টি হয়। তিব্বতের লাসা থেকে নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুর দিকে যাতায়াতকারী বিপুলসংখ্যক পর্যটক ও তীর্থযাত্রীদের মূল রুটে এই বিপর্যয় ঘটে। নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা ও পুলিশের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে এখন পর্যন্ত অন্তত ১৬৫ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং নিখোঁজ রয়েছেন প্রায় ১ হাজার ৫০০ মানুষ। এর মধ্যে নেপালের বিভিন্ন জেলা এবং তিব্বতের সীমান্তবর্তী গিরং (Gyirong) বন্দর এলাকায় নিখোঁজদের বড় একটি অংশ বিদেশি নাগরিক ও কৈলাস মানসসরোবর যাত্রার তীর্থযাত্রী।

দুটি দেশের সীমান্তবর্তী সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, চোখের পলকে পানির প্রবল তোড়ে বহুতল ভবন, চলাফেরা করা গাড়ি ও আস্ত জনবসতি নদীগর্ভে তলিয়ে যাচ্ছে। রাসুয়া, নুয়াকোট, ধাদিং ও চিতওয়ান জেলার বিস্তীর্ণ জনপদ প্লাবিত হয়েছে। এই আকস্মিক বিপর্যয়ের কারণে প্রায় ১৯টি গুরুত্বপূর্ণ সেতু এবং প্রায় ৪০ কিলোমিটারেরও বেশি রাস্তা সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। 

আরও পড়ুন: নেপাল-তিব্বত সীমান্তে প্রলয়ঙ্করী বন্যায় নিহত ১৫৭, নিখোঁজ ৪০৩

তাছাড়া, নেপালের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ জলবিদ্যুৎকেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বৃহত্তর অঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। সড়ক যোগাযোগ ও ইন্টারনেট নেটওয়ার্ক সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলগুলোতে উদ্ধারকাজ পরিচালনা অত্যন্ত দুরূহ হয়ে পড়েছে।  

ইতোমধ্যে পরিস্থিতি মোকাবিলায় নেপাল সেনাবাহিনী, সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী এবং বিশেষায়িত উদ্ধারকারী দল মাঠে নেমেছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও প্রতিবেশী দেশগুলো সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। ভারতের পাশাপাশি চীনের পক্ষ থেকেও উদ্ধার অভিযানে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হচ্ছে। জাতিসংঘের বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) প্রতিনিধিদল ইতোমধ্যে নেপালে পৌঁছে প্রায় ১০ হাজার মানুষের তিন মাসের চিকিৎসা সরঞ্জাম, তাঁবু ও জরুরি লজিস্টিক সহায়তা প্রদান করেছে। এছাড়া বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (WFP), ইউনিসেফ (UNICEF), সেভ দ্য চিলড্রেন এবং নেপাল রেড ক্রসের পক্ষ থেকে জরুরি ত্রাণ ও আশ্রয় প্যাকেজ দুর্গত এলাকায় পাঠানো শুরু হয়েছে। উদ্ধারকাজ ও ত্রাণ বিতরণ অব্যাহত থাকায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়