রংপুরে ৪ খুনের রহস্যে নতুন মোড়
ছবি: সংগৃহীত
রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়ায় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী ও তার পরিবারের চার সদস্যকে হত্যার ঘটনায় তদন্তে নতুন মোড় এসেছে। ঘটনার পর পুলিশের প্রাথমিক বক্তব্য, পরে আদালতে দুই গ্রেফতার আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি, প্রধান সাক্ষীর বক্তব্য, ময়নাতদন্তের তথ্য এবং ঘটনাস্থলের আলামত নিয়ে ওঠা প্রশ্ন সবকিছু মিলিয়ে এখন নতুন করে হত্যাকাণ্ডের পূর্ণ প্রেক্ষাপট যাচাই করছে তদন্তকারীরা।
পুলিশ বলছে, গ্রেফতার দুই আসামি সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসের ডিএনএ পরীক্ষা এবং ডোপ টেস্ট করা হবে। পাশাপাশি ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন, ১৬৪ ধারায় দেওয়া আসামি ও সাক্ষীর জবানবন্দি এবং অন্যান্য পারিপার্শ্বিক তথ্য মিলিয়ে দেখা হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সকালে সংবাদ সম্মেলনে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ বলেন, একই পরিবারের চার সদস্য হত্যার ঘটনায় আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে এমন কিছু তথ্য এসেছে, যা পুলিশের আগের তদন্ত-তথ্যের সঙ্গে নতুনভাবে যাচাই করা হচ্ছে।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, নিহতদের ময়নাতদন্ত এবং দুই আসামির স্বীকারোক্তির মধ্যে বেশ কিছু ক্ষেত্রে মিল পাওয়া গেছে। তবে হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে শুধু মাদক সেবনের সময় ধরা পড়ে যাওয়ার ঘটনা ছিল, নাকি জমি, সামাজিক সম্পর্ক বা অন্য কোনো ক্ষোভও কাজ করেছে সেসব দিকও তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে।
গত শনিবার রাতে নগরীর মাছুয়াপাড়া এলাকার একটি তালাবদ্ধ বাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয় রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী (৬৫), তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী (৫০), মেয়ে আগামী চক্রবর্তী এবং ছেলে আয়ুশ চক্রবর্তী প্রিয়মের মরদেহ। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দীর্ঘ সময় যোগাযোগ না হওয়ায় স্বজনদের সন্দেহ হয়। পরে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করে চারজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। বাড়ির বিভিন্ন জিনিসপত্র ছড়ানো-ছিটানো অবস্থায় ছিল বলে মামলার এজাহার ও তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। নিহতের বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী বাদী হয়ে অজ্ঞাত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন। প্রথমে কোতোয়ালি থানা তদন্ত শুরু করলেও পরে মামলাটি মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
হত্যাকাণ্ডের পরদিন ভোরে পৃথক অভিযান চালিয়ে মাছুয়াপাড়া এলাকা থেকেই মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্থ দাসকে গ্রেফতার করা হয়। পরে দুজনকে আদালতে হাজির করা হলে তারা ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। জবানবন্দি গ্রহণের পর আদালত তাদের কারাগারে পাঠান। তবে শুরুতে পুলিশ তদন্তের স্বার্থে জবানবন্দির বিস্তারিত প্রকাশ করেনি। কয়েক দিন পর পুলিশ কমিশনার আদালতে দেওয়া বক্তব্যের বরাত দিয়ে হত্যাকাণ্ডের নতুন ও বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরেন।
পুলিশের সর্বশেষ বক্তব্য অনুযায়ী, ঘটনার রাতে সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ প্রথমে তাদের বন্ধু সীমান্ত দাসের বাড়িতে যান। সেখানে তারা ইয়াবা সেবন করেন। পরে আরও ইয়াবা সংগ্রহের জন্য এক মাদক বিক্রেতার সঙ্গে যোগাযোগ করেন বলে জবানবন্দিতে উঠে এসেছে।
পুলিশ বলছে, ইয়াবা নেওয়ার সময় তাদের একটি মোবাইল ফোন বন্ধক রাখা হয়েছিল এবং পরে বাড়ি থেকে নেওয়া টাকার একটি অংশ দিয়ে সেই ফোন ছাড়িয়ে আনা হয়। ওই মাদক বিক্রেতাকে শনাক্ত ও গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
সীমান্ত দাসকে এ ঘটনায় পরে প্রধান সাক্ষী হিসেবে আদালতে নেওয়া হয় এবং তিনিও ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের আগে মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থ তার বাড়িতে এসে ইয়াবা সেবন করেছিলেন সীমান্তের জবানবন্দিতে এমন তথ্য উঠে এসেছে, যা দুই আসামির বক্তব্যের সঙ্গে মিল রয়েছে।
তবে তদন্তের শুরুতে সীমান্তকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়ার কারণ নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হলেও পরে পুলিশ জানায়, তাকে সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দির জন্য আদালতে নেওয়া হয়েছিল।
আরও পড়ুন: মাদক সেবন দেখে ফেলায় একই পরিবারের চারজনকে হত্যা
আদালতে দেওয়া সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধের জবানবন্দির বরাত দিয়ে পুলিশ কমিশনার জানান, গভীর রাতে ইয়াবা সেবনের উদ্দেশ্যে তারা পাশের একটি বাড়ির দেয়াল টপকে ভেতরে প্রবেশ করেন। সেখানকার ছাদ থেকে গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির ছাদে যাওয়া সম্ভব ছিল। দুই ছাদের মধ্যকার দূরত্ব ছিল অল্প। গণপতির বাড়ির ছাদের চারপাশে হাফওয়াল থাকায় বাইরে থেকে সহজে দেখা যেত না। পানির ট্যাংকির আড়ালে বসে তারা ইয়াবা সেবন করতে থাকেন।
সিদ্ধার্থের জবানবন্দি অনুযায়ী, ঘটনার রাতে তারা মোট আটটি ইয়াবা সেবন করেছিলেন। মুগ্ধের বক্তব্যে সংখ্যাটি নয়টি। এর আগে একসঙ্গে সর্বোচ্চ দুটি ইয়াবা সেবনের অভিজ্ঞতা ছিল বলেও সিদ্ধার্থ আদালতে জানিয়েছেন বলে পুলিশ কমিশনারের ভাষ্য। এই পরস্পরবিরোধী সংখ্যার বিষয়টিও তদন্তে যাচাই করা হচ্ছে। এ কারণেই গ্রেফতার দুই আসামির ডোপ টেস্ট করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর আগে তাদের গ্রেফতারের কয়েক দিন পরও ডোপ টেস্ট না হওয়ায় আইনজীবীদের একাংশ এ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। পরে পুলিশ জানায়, প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে পরীক্ষার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ইয়াবা সেবনের একপর্যায়ে ভোর হয়ে গেলে গণপতি চক্রবর্তী নিয়মিত হাঁটার জন্য ছাদে ওঠেন এবং সেখানে দুই যুবককে দেখতে পান। তিনি তাদের ধমক দেন এবং সেখানে কেন রয়েছে জানতে চান। এরপর দুই আসামি ধরা পড়ে যাওয়ার আতঙ্কে পড়ে।
জবানবন্দিতে বলা হয়েছে, একপর্যায়ে গণপতির গলায় থাকা গামছা পেঁচিয়ে দুই দিক থেকে টান দেওয়া হয়। এতে তাঁর মৃত্যু হয়।
এ পর্যায়ে ময়নাতদন্তের তথ্যকে গুরুত্বপূর্ণ বলছে পুলিশ। রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক জানিয়েছেন, চারজনের মৃত্যুই শ্বাসরোধের কারণে হয়েছে বলে তারা মত দিয়েছেন। একই সঙ্গে নিহত প্রীতিলতা চক্রবর্তী ও তার মেয়ের শরীরে ধর্ষণের কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ নিয়ে নানা ধরনের দাবি ছড়িয়ে পড়ার পর ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক বিষয়টি স্পষ্ট করেন।
গণপতির মরদেহ সরানোর সময় শব্দ পেয়ে তার স্ত্রী ও মেয়ে ছাদে চলে আসেন বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
পুলিশ কমিশনারের ভাষ্য অনুযায়ী, তাদের চিৎকারের আশঙ্কায় দুই আসামি তাদের ওপর হামলা চালায়। মুগ্ধ প্রীতিলতার গলা চেপে ধরেন এবং সিদ্ধার্থ মেয়ের গলা ও মুখ চেপে ধরেন বলে জবানবন্দিতে এসেছে। পরে গামছা ও রশি ব্যবহার করে তাদের শ্বাসরোধ করা হয়। এরপর মা ও মেয়ের মরদেহ ছাদের সিঁড়ির কাছাকাছি সরিয়ে রাখা হয়, যাতে পাশের বাড়ির ছাদ থেকে সহজে দেখা না যায়।
এরপর হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তিত তথ্য সামনে আসে। পুলিশ এর আগে জানিয়েছিল, পরিবারের ছোট ছেলে প্রিয়ম ঘুমন্ত অবস্থায় ছিল।
কিন্তু আদালতে দেওয়া জবানবন্দির বরাত দিয়ে পুলিশ কমিশনার বলেন, শিশুটি তখন ঘুম থেকে উঠে সিদ্ধার্থকে দেখতে পায় এবং তাকে চিনতে পেরে নাম ধরে ডাকে। সিদ্ধার্থ দাদা, তুমি এখানে কেন? এমন কথা বলার পর শিশুটি অন্যদের বিষয়টি জানিয়ে দিতে পারে এই আশঙ্কায় তাকে হত্যা করা হয় বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করা হয়েছে। কাপড় দিয়ে গলায় প্যাঁচ দিয়ে তাকে শ্বাসরোধ করা হয় বলে পুলিশের দাবি।
পুলিশ কমিশনার বলেন, তদন্তের প্রাথমিক পর্যায়ে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই আগে শিশুটিকে ঘুমন্ত অবস্থায় থাকার কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু আদালতে আসামিদের জবানবন্দিতে নতুন তথ্য উঠে আসার পর সেই বক্তব্য সংশোধন করা হয়েছে। এই পরিবর্তিত তথ্যকে কেন্দ্র করেই তদন্তের অন্যান্য অংশও নতুন করে মিলিয়ে দেখা হচ্ছে।
চারজনকে হত্যার পর ঘটনাটিকে চুরি বা ডাকাতির ঘটনা হিসেবে সাজানোর চেষ্টা করা হয়েছিল বলেও পুলিশ জানিয়েছে।
জবানবন্দি অনুযায়ী, হত্যার পর ঘরের ড্রয়ার ও অন্যান্য আসবাবপত্র এলোমেলো করা হয়। বাড়ি থেকে নগদ ১৫ হাজার টাকা এবং স্বর্ণালংকার নেওয়া হয়। পুলিশ কমিশনার জানান, নগদ টাকার ভাগাভাগিও হয়েছিল। সিদ্ধার্থ তার অংশের টাকা নিয়ে আগে বন্ধক রাখা মোবাইল ফোন ছাড়িয়ে আনেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
স্বর্ণালংকার নেওয়ার পর সেগুলো গোপনে মাটির নিচে পুঁতে রাখা হয়েছিল বলেও পুলিশ জানিয়েছে।
তদন্তকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, বাড়ির মালিক বা আশপাশের নির্দিষ্ট কয়েকজন ব্যক্তি এ বিষয়ে কিছু জানতেন না। এর আগে পুলিশ জানিয়েছিল, লুট হওয়া গয়না উদ্ধার করা হয়েছে এবং হত্যাকাণ্ডের পর আসামিরা বাড়ির ভেতরে গোসল ও খাবারও খেয়েছিল।
জবানবন্দি অনুযায়ী, বাড়ির কোনো সিসিটিভি ক্যামেরা আছে কি না এমন আশঙ্কা থেকে বিদ্যুতের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করারও চেষ্টা করা হয়েছিল। একটি প্লাস দিয়ে তার কেটে দেওয়া হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে। এই বিষয়টি ঘটনার শুরু থেকেই আলোচনায় ছিল। কারণ হত্যার পর বাড়ির বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়া এবং ঘর এলোমেলো অবস্থায় পাওয়ায় শুরুতে চুরি বা ডাকাতির বিষয়টিও গুরুত্ব পায়।
হত্যাকাণ্ডের সম্ভাব্য উদ্দেশ্য নিয়ে এখন শুধু মাদক সেবনের সময় ধরা পড়ে যাওয়ার বিষয়েই সীমাবদ্ধ থাকছে না তদন্ত।
পুলিশ কমিশনার জানিয়েছেন, গণপতি চক্রবর্তীর বাড়িটি যে জমিতে নির্মিত, সেটি আগে সিদ্ধার্থদের পূর্বপুরুষদের মালিকানাধীন ছিল বলে জবানবন্দিতে উঠে এসেছে। পরে সেই জমি বিক্রি হয়ে গণপতি চক্রবর্তীর মালিকানায় আসে। জমি বিক্রির অর্থ বণ্টন নিয়ে পরিবারের শরিকদের মধ্যে কোনো ক্ষোভ ছিল কি না, কিংবা সেই পুরোনো বিষয়টির সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এ ছাড়া সামাজিক সম্পর্ক ও পারিবারিক দূরত্বের বিষয়টিও তদন্তে এসেছে। মাছুয়াপাড়া এলাকার অধিকাংশ বাসিন্দার সঙ্গে গণপতি চক্রবর্তীর পরিবারের সামাজিক মেলামেশার ধরন এবং দুই পক্ষের পারস্পরিক সম্পর্ক কেমন ছিল, তা যাচাই করছে পুলিশ।
পুলিশ কমিশনারের ভাষ্য অনুযায়ী, সামাজিক ব্যবধান বা পূর্ববর্তী কোনো ক্ষোভ হত্যাকাণ্ডের পেছনে ভূমিকা রেখেছিল কি না, সেটিও উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না। তবে এসব বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়নি।
এদিকে, ঘটনাস্থলের আলামত নষ্ট হওয়ার অভিযোগ নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। গ্রেফতার সিদ্ধার্থ দাসের পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেন, গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির ভেতর ও ছাদে পানি পড়ে যাওয়ায় গুরুত্বপূর্ণ আলামত নষ্ট হতে পারে।
তাদের দাবি, বাড়ির বিদ্যুৎ ও পানির মোটর চালু হওয়ার পর পানি উপচে ছাদে পড়েছিল।
তবে পুলিশ এ অভিযোগ নাকচ করেছে। তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভাষ্য, বাড়িটিতে সার্বক্ষণিক পুলিশ পাহারা রয়েছে। লাইটের সুইচ চালু করতে গিয়ে ভুলবশত পানির মোটরের সুইচও চালু হয়ে যায়। পরে ট্যাংকি ভর্তি হয়ে পানি উপচে পড়লেও তা পরিকল্পিতভাবে আলামত নষ্ট করার ঘটনা নয়।
পুলিশের দাবি, মরদেহ উদ্ধারের সময়ই প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ ও সংরক্ষণের কাজ করা হয়েছে।
এই চার হত্যাকাণ্ডের তদন্তে এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে আদালতে দেওয়া জবানবন্দি ও পারিপার্শ্বিক আলামতের বৈজ্ঞানিক মিল খোঁজা। দুই আসামির ডিএনএ পরীক্ষা, ডোপ টেস্ট, ঘটনাস্থল থেকে সংগ্রহ করা আলামত, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন, সাক্ষীদের বক্তব্য, মোবাইল ফোনের তথ্য, অর্থ ও স্বর্ণালংকারের গতিপথ সবকিছু একত্রে বিশ্লেষণ করেই তদন্তের পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
তদন্তের শুরু থেকে পুলিশের বক্তব্যে কয়েক দফা পরিবর্তন এবং নতুন তথ্য যুক্ত হওয়ায় ঘটনাটি নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে গণপতি চক্রবর্তী কোথায় প্রথম হামলার শিকার হন, স্ত্রী-মেয়েকে কোন অবস্থায় হত্যা করা হয়, শিশুটি ঘুমিয়ে ছিল নাকি হত্যাকারীদের চিনে ফেলেছিল, হত্যার আগে ও পরে আসামিরা কতটা মাদক সেবন করেছিলেন এবং হত্যাকাণ্ডের পেছনে কেবল তাৎক্ষণিক আতঙ্ক নাকি পূর্বপরিকল্পিত কোনো বিরোধ ছিল এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো তদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদনের অপেক্ষায়।
পুলিশের সর্বশেষ অবস্থান হলো, দুই আসামির আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তি গুরুত্বপূর্ণ হলেও কেবল জবানবন্দির ওপর নির্ভর করে তদন্ত শেষ করা হচ্ছে না। বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা ও অন্যান্য আলামতের সঙ্গে প্রতিটি তথ্য মিলিয়ে দেখা হবে। ডিএনএ ও ডোপ টেস্টের ফল, ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন এবং অন্যান্য ফরেনসিক তথ্য হাতে আসার পরই রংপুরের আলোচিত এই চার হত্যাকাণ্ডের পূর্ণ চিত্র আরও স্পষ্ট হবে বলে মনে করছেন তদন্তসংশ্লিষ্টরা।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








