১৫ দুর্নীতি মামলা থেকে খালাস পেলেন মির্জা আব্বাস
ফাইল ছবি
প্রায় দুই দশক আগের আলোচিত ও চাঞ্চল্যকর দুর্নীতি মামলা থেকে আইনি লড়াই শেষে অব্যাহতি পেলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা (মন্ত্রী পদমর্যাদায়) মির্জা আব্বাস। বিনা দরপত্রে বা সাজানো প্রক্রিয়ায় রাজধানীর অভিজাত এলাকার ১৮টি সরকারি পরিত্যক্ত বাড়ি বিক্রির মাধ্যমে ১২৭ কোটি ৬৪ লাখ ১৯ হাজার ৫৯ টাকা আত্মসাৎ ও দুর্নীতির অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা ১৫টি মামলা থেকেই তাকে খালাস দিয়েছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৩-এর বিচারক মুহাম্মদ কামরুল হাসান খান এই বহুল প্রতীক্ষিত রায় ঘোষণা করেন।
রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মির্জা আব্বাসের আইনি প্যানেলের অন্যতম আইনজীবী মো. শাহীনুর ইসলাম। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া, সাক্ষ্যগ্রহণ ও আইনি চুলচেরা বিশ্লেষণ শেষে আদালত এই রায় প্রদান করেন।
মামলার দীর্ঘ ইতিহাস পর্যালোচনা করে জানা যায়, ২০০৭ সালে ওয়ান-ইলেভেনের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে এই মামলাগুলোর সূচনা হয়। চারদলীয় জোট সরকারের আমলে গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ক্ষমতার অপব্যবহার করে রাজউক ও গণপূর্ত অধিদপ্তরের মাধ্যমে গুলশান, ধানমণ্ডি ও শান্তিনগরের মতো অভিজাত এলাকার মোট ১৮টি সরকারি পরিত্যক্ত বাড়ি সাজানো ও ত্রুটিপূর্ণ দরপত্রের মাধ্যমে কম দামে পছন্দের ব্যক্তিদের পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছিল।
দুদকের প্রাথমিক অনুসন্ধানের পর ২০০৭ সালের মার্চ মাসে মতিঝিল থানায় মির্জা আব্বাসসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে মামলাগুলো দায়ের করা হয়। এরপর একই বছরের সেপ্টেম্বর মাসে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করা হয়, যেখানে আসামির সংখ্যা পরবর্তীতে বৃদ্ধি পেয়ে ২১ জনে পৌঁছায়।
আরও পড়ুন: ৯৯৯ সেবায় ব্যর্থতা, হাইকোর্টের রুল
অভিযোগপত্রে দাবি করা হয়েছিল যে, আসামিরা যোগসাজশে প্রকৃত বাজারমূল্যের চেয়ে অনেক কম দাম দেখিয়ে রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি হস্তান্তর করেছেন, যার ফলে সরকারের মোট ১২৭ কোটি ৬৪ লাখ ১৯ হাজার ৫৯ টাকার আর্থিক ক্ষতি সাধিত হয়েছে। পরবর্তীতে ঢাকার বিশেষ জজ-৩ আদালতের তৎকালীন বিচারক শাহেদ নূরউদ্দিন আসামিদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠন করেন।
মামলার আইনি প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন সময়ে নানা মোড় পরিবর্তন ঘটে। এই ১৮টি বাড়ি বরাদ্দ সংক্রান্ত দুর্নীতির অভিযোগে মোট ১৫টি পৃথক মামলা পরিচালিত হচ্ছিল। মামলার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে এবং অভিযোগ থেকে অব্যাহতি চেয়ে উচ্চ আদালতে বিভিন্ন সময়ে আবেদন করেছিলেন আসামিরা। এর মধ্যে বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহান, রাজউকের সাবেক প্রধান প্রকৌশলী ইমদাদুল ইসলাম, একম ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মেহেদী হাসান, চট্টগ্রামের রাজনৈতিক নেতা আফছার উদ্দিন আহম্মদের স্ত্রী হাসনা আহমেদ এবং এস এম আনোয়ার হোসেনসহ কয়েকজন পৃথক আবেদন করলে হাইকোর্ট কিছু মামলা বাতিল করেন। এসব রায়ের বিরুদ্ধে দুদক আপিল বিভাগে গেলেও এবং বায়রার আলী হায়দার চৌধুরীর লিভ টু আপিল খারিজ হলেও নিম্ন আদালতে মূল মামলার বিচারিক কার্যক্রম চলতে থাকে।
আদালতে দীর্ঘ প্রায় ১৯ বছর ধরে চলা শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের আইনজীবীরা নিজেদের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেন। অবশেষে সমস্ত তথ্য-উপাত্ত এবং সাক্ষ্যপ্রমাণ বিবেচনা করে আদালত মির্জা আব্বাসসহ সংশ্লিষ্ট আসামিদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাঁদের এই ১৫টি মামলা থেকে সম্পূর্ণ খালাস প্রদান করেন। দেশের প্রথমসারির আইনি ও রাজনৈতিক মহলে এই রায় অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








