নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৯:৫০, ১৭ আগস্ট ২০২৬
আপডেট: ১৯:৫২, ১৭ আগস্ট ২০২৬

ডেমরায় বিস্ফোরক উদ্ধারে গ্রেফতার ‘দাওলাতুল ইসলাম’র ২ সদস্য রিমান্ডে

ডেমরায় বিস্ফোরক উদ্ধারে গ্রেফতার ‘দাওলাতুল ইসলাম’র ২ সদস্য রিমান্ডে

ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর ডেমরা থানার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় উগ্রবাদী সংগঠন দাওলাতুল ইসলাম-এর গ্রেফতারকৃত দুই সক্রিয় সদস্যকে বিভিন্ন মেয়াদে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের আদেশ দিয়েছেন আদালত। 

সোমবার (১৭ আগস্ট) শুনানি শেষে আসামি জুয়েল ভূইয়া ওরফে ওস্তাদের তিন দিন এবং মো. আরিফ চৌধুরীর দুই দিন রিমান্ড মঞ্জুর করেন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জামসেদ আলম। এই চাঞ্চল্যকর মামলাটির তদন্ত করছে পুলিশের এন্টি টেররিজম ইউনিট (এটিইউ)।

এর আগে রবিবার (১৬ আগস্ট) বিকেলে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ডেমরা থানার সারুলিয়া পশ্চিম বক্সনগর নিঝুমবাগ এলাকার গরিবের নেওয়াজ মসজিদ রোডের (৬৭ নম্বর ওয়ার্ড) একটি চায়ের দোকানের সামনে যৌথ অভিযান পরিচালনা করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালানোর সময় প্রায় ৮-১০ গজ দূর থেকে আরিফ চৌধুরীকে এবং ঘটনাস্থল থেকে জুয়েল ভূইয়াকে গ্রেফতার করা হয়। 

এ সময় তাদের হেফাজত থেকে কালো স্কচটেপ বা কস্টেপ দিয়ে মোড়ানো প্রায় ৬ ইঞ্চি লম্বা দুটি তাজা ডেটোনেটর বোমা সদৃশ বস্তু, দুটি মোবাইল ফোন ও একটি গ্যাস লাইট জব্দ করা হয়। জননিরাপত্তার জন্য চরম হুমকি বিবেচনায় ডিএমপির কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের বম্ব ডিসপোজাল টিম দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে ডেটোনেটরগুলো নিষ্ক্রিয় বা ধ্বংস করে।

আরও পড়ুন: নরসিংদী জেলপলাতক জঙ্গি ওস্তাদ জুয়েল এবার বোমাসহ গ্রেফতার

আদালতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের এন্টি টেররিজম ইউনিটের (এটিইউ) এসআই মো. রফিকুল ইসলাম আসামিদের ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ এবং মূল রহস্য উন্মোচনের জন্য ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন করেছিলেন। 

রিমান্ড আবেদনে উল্লেখ করা হয় যে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা নিজেদের উগ্রবাদী সংগঠন দাওলাতুল ইসলাম-এর সক্রিয় সদস্য বলে স্বীকার করেছে। জননিরাপত্তা বিপন্ন করা, প্রজাতন্ত্রের সম্পত্তির ক্ষতিসাধন, দেশে ব্যাপক অস্থিতিশীলতা তৈরি এবং নাশকতামূলক সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনার অসদুদ্দেশ্যে তারা ওই এলাকায় একত্রিত হয়েছিল। শুনানিতে আসামিদের পক্ষে কোনো আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন না।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি যাত্রাবাড়ীর জনপদ মোড়ে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনার তদন্ত করতে গিয়ে এই চক্রের সন্ধান পায় গোয়েন্দা ও তদন্তকারী টিমগুলো। 

অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, গ্রেফতারকৃত জুয়েল ভূইয়া নরসিংদী জেলার শিবপুর থানার কাজীরচর গ্রামের আবুল ভূইয়ার ছেলে। তিনি চব্বিশের জুলাই মাসের আন্দোলনের সময় নরসিংদী কারাগার ভেঙে পালিয়ে যাওয়া একজন কারাবন্দি আসামি ছিলেন। অন্যদিকে মো. আরিফ চৌধুরী ডেমরার নিঝুমবাগ এলাকার আব্দুল হাইয়ের ছেলে। এ ঘটনায় এটিইউর এসআই পলাশ আলী বাদী হয়ে ডেমরা থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করেছেন। মামলার নেপথ্যে থাকা অন্য সহযোগীদের গ্রেফতার, পলাতক আসামিদের প্রকৃত নাম-ঠিকানা সংগ্রহ এবং নাশকতার গভীর চক্রান্তের বিস্তারিত তথ্য উদঘাটনে পুলিশ এখন রিমান্ডেপ্রাপ্ত আসামিদের নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করছে।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়