মাউশিতে শিক্ষকদের সোশ্যাল মিডিয়া নজরদারি
ফাইল ছবি
দেশের শিক্ষাঙ্গনে শিক্ষক ও কর্মচারীদের অনলাইন কার্যক্রমে শৃঙ্খলা ফেরাতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। সরকারি নির্দেশনা ও আচরণবিধি লঙ্ঘন করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরকারবিরোধী, নেতিবাচক, বিভ্রান্তিকর বা দাপ্তরিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্নকারী কনটেন্ট ছড়ানোর অভিযোগে একটি বিশেষ মনিটরিং কমিটি গঠন করা হয়েছে। একইসঙ্গে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত বেসরকারি স্কুল-কলেজের এমপিওভুক্ত শিক্ষক বদলির বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের দিনক্ষণ চূড়ান্ত করা হয়েছে। আগামী ২০ আগস্ট আনুষ্ঠানিকভাবে এই বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে এবং ২১ আগস্ট থেকে শুরু হবে অনলাইনে আবেদন প্রক্রিয়া।
সোমবার (১৭ আগস্ট) মাউশির মনিটরিং অ্যান্ড ইভ্যালুয়েশন উইং থেকে জারি করা পৃথক চিঠি ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য থেকে এসব বিষয় জানা গেছে।
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে মাউশির মনিটরিং অ্যান্ড ইভ্যালুয়েশন উইংয়ের পরিচালক প্রফেসর টিপু সুলতানকে আহ্বায়ক করে একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম মনিটরিং কমিটি গঠন করা হয়েছে।
মাউশির সকল পরিচালক, আঞ্চলিক পরিচালক ও অধ্যক্ষের কাছে পাঠানো এই সংক্রান্ত আদেশে জানানো হয়, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সরকারি প্রতিষ্ঠানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার সংক্রান্ত নির্দেশিকা, ২০১৯ (পরিমার্জিত সংস্করণ) এবং সরকারি আচরণবিধি দেশের সব শিক্ষা পরিবারের সদস্যদের জন্য যথাযথভাবে মেনে চলা বাধ্যতামূলক।
মাউশির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আওতাধীন কোনো শিক্ষক বা কর্মচারী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরকারের নির্দেশিকা পরিপন্থী, আপত্তিকর, অসত্য, নেতিবাচক কিংবা দাপ্তরিক শৃঙ্খলা ক্ষুণ্ন করতে পারে এমন কোনো স্ট্যাটাস, মন্তব্য, ছবি, ভিডিও বা কনটেন্ট প্রকাশ কিংবা প্রচার করলে তা নজরে আসার সঙ্গে সঙ্গে সংরক্ষণ করতে হবে। এরপর অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নির্দিষ্ট ইমেইলের মাধ্যমে (director.mew@gmail.com) মনিটরিং কমিটির আহ্বায়কের কাছে তথ্য পাঠাতে হবে।
অভিযোগ বা তথ্য পাঠানোর ক্ষেত্রে যে বিষয়গুলো আবশ্যিকভাবে বিবেচনা করতে হবে:
- সংশ্লিষ্ট শিক্ষক বা কর্মকর্তার নাম, পদবি ও বর্তমান কর্মস্থল।
- সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নাম এবং সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্ট বা প্রোফাইলের সরাসরি লিংক।
- আপত্তিকর পোস্ট বা স্ট্যাটাস প্রকাশের নির্দিষ্ট তারিখ ও সময়।
- সংশ্লিষ্ট পোস্ট বা স্ট্যাটাসের স্পষ্ট স্ক্রিনশট এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক ডিজিটাল প্রমাণাদি।
আরও পড়ুন: মানোন্নয়নে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মাউশির জরুরি নির্দেশনা
শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের মতে, সাইবার দুনিয়ায় শিক্ষকদের পেশাগত মর্যাদা রক্ষা এবং দাপ্তরিক গোপনীয়তা বজায় রাখতেই এই প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে শিক্ষক সমাজকে দলীয় বা রাজনৈতিক উসকানিমূলক ও বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট শেয়ার করা থেকে বিরত রাখা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এদিকে দেশের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের কাঙ্ক্ষিত বদলি বা ট্রান্সফার প্রক্রিয়া অবশেষে আলোর মুখ দেখছে।
মাউশির নির্ভরযোগ্য সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, আগামী বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) আনুষ্ঠানিকভাবে শিক্ষকদের বদলির বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে। এর আগে মঙ্গলবার খসড়া বিজ্ঞপ্তিটি চূড়ান্ত অনুমোদন লাভ করবে। অনুমোদনের পর নির্ধারিত সময়ের আগেই মাউশির অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে বিজ্ঞপ্তিটি আপলোড করা হতে পারে।
বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পরদিন অর্থাৎ আগামী ২১ আগস্ট থেকে অনলাইনে বদলি আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে, যা চলবে ২৭ আগস্ট পর্যন্ত। শিক্ষকরা এই স্বল্প সময়ের মধ্যে নির্ধারিত নিয়মে আবেদন সম্পন্ন করতে পারবেন বলে জানা গেছে।
বদলির প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার আগে অনেক শিক্ষক এখনো প্রয়োজনীয় ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড হাতে পাননি বলে ব্যাপক অভিযোগ উঠেছে। এই কারিগরি জটিলতা ও সংকট নিরসনে মাউশিতে একটি উচ্চপর্যায়ের জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় মাউশির সাবেক উপপরিচালক ইউনুছ ফারুকি এবং কারিগরি সহায়তা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান টেলিটকের উর্ধ্বতন প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় এই সমস্যার স্থায়ী সমাধানে মূলত দুটি বিকল্প উপায় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়:
১. একটি বিশেষ গুগল ফরমের মাধ্যমে ভুক্তভোগী ও আইডি বঞ্চিত শিক্ষকদের সঠিক তথ্য সংগ্রহ করা।
২. সরাসরি জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়ে সংশ্লিষ্ট জেলার শিক্ষকদের প্রয়োজনীয় ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড পাঠিয়ে দেওয়া।
সভায় আলোচনার ভিত্তিতে এই দুটির যেকোনো একটি কার্যকর পদ্ধতি বেছে নিয়ে দ্রুততম সময়ের মধ্যে আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা জারি করবে মাউশি অধিদপ্তর। এর ফলে আইডি না পাওয়া শিক্ষকদের দুশ্চিন্তা দূর হবে এবং নির্ধারিত সময়েই সবাই বদলি প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পারবেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








