মানোন্নয়নে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মাউশির জরুরি নির্দেশনা
ফাইল ছবি
দেশের সব স্কুল ও কলেজে শিক্ষার মানোন্নয়ন, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামগ্রিক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে মনিটরিং কার্যক্রম আরও জোরদার করার জন্য মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের কঠোর নির্দেশ দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) মাউশি অধিদপ্তরের সাধারণ প্রশাসন শাখা থেকে জারি করা এক বিশেষ আদেশে এই নির্দেশনা প্রদান করা হয়।
সরকারের শিক্ষাখাতে সংস্কারের অংশ হিসেবে এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে সুশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
মাউশির সাম্প্রতিক এই আদেশে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর দৈনন্দিন কার্যক্রমের ওপর তদারকি বাড়াতে স্পষ্ট কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। এতে মাউশির মনিটরিং অ্যান্ড ইভ্যালুয়েশন উইংয়ের পরিচালক, দেশের সকল অঞ্চলের পরিচালক ও উপ-পরিচালক, জেলা শিক্ষা অফিসার এবং উপজেলা ও থানা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারদের সরাসরি সম্পৃক্ত করা হয়েছে।
আদেশে বলা হয়েছে, মাঠপর্যায়ে কর্মরত এসব কর্মকর্তাদের নিজ নিজ আওতাধীন প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত সরেজমিন পরিদর্শন নিশ্চিত করতে হবে। শুধুমাত্র দাপ্তরিক কাগজপত্রের প্রতিবেদনের ওপর নির্ভর না করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার পরিবেশ, পাঠদানের গুণগত মান এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতার বাস্তব চিত্র যাচাই করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: ১০ বোর্ডে পরীক্ষা, রাজধানীতে লংমার্চ ঘোষণা
শিক্ষামন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক সময়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রশাসনিক শিথিলতা এবং স্বচ্ছতার অভাব নিয়ে বিভিন্ন মহল থেকে অভিযোগ উত্থাপিত হচ্ছিল। এই প্রেক্ষাপটে মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে জবাবদিহিতা কাঠামো শক্তিশালী করার বিকল্প নেই।
নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা শুধুমাত্র প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব নয়, বরং তা নিয়মিত মনিটরিংয়ের আওতায় আনতে হবে। কোনো প্রতিষ্ঠানে অনিয়ম বা অব্যবস্থাপনার প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বলা হয়েছে। এছাড়া নিয়মিত পরিদর্শন শেষে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের ঊর্ধ্বতন দপ্তরে বিশদ প্রতিবেদন জমা দিতে হবে, যাতে কেন্দ্রীয় পর্যায় থেকে পুরো দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার একটি স্বচ্ছ চিত্র পাওয়া সম্ভব হয়।
শিক্ষাবিদদের মতে, কেবল নির্দেশনা জারি করলেই হবে না, এর যথাযথ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে পরিদর্শক কর্মকর্তাদের নিরপেক্ষতা বজায় রাখা জরুরি। মাউশির এই উদ্যোগ সফল হলে বিদ্যালয় ও কলেজগুলোতে শিক্ষার পরিবেশের পাশাপাশি প্রশাসনিক কার্যক্রমে গতিশীলতা ফিরবে বলে আশা করা হচ্ছে।
মূলত, শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করে স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণের লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছানোর অংশ হিসেবেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জবাবদিহিতার এই নতুন বলয় তৈরি করছে শিক্ষা অধিদপ্তর। আগামী দিনগুলোতে মাঠপর্যায়ে পরিদর্শনের হার বৃদ্ধির পাশাপাশি প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের পারফরম্যান্স সূচক পর্যবেক্ষণ করা হবে বলেও অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








