আন্তর্জাতিক ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ২১:১৯, ১৭ আগস্ট ২০২৬

হরমুজ ইস্যুতে ওমানকে বোমা হামলার হুমকি ট্রাম্পের

হরমুজ ইস্যুতে ওমানকে বোমা হামলার হুমকি ট্রাম্পের

ফাইল ছবি

বিশ্ব অর্থনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ এবং ওমান-ইরান সমঝোতা প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে নতুন করে চরম উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। কৌশলগত এই জলপথ পুনরায় চালুর উদ্যোগ ও আঞ্চলিক কূটমালায় বাধা সৃষ্টি করলে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ওমানের ওপর ব্যাপক বোমা হামলা চালানোর সরাসরি হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে তিনি তেহরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) সঙ্গে ওয়াশিংটনের গোপন যোগাযোগের কথা স্বীকার করেছেন এবং ইরানকে আত্মসমর্পণের সাদা পতাকা তোলার আহ্বান জানিয়েছেন।

সোমবার (১৭ আগস্ট) মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজের সাংবাদিক ট্রে ইংস্টকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট এই কঠোর হুশিয়ারি উচ্চারণ করেন। সাম্প্রতিক বৈশ্বিক রাজনৈতিক ও ভূকৌশলগত প্রেক্ষাপটে ট্রাম্পের এই মন্তব্য মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

বিশ্ব বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহের প্রধান ধমনী হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর বিষয়ে সম্প্রতি ওমান ও ইরানের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় সমঝোতা ও যৌথ উদ্যোগের ঘোষণা আসে। দীর্ঘ টানাপোড়েনের পর প্রণালিটির মধ্য দিয়ে নিরাপদ নৌ-চলাচল নিশ্চিত করতে এই দুই দেশের আলোচনা বেশ দূর গড়ায়। তবে ওয়াশিংটন ও তেহরানের পৃথক কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মাঝখানে এই আঞ্চলিক সমঝোতা প্রক্রিয়াটি মার্কিন প্রশাসনের একাংশের অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

ওমান ও ইরানের এই যৌথ উদ্যোগের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে অত্যন্ত ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্ট ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ওমান যদি যুক্তরাষ্ট্র ও মিত্রদের কৌশলগত পদক্ষেপে কোনো ধরনের বাধা সৃষ্টি করে, তবে দেশটির ওপর ধ্বংসাত্মক ও ব্যাপক বোমা বর্ষণ করা হবে। এর আগে ট্রাম্প হরমুজ প্রণালিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড হিসেবে ঘোষণা করার হুমকি দিয়ে বলেছিলেন যে, ইরানকে সম্পূর্ণ পরাস্ত করার পর এই জলপথের একক নিয়ন্ত্রণ যুক্তরাষ্ট্রের অধীনে নেওয়া হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, গত জুনে মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে ইরানের একটি প্রাথমিক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হলেও তেহরানের কট্টরপন্থি নেতৃত্ব এটিকে দীর্ঘমেয়াদি শান্তির বদলে কেবল একটি কৌশলগত বিরতি হিসেবে গ্রহণ করেছিল। 

গোয়েন্দা ও কংগ্রেসনাল রিপোর্ট অনুযায়ী, ইরানের নীতিনির্ধারকরা এই সময়টিকে বৈশ্বিক চাপ কমানো এবং বড় ধরনের সংঘাতের প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করেছে। ফলে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে বড় সংঘাতের শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প দাবি করেন, বাহ্যিক বৈরিতা ও উত্তেজনার আড়ালে ওয়াশিংটনের সঙ্গে তেহরানের পর্দার অন্তরালে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। 

আরও পড়ুন: রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে মিয়ানমারের নতুন বার্তা

তিনি জানান, ইরানের ক্ষমতাধর সামরিক বাহিনী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) সঙ্গে মার্কিন প্রশাসনের একটি সক্রিয় ব্যাকচ্যানেল বা গোপন যোগাযোগের পথ রয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা নিয়মিত সরাসরি কথা বলছেন।

বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতি ও সংকটের বিষয়ে ইরানকে কঠোর বার্তা দিয়ে ট্রাম্প বলেন, তেহরানের বর্তমান নীতিনির্ধারকদের উচিত অবিলম্বে সাদা পতাকা তুলে আত্মসমর্পণ করা। 

তিনি মন্তব্য করেন যে, ইরানিরা ভালো পোকার খেলোয়াড় হওয়ার ভান করলেও বর্তমান বাস্তবতায় তারা চরম অর্থনৈতিক ও সামরিক সংকটের মুখে নিপতিত হয়েছে।

এদিকে ইরানের অভ্যন্তরেও যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কোনো কমতি নেই। তেহরানের পক্ষ থেকে সম্প্রতি ঘোষণা করা হয়েছে যে, মার্কিন কোনো সেনাকে বন্দি বা হত্যা করতে পারলে ৩০ হাজার মার্কিন ডলার পুরস্কার দেওয়া হবে এবং নারী হামলাকারীদের ক্ষেত্রে এই পুরস্কারের পরিমাণ দ্বিগুণ করা হবে। সেনাপ্রধান আমির হাতামির বরাত দিয়ে রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আইআরএনএ এই তথ্য জানিয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক যুদ্ধ পরিস্থিতির কথা বলতে গিয়ে ট্রাম্প গাজায় ইসরায়েলি সামরিক আগ্রাসন বন্ধ করার ওপর জোর দেন। 

তিনি জানান, ট্রাম্প প্রশাসনের শীর্ষ সহযোগী ও তার জামাতা জ্যারেড কুশনার সম্প্রতি ইসরায়েলি এবং ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসের কর্মকর্তাদের সঙ্গে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেছেন।

ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী, মার্কিন প্রশাসনের নিজস্ব শান্তি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে হামাস ইতিমধ্যে অস্ত্র সমর্পণ বা ত্যাগের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। ফিলিস্তিনি এই সংগঠনের সঙ্গেও যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব যোগাযোগের আলাদা পথ রয়েছে বলে জানান তিনি। তবে মধ্যপ্রাচ্যের এই দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত বা যুদ্ধ সমাপ্তির ক্ষেত্রে তাঁর কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা বা কৃত্রিম তাড়াহুড়ো নেই বলেও স্পষ্ট করে দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

ভূরাজনীতির এই জটিল মারপ্যাঁচ এবং হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে মার্কিন প্রেসিডেন্টের সাম্প্রতিক এই সামরিক হুমকির ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম ও বৈশ্বিক সাপ্লাই চেইনে নতুন করে বড় ধরনের অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির আশঙ্কা করছেন আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতিবিদরা।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়