‘প্রাইভেট টিউশনে অতিরিক্ত নির্ভরতা মহামারি আকার ধারণ করেছে’
ছবি: সংগৃহীত
দেশে প্রাইভেট টিউশন বা কোচিংয়ের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা এক প্রকার মহামারি আকার ধারণ করেছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।
তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন যে, শ্রেণিকক্ষের বাইরে অতিরিক্ত প্রাইভেট ও কোচিংমুখিতার কারণে সাধারণ শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ের মূল পাঠদান ও প্রয়োজনীয় শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তাই শিক্ষার্থীদের কোচিংয়ের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বিদ্যালয়ের ভেতরেই মানসম্মত ও প্রয়োজনীয় পাঠদান এবং শিক্ষা নিশ্চিত করার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্বারোপ করা হচ্ছে।
রবিবার (০৯ আগস্ট) সকালে রাজধানী ঢাকার হোটেল শেরাটনে ইউনিসেফ আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে দেশের শিক্ষাব্যবস্থার বর্তমান সংকট, শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়ন এবং আগামীদিনের সুদূরপ্রসারী কর্মপরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
প্রতিমন্ত্রী তার বক্তব্যে জানান, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দেশের পুরো শিক্ষাব্যবস্থায় একটি দৃশ্যমান ও টেকসই পরিবর্তন আনা হবে।
তবে রাতারাতি বা খুব অল্প সময়ে শিক্ষায় বড় পরিবর্তন আনা সম্ভব নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, শিক্ষা কোনো পোশাক পরিবর্তনের মতো বিষয় নয়; এটি একটি পূর্ণাঙ্গ রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা। তাই সঠিক পরিকল্পনা, তথ্যনির্ভর সিদ্ধান্ত এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সম্মিলিত মতামতের ভিত্তিতে এই লক্ষ্য অর্জনে কাজ করছে সরকার। এই রূপরেখার মূল ভিত্তি হিসেবে প্রাথমিক শিক্ষার ভিত মজবুত করা, কর্মমুখী শিক্ষার প্রসার এবং শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক সর্বাঙ্গীন বিকাশকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
আরও পড়ুন: শিক্ষায় আসছে বড় পরিবর্তন, যুক্ত হবে এআই প্রযুক্তি: প্রতিমন্ত্রী
প্রাথমিক শিক্ষার বর্তমান চিত্র তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, দুঃখজনক হলেও সত্যি যে, অনেক শিক্ষার্থী প্রাথমিক শিক্ষা সমাপ্ত করার পরও বাংলা ও ইংরেজির মতো মৌলিক বিষয়গুলো ঠিকভাবে আয়ত্ত করতে পারছে না।
রিমিডিয়াল এডুকেশন বা পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের জন্য অতিরিক্ত সহায়তামূলক শিক্ষার ওপর জোর দিয়ে তিনি জানান, অনেক সময় পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীও প্রথম বা দ্বিতীয় শ্রেণির মৌলিক পাঠে দুর্বল থেকে যায়, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়। এই শিখন ঘাটতি ও ফাউন্ডেশনাল লার্নিংয়ের দুর্বলতা দূর করতে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
ভবিষ্যতের আধুনিক ও চতুর্থ শিল্পবিপ্লব উপযোগী শিক্ষাব্যবস্থা গড়তে শিক্ষাকে আরও বেশি কর্মমুখী ও প্রযুক্তিভিত্তিক করার ওপর জোর দেন ববি হাজ্জাজ। এর অংশ হিসেবে দেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে ধাপে ধাপে ম্যাথ ল্যাব বা গণিত ল্যাব প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে প্রাথমিক স্তর থেকেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে গণিতভীতি দূর করে যৌক্তিক চিন্তাশক্তি, স্টেম (STEM) শিক্ষা এবং সমস্যা সমাধানের দক্ষতা বৃদ্ধি করা হবে। এর আগে জাপানের ওসাকায় অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী এবং জাইকার সঙ্গে বৈঠকেও প্রাথমিক শিক্ষায় গণিত ও বিজ্ঞান শিক্ষাকে আনন্দময় ও প্রযুক্তিনির্বর করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছিলেন তিনি।
প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের সুস্থ শারীরিক ও মানসিক বিকাশের ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থাকে কেবল পাঠ্যপুস্তকনির্ভর রাখলে চলবে না। শিক্ষার্থীদের সার্বিক বিকাশের জন্য প্রাথমিক ও মাধ্যমিক উভয় পর্যায়েই খেলাধুলাকে বাধ্যতামূলক করার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। খেলাধুলা এবং সাংস্কৃতিক চর্চাকে শিক্ষার একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে গড়ে তোলার মাধ্যমে আগামী প্রজন্মকে আরও সৃজনশীল ও শৃঙ্খলাবদ্ধ নাগরিক হিসেবে তৈরি করা হবে বলে জানান তিনি।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








