আন্তর্জাতিক ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১২:২৬, ৯ আগস্ট ২০২৬

দায়িত্ব নিয়েই জোড়া বোমা হামলার মুখে কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট

দায়িত্ব নিয়েই জোড়া বোমা হামলার মুখে কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট

ছবি: সংগৃহীত

কট্টর ডানপন্থি নেতা আবেলার্দো দে লা এসপ্রিয়েলা কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র এক দিনের মাথায় দেশটির দুই প্রান্তে পৃথক বোমা হামলার ঘটনা ঘটেছে। 

শনিবার (০৮ আগস্ট) দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কাউকা বিভাগে প্যান-আমেরিকান মহাসড়কের একটি টোল প্লাজায় গাড়িবোমা বিস্ফোরণে দুই নিরাপত্তাকর্মী আহত হয়েছেন। একই দিনে দেশটির উত্তরাঞ্চলীয় সেসার প্রদেশে বিস্ফোরকবাহী ড্রোন দিয়ে একটি পুলিশ স্টেশনে হামলায় এক পুলিশ কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। নতুন সরকারের প্রথম দিনেই এসব হামলা দেশটির দীর্ঘদিনের সশস্ত্র সংঘাত, মাদকপাচার ও বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে দে লা এসপ্রিয়েলার ঘোষিত কঠোর নিরাপত্তানীতির সামনে বাস্তব চ্যালেঞ্জটি আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।

শুক্রবার (০৭ আগস্ট) দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর ক্যালিতে ঐতিহ্য ভেঙে রাজধানী বোগোতার বাইরে প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেন ৪৮ বছর বয়সী আইনজীবী ও ব্যবসায়ী দে লা এসপ্রিয়েলা। আধুনিক কলম্বিয়ার ইতিহাসে তিনিই প্রথম প্রেসিডেন্ট, যিনি রাজধানীর কংগ্রেস ভবনের পরিবর্তে অন্য কোনো স্থানে শপথ নিয়েছেন। শপথের পর পিচিনচা ব্যাটালিয়ন সামরিক ঘাঁটিতে দেওয়া প্রায় ৭৫ মিনিটের ভাষণে তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠী ও মাদকপাচারকারীদের বিরুদ্ধে আপসহীন অবস্থান ঘোষণা করেন। 

তার ভাষায়, অপরাধী ও নার্কো-সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর সামনে দুটি পথ আইনের শাসনের কাছে আত্মসমর্পণ করা অথবা রাষ্ট্রের নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর প্রতিক্রিয়ার মুখোমুখি হওয়া। একই সঙ্গে তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে শান্তি আলোচনার পথ সম্পূর্ণভাবে নিঃশেষ হয়ে গেছে বলেও ঘোষণা করেন।

এর পরদিন ভোরেই ক্যালির কাছাকাছি কাউকা বিভাগের সান্তান্দের দে কিলিচাও পৌরসভার মধ্য দিয়ে যাওয়া প্যান-আমেরিকান মহাসড়কের একটি টোল প্লাজায় শক্তিশালী বিস্ফোরণ ঘটে। 

কলম্বিয়ার সেনাবাহিনীর ভাষ্য অনুযায়ী, বিস্ফোরকবোঝাই একটি গাড়ি টোল প্লাজার কাছে রেখে দেওয়া হয়েছিল। 

একজন নিরাপত্তাকর্মী কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন, এক ব্যক্তি গাড়িটি রেখে মোটরসাইকেলে করে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করার পরপরই বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণে টোল প্লাজার অবকাঠামোর ক্ষতি হয় এবং গাড়িটির দগ্ধ চেসিসসহ বিভিন্ন অংশ আশপাশে ছড়িয়ে পড়ে। সেনাবাহিনী ঘটনাস্থল ঘিরে ফেলে এবং প্রশিক্ষিত কুকুর দিয়ে সেখানে আরও কোনো বিস্ফোরক রয়েছে কি না, তা তল্লাশি চালায়। হামলায় দুই নিরাপত্তাকর্মী সামান্য আহত হয়েছেন বলে সেনাবাহিনী জানিয়েছে।

কলম্বিয়ার সেনাবাহিনী প্রাথমিকভাবে এই হামলার জন্য ফার্কের দুটি বিচ্ছিন্নতাবাদী সশস্ত্র গোষ্ঠীকে দায়ী করেছে। ২০১৬ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট হুয়ান ম্যানুয়েল সান্তোসের সরকারের সঙ্গে ঐতিহাসিক শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরের পর রেভোলিউশনারি আর্মড ফোর্সেস অব কলম্বিয়া বা ফার্কের মূল সংগঠন অস্ত্র ত্যাগ করে রাজনীতিতে ফিরে আসে। তবে সংগঠনটির একটি অংশ শান্তিচুক্তি প্রত্যাখ্যান করে সশস্ত্র অবস্থান বজায় রাখে। বর্তমানে এসব বিচ্ছিন্ন গোষ্ঠীর বিভিন্ন অংশ দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে মাদকপাচার, অবৈধ খনি, চাঁদাবাজি ও ভূখণ্ড নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে সক্রিয় রয়েছে। কাউকা অঞ্চলেও ফার্কের বিচ্ছিন্নতাবাদী যোদ্ধাদের প্রভাব দীর্ঘদিনের। বিশেষ করে দেশটির মোস্ট ওয়ান্টেড গেরিলা কমান্ডার ইভান মোরোদিসকোর নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহীরা ওই অঞ্চলে সক্রিয় বলে স্থানীয় ও নিরাপত্তা সূত্রের বরাতে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে।

কাউকা গভর্নর হোর্হে অক্টাভিও গুজমান হামলাটিকে বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা হিসেবে দেখতে নারাজ। 

তার মতে, এ ধরনের হামলার পেছনে ওই অঞ্চলের ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা এবং গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন করার কৌশল কাজ করতে পারে। 

আরও পড়ুন: ১৩ সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা মিলল মোজতবা খামেনির

তিনি বলেছেন, হামলাটি একটি পদ্ধতিগত কর্মকাণ্ডের অংশ হতে পারে। প্যান-আমেরিকান মহাসড়কটি কলম্বিয়ার দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগপথ। এটি কাউকা ও ভায়েয় দেল কাউকা বিভাগকে সংযুক্ত করে এবং ক্যালির সঙ্গে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের যোগাযোগের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ফলে মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলা শুধু নিরাপত্তা নয়, বাণিজ্য ও আঞ্চলিক যোগাযোগের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।

বিস্ফোরণের তীব্রতা আশপাশের বসতিগুলোতেও আতঙ্ক ছড়িয়ে দেয়। বিস্ফোরণের শব্দ ও ধাক্কায় ঘটনাস্থলের কাছাকাছি বসবাসকারী পরিবারগুলো ঘুম থেকে উঠে পড়ে। 

স্থানীয় বাসিন্দাদের একজন জানান, বিস্ফোরণের অভিঘাতে জানালার কাচ ভেঙে ঘরের ভেতরে ছড়িয়ে পড়ে এবং পরিবারের সদস্যরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। ৬৮ বছর বয়সী স্থানীয় বাসিন্দা সোনিয়া জাপাতাও বিস্ফোরণের পর প্রচণ্ড ভয় পাওয়ার কথা জানিয়েছেন। 

স্থানীয় ফায়ার সার্ভিসকর্মী রবার্তো সান্দোভাল বলেন, হামলার পর এলাকায় আতঙ্ক ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।

কাউকার হামলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই দেশটির প্রায় এক হাজার কিলোমিটার দূরের উত্তরাঞ্চলীয় সেসার প্রদেশে ঘটে দ্বিতীয় বিস্ফোরণ। 

স্থানীয় কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, বিস্ফোরক বহনকারী একটি ড্রোন ব্যবহার করে একটি পুলিশ স্টেশনে হামলা চালানো হয়। এতে এক পুলিশ কর্মকর্তা নিহত হন। তবে এই হামলার সঙ্গে কোন সশস্ত্র গোষ্ঠী জড়িত, তাৎক্ষণিকভাবে তা নিশ্চিত করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। ফলে একই দিনে দেশের দুই ভিন্ন অঞ্চলে হামলার ঘটনা ঘটলেও দুটির মধ্যে সরাসরি সাংগঠনিক যোগসূত্র রয়েছে কি না, সে বিষয়ে এখনো কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

হামলাগুলোর পর নতুন প্রেসিডেন্ট দে লা এসপ্রিয়েলা কঠোর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বার্তায় তিনি বলেন, দেশের অবকাঠামোর ওপর হামলা মানে দেশের অগ্রগতির ওপর হামলা। দায়ীদের কোনো আশ্রয় বা ছাড় দেওয়া হবে না বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দেন। 

তার পরিবহনমন্ত্রী এলসা নোগুয়েরা বলেন, সহিংসতার সামনে কলম্বিয়া মাথা নত করবে না এবং দেশটির অঞ্চলগুলোর মধ্যে সংযোগ স্থাপনকারী অবকাঠামো ধ্বংস করতে দেওয়া হবে না। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করার কাজ শুরু হয়েছে বলে জানানো হয়।

নতুন সরকারের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের আরেকটি দৃষ্টান্তও দেখা গেছে হামলার দিন। দে লা এসপ্রিয়েলা ঘোষণা দেন, আগের সরকারের শান্তি আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ১১৭ বন্দিকে আটটি সর্বোচ্চ নিরাপত্তার কারাগারে স্থানান্তর করা হচ্ছে। 

দেশটির কারা কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, এর উদ্দেশ্য কারাগারগুলোর ওপর রাষ্ট্রের স্থায়ী নিয়ন্ত্রণ পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং কারাগারের ভেতর থেকে অপরাধী সংগঠনগুলোর কার্যক্রম পরিচালনার সক্ষমতা কমানো। সাবেক প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রোর আমলে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে সংলাপ ও সামগ্রিক শান্তি নীতির অংশ হিসেবে যেসব উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, দে লা এসপ্রিয়েলা ক্ষমতায় এসে সেগুলোর বড় অংশ থেকে সরে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

দে লা এসপ্রিয়েলার ক্ষমতায় আসা কলম্বিয়ার রাজনীতিতে বড় ধরনের ডানমুখী পরিবর্তনেরও ইঙ্গিত দিয়েছে। জুনের দ্বিতীয় দফার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তিনি বামপন্থি সাবেক প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রোর ঘনিষ্ঠ মিত্র ও প্রগতিশীল সিনেটর ইভান সেপেদাকে এক শতাংশেরও কম ব্যবধানে পরাজিত করেন। এর আগে তিনি কখনো নির্বাচিত কোনো সরকারি পদে ছিলেন না। আইনজীবী হিসেবে তার পরিচিতি ছিল মূলত ফৌজদারি মামলায় আসামিদের পক্ষে লড়াই করা এবং গণমাধ্যমে সরব উপস্থিতির জন্য। নির্বাচনী প্রচারণায় তিনি রাষ্ট্রযন্ত্র ছোট করা, সরকারি ব্যয় নিয়ন্ত্রণ, তেল ও গ্যাস খাত সম্প্রসারণ এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি দেন।

নিরাপত্তা নীতিই অবশ্য তার রাজনৈতিক কর্মসূচির কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। দে লা এসপ্রিয়েলা সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে পেত্রোর শুরু করা শান্তি আলোচনা প্রত্যাখ্যান করে সামরিক শক্তি প্রয়োগের ওপর জোর দিয়েছেন। একই সঙ্গে অবৈধ কোকা চাষ নির্মূলে বিমান থেকে রাসায়নিক ছিটানোর কর্মসূচি পুনরুজ্জীবিত করার কথা বলেছেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতিষ্ঠিত শিল্ড অব দ্য আমেরিকাস কর্মসূচিতেও কলম্বিয়াকে যুক্ত করার ঘোষণা দিয়েছেন।

ওয়াশিংটনও নতুন কলম্বীয় সরকারের কঠোর নিরাপত্তা নীতির প্রতি প্রকাশ্য সমর্থন দেখিয়েছে। 

দে লা এসপ্রিয়েলা দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানায়, কংগ্রেসের সঙ্গে সমন্বয় করে কলম্বিয়াকে প্রায় ১০০ কোটি ডলারের নিরাপত্তা সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। মাদকপাচার ও সশস্ত্র অপরাধী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে দুই দেশের যৌথ নিরাপত্তা সহযোগিতা জোরদার করাই এই প্যাকেজের অন্যতম লক্ষ্য। নির্বাচনের আগে ট্রাম্পও দে লা এসপ্রিয়েলাকে প্রকাশ্যে সমর্থন জানিয়েছিলেন।

নতুন প্রেসিডেন্ট একই সঙ্গে অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও বড় পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তিনি রাষ্ট্রের আকার সর্বোচ্চ ৪০ শতাংশ পর্যন্ত কমানোর কথা বলেছেন, সরকারি ব্যয় স্থগিত রাখার পরিকল্পনা জানিয়েছেন এবং বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়াতে করব্যবস্থা সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তেল ও গ্যাস অনুসন্ধান সম্প্রসারণ এবং দায়িত্বশীল ফ্র্যাকিংয়ের অনুমোদনের কথাও বলেছেন। তবে দেশটির কংগ্রেস বিভক্ত হওয়ায় তার অনেক পরিকল্পনা বাস্তবায়নে রাজনৈতিক সমঝোতার প্রয়োজন হবে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।

দে লা এসপ্রিয়েলার কঠোর নিরাপত্তা নীতির রাজনৈতিক অনুপ্রেরণার ক্ষেত্রে এল সালভাদরের প্রেসিডেন্ট নাইব বুকেলের মডেলও গুরুত্বপূর্ণ। কলম্বিয়ায় বড় আকারের কারাগার নির্মাণ এবং অপরাধী ও মাদকপাচারকারীদের বিরুদ্ধে ব্যাপক অভিযান পরিচালনার প্রতিশ্রুতিতে বুকেলের নীতির প্রভাব স্পষ্ট। তবে মানবাধিকারকর্মীরা দীর্ঘদিন ধরে সতর্ক করে আসছেন, নির্বিচার সামরিক অভিযান, ব্যাপক আটক এবং শক্তি প্রয়োগের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা বেসামরিক জনগণের অধিকার ক্ষুণ্ন করার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। একই সঙ্গে কলম্বিয়ার প্রত্যন্ত অঞ্চলে রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ পুনঃপ্রতিষ্ঠা কতটা দ্রুত সম্ভব হবে, সেটিও নতুন সরকারের জন্য বড় প্রশ্ন হয়ে রয়েছে।

অন্যদিকে সাবেক প্রেসিডেন্ট পেত্রো নতুন সরকারের রাজনৈতিক বিরোধিতার নেতৃত্ব দিচ্ছেন। দে লা এসপ্রিয়েলার নির্বাচনী বিজয় নিয়ে পেত্রো প্রশ্ন তুললেও দেশটির নির্বাচন কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক ফল এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের ইতিবাচক মূল্যায়নে দে লা এসপ্রিয়েলার বিজয় নিশ্চিত হয়েছে বলে এপি জানিয়েছে। ফলে নতুন সরকার একদিকে সশস্ত্র গোষ্ঠী ও মাদক কার্টেলের বিরুদ্ধে কঠোর সামরিক অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে, অন্যদিকে অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিরোধিতাও মোকাবিলা করতে হবে।

কলম্বিয়ার দীর্ঘ সশস্ত্র সংঘাতের মূল সমস্যা ২০১৬ সালের শান্তিচুক্তির পরও পুরোপুরি শেষ হয়নি। ফার্কের মূল সংগঠন নিরস্ত্র হলেও বিভিন্ন বিচ্ছিন্ন গোষ্ঠী, ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মি বা ইএলএন এবং অন্যান্য অপরাধী সংগঠন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নিজেদের প্রভাব ধরে রেখেছে। প্রত্যন্ত অঞ্চলের অবৈধ কোকা চাষ, কোকেন উৎপাদন ও পাচার, অবৈধ খনি, চাঁদাবাজি এবং স্থানীয় ভূখণ্ডের নিয়ন্ত্রণ এসব গোষ্ঠীর অর্থনৈতিক ভিত্তিকে শক্তিশালী করেছে। ফলে সরকারের কাছে শুধু সামরিক অভিযান নয়, স্থানীয় প্রশাসনের উপস্থিতি, অবকাঠামো, বিকল্প জীবিকা এবং মাদক অর্থনীতির বিরুদ্ধে দীর্ঘমেয়াদি ব্যবস্থা নেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

এই বাস্তবতার মধ্যেই প্রেসিডেন্ট হিসেবে দে লা এসপ্রিয়েলার প্রথম কর্মদিবসের শুরুতেই দেশের দুই প্রান্তে জোড়া বোমা হামলার ঘটনা ঘটল। একদিকে প্যান-আমেরিকান মহাসড়কের মতো গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোয় গাড়িবোমা হামলা, অন্যদিকে পুলিশ স্টেশনে ড্রোন হামলায় একজন কর্মকর্তার মৃত্যু দুটি ঘটনাই দেখিয়ে দিয়েছে, কলম্বিয়ার সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো এখনো রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করার সক্ষমতা রাখে। ফলে শৃঙ্খলা পুনরুদ্ধার ও নার্কো-সন্ত্রাস নির্মূলের যে প্রতিশ্রুতি দিয়ে দে লা এসপ্রিয়েলা ক্ষমতায় এসেছেন, তার বাস্তব পরীক্ষা শুরু হয়ে গেল দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম দিনেই।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়