আদিবাসী দিবস আসে, অধিকার ফেরে না
ছবি: সংগৃহীত
প্রতি বছরের মতো এবারও ৯ আগস্ট পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস ২০২৬। আদিবাসী জনগোষ্ঠীর মৌলিক অধিকার, সংস্কৃতি, ভাষা, ঐতিহ্যগত জ্ঞান সংরক্ষণ এবং তাদের জীবন-জীবিকার ওপর বিদ্যমান নানা সংকট সম্পর্কে বিশ্বব্যাপী সচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে জাতিসংঘ ১৯৯৪ সালে ৯ আগস্টকে আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। ১৯৯৪ সালে বিশ্বে প্রথমবারের মতো দিবসটি পালিত হওয়ার পর থেকে বিশ্বের কমপক্ষে ৩০ কোটি আদিবাসী আনুষ্ঠানিকভাবে এই দিনটি পালন করে আসছে।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পাশাপাশি বাংলাদেশেও নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে দিবসটি পালিত হচ্ছে। রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে পার্বত্য চট্টগ্রাম, বৃহত্তর সিলেট, ময়মনসিংহ, শেরপুর, টাঙ্গাইল এবং উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় আদিবাসী সংগঠন, সামাজিক ও মানবাধিকার সংগঠন আলোচনা সভা, শোভাযাত্রা, গণসমাবেশ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও অন্যান্য কর্মসূচি নিয়েছে। তবে উদযাপনের এই আনুষ্ঠানিকতার আড়ালে বাংলাদেশের আদিবাসী জনগোষ্ঠীর বাস্তবতা এখনো বহুমাত্রিক সংকটে আবদ্ধ পরিচয়ের স্বীকৃতি, ভূমির অধিকার, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা, নিরাপত্তা, জীবিকা, ভাষা ও সংস্কৃতি সংরক্ষণ এবং রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণে কার্যকর অংশগ্রহণের প্রশ্নগুলো বছরের পর বছর ধরে অমীমাংসিত রয়ে গেছে।
২০২৬ সালের আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবসের প্রতিপাদ্য “Honouring Indigenous Midwives: Safeguarding Life and Well-being” অর্থাৎ আদিবাসী ধাত্রীদের সম্মান জানানো: জীবন ও সুস্থতা রক্ষা করা। জাতিসংঘ এবার আদিবাসী ধাত্রীদের শুধু প্রসবকালীন সহায়তাকারী হিসেবে নয়, বরং ঐতিহ্যগত জ্ঞান, সংস্কৃতি, স্বাস্থ্যচর্চা ও আন্তঃপ্রজন্মের জ্ঞান সংরক্ষণের গুরুত্বপূর্ণ ধারক হিসেবে সামনে এনেছে।
জাতিসংঘের ভাষ্য অনুযায়ী, আদিবাসী ধাত্রীরা শারীরিক সেবার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক, আধ্যাত্মিক ও সামাজিক জ্ঞানের ধারাবাহিকতা রক্ষায় ভূমিকা রাখেন; কিন্তু অনেক জায়গায় তাদের জ্ঞান ও দক্ষতা বৈষম্য, অবমূল্যায়ন ও প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতির অভাবে ঝুঁকিতে রয়েছে। একই সঙ্গে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর মাতৃ ও শিশুসেবায় বৈষম্য এবং সাংস্কৃতিকভাবে উপযোগী স্বাস্থ্যসেবার ঘাটতিও বৈশ্বিক উদ্বেগের বিষয়।
- বিশ্বের ৪৭ কোটির বেশি আদিবাসী, বাংলাদেশে সরকারি হিসাবে ১৬ লাখের বেশি
প্রতি বছর ৯ আগস্ট আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস পালনের পেছনে রয়েছে দীর্ঘ আন্তর্জাতিক আন্দোলনের ইতিহাস। ১৯৯৪ সালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ ৯ আগস্টকে আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। এর আগে ১৯৯৩ সালকে আন্তর্জাতিক আদিবাসী বর্ষ ঘোষণা করা হয়েছিল। সেই হিসাবে ২০২৬ সালে বিশ্বে দিবসটির ৩৩তম আনুষ্ঠানিক পালন হচ্ছে। বাংলাদেশে সংগঠিতভাবে দিবসটি পালনের সূচনা ২০০১ সালে বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের আত্মপ্রকাশের পর; ফলে এ বছর বাংলাদেশে ধারাবাহিকভাবে ২৬তম আয়োজন হচ্ছে এটি ১৯তম নয়, যেটি কিছু পুরোনো প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
জাতিসংঘের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের ৯০টি দেশে ৪৭ কোটি ৬০ লাখের বেশি আদিবাসী মানুষ বসবাস করেন। তারা বিশ্ব জনসংখ্যার প্রায় ৬ দশমিক ২ শতাংশ, কিন্তু বিশ্বের সবচেয়ে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর মধ্যে তাদের অংশ প্রায় ১৫ শতাংশ। পাঁচ হাজারের বেশি স্বতন্ত্র আদিবাসী জনগোষ্ঠী বিশ্বের আনুমানিক সাত হাজার ভাষার বড় একটি অংশ ব্যবহার করে। ভূমি, বন, পানি, জীববৈচিত্র্য ও প্রাকৃতিক সম্পদের সঙ্গে তাদের ঐতিহ্যগত সম্পর্ক তাদের জীবনব্যবস্থার অন্যতম বৈশিষ্ট্য। একই সঙ্গে ভাষা, সংস্কৃতি, নিজস্ব সামাজিক কাঠামো ও ঐতিহ্যগত জ্ঞান সংরক্ষণের ক্ষেত্রে তারা বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক সম্পদের ধারক।
বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও সরকারি ও বেসরকারি হিসাবের মধ্যে বড় পার্থক্য রয়েছে। ২০২৬ সালের জুনে জাতীয় সংসদে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী জানান, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান আইন, ২০১০-এর তফসিল অনুযায়ী দেশে গেজেটভুক্ত ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সংখ্যা ৫০টি। ২০২২ সালের জনশুমারির প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে এসব জনগোষ্ঠীর মোট জনসংখ্যা প্রায় ১৬ লাখ ৫০ হাজার। এর মধ্যে চাকমা ৪ লাখ ৮৩ হাজার ২৯৯, মারমা ২ লাখ ২৪ হাজার ২৬১, ত্রিপুরা ১ লাখ ৫৬ হাজার ৫৭৮ এবং সাঁওতাল ১ লাখ ২৯ হাজার ৪৯ জন। সবচেয়ে বেশি জাতিগোষ্ঠীর মানুষ বাস করেন চট্টগ্রাম বিভাগে; রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানেও তাদের বড় অংশের বসবাস।
অন্যদিকে বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামসহ বিভিন্ন সংগঠন দেশে ৫০টির বেশি জনগোষ্ঠী এবং প্রায় ৪০ থেকে ৫০ লাখ আদিবাসী মানুষের বসবাসের দাবি করে থাকে। ফলে জনসংখ্যার হিসাব নিয়ে সরকারি ও সংগঠনভিত্তিক পরিসংখ্যানের মধ্যে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য রয়েছে। সংবাদ প্রতিবেদনে এ দুই ধরনের হিসাবকে একই অর্থে ব্যবহার না করে সূত্রভেদে আলাদা করে দেখা জরুরি।
- আদিবাসী না ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী পরিচয়ের প্রশ্নেই বিতর্ক
বাংলাদেশে আদিবাসী পরিচয়ের সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী বিতর্কটি রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক। সংবিধানের ২৩(ক) অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রকে tribes, minor races, ethnic sects and communities-এর স্বতন্ত্র স্থানীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও উন্নয়নের জন্য ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। অর্থাৎ সংবিধানে আদিবাসী শব্দটি নেই; একইভাবে আদিবাসী শব্দটি পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধান থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে এমন বক্তব্যও সঠিক নয়। বরং পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে ২৩(ক) অনুচ্ছেদের বর্তমান কাঠামো যুক্ত হয়।
এই সাংবিধানিক পরিভাষা নিয়েই আদিবাসী সংগঠনগুলোর আপত্তি। তাদের দাবি, উপজাতি বা ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী পরিচয়ের পরিবর্তে রাষ্ট্রীয়ভাবে আদিবাসী শব্দের স্বীকৃতি দিতে হবে। তাদের যুক্তি, পরিচয় শুধু প্রশাসনিক শ্রেণিবিন্যাসের বিষয় নয়; এর সঙ্গে ভূমি, ইতিহাস, সংস্কৃতি, ভাষা, রাজনৈতিক অধিকার ও আত্মপরিচয়ের প্রশ্ন জড়িত।
অন্যদিকে সরকারি নথি ও আইনগত ব্যবস্থায় বর্তমানে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী পরিভাষাই ব্যবহৃত হচ্ছে এবং ২০২৬ সালের সরকারি তথ্যেও ৫০টি গেজেটভুক্ত ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর কথা বলা হয়েছে।
এই পরিচয়-সংক্রান্ত বিতর্কের সঙ্গে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবতা যুক্ত হয়েছে বাংলাদেশের বহু আদিবাসী ভাষা এখন ঝুঁকিতে। সাম্প্রতিক ভাষাবিষয়ক গবেষণায় দেশের প্রায় ৪০টি সংখ্যালঘু ভাষার অস্তিত্বের কথা উঠে এসেছে, যার অন্তত ১৪টি ভাষাকে বিপন্ন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ফলে ভাষা রক্ষার প্রশ্নটি শুধু সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের বিষয় নয়; এটি প্রজন্মান্তরে একটি জনগোষ্ঠীর জ্ঞান, ইতিহাস ও সামাজিক পরিচয় টিকিয়ে রাখার প্রশ্নও।
- পাহাড়ে ২৮ বছরেও মেলেনি ভূমির নিশ্চয়তা
বাংলাদেশের আদিবাসী জনগোষ্ঠীর অধিকার প্রশ্নে সবচেয়ে জটিল অধ্যায় পার্বত্য চট্টগ্রাম। ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর তৎকালীন সরকার ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির মধ্যে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য ছিল পাহাড়ের রাজনৈতিক ও সামাজিক সংকটের অবসান, ভূমি-সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তি, শরণার্থী ও অভ্যন্তরীণ উদ্বাস্তুদের পুনর্বাসন এবং পার্বত্য জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্যগত ভূমি অধিকার প্রতিষ্ঠা। কিন্তু চুক্তির ২৮ বছরের বেশি সময় পরও ভূমি বিরোধের পূর্ণাঙ্গ নিষ্পত্তি হয়নি বলে পাহাড়ের বিভিন্ন পক্ষের অভিযোগ।
রাঙামাটির লংগদুর ঘনমোড় মৌজার শিলকাটা গ্রামের জ্ঞান লাল চাকমার ঘটনা এই সংকটের একটি উদাহরণ। ২০১৬ সালের ১৭ অক্টোবর তিনি পাঁচ একর বসতভিটা ফেরত পাওয়ার দাবিতে পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশনে আবেদন করেন। তার দাবি করা জমিতে বর্তমানে পুনর্বাসিত লোকজন বসবাস করছেন। বিরোধের নিষ্পত্তি না হওয়ায় তিনি পরিবার নিয়ে অন্যের জমিতে বসবাস করছেন। একইভাবে খাগড়াছড়ির দীঘিনালা থেকে ন্যালশন চাকমা সংঘাতের সময় ভারতে আশ্রয় নেওয়ার পর নিজ এলাকায় ফিরলেও নিজের জমিজমা ফেরত পাননি বলে অভিযোগ করেছেন। বর্তমানে পরিবার নিয়ে সাজেকের বাঘাইহাট এলাকায় উদ্বাস্তুসদৃশ জীবন কাটাচ্ছেন তিনি।
পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন গঠন করা হয়েছিল এই সমস্যার প্রাতিষ্ঠানিক সমাধানের উদ্দেশ্যে। ১৯৯৯ সালে কমিশন গঠনের পর এর আইনি কাঠামো সংশোধন করতে দীর্ঘ সময় লেগেছে এবং ২০১৬ সালে সংশোধিত আইন পাস হয়। এরপরও কমিশনের কার্যকারিতা নিয়ে পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর মধ্যে হতাশা রয়েছে। কমিশনের চেয়ারম্যান পদে একাধিকবার পরিবর্তন হলেও বিপুলসংখ্যক ভূমি বিরোধের কার্যকর নিষ্পত্তি এখনো সম্ভব হয়নি বলে সংশ্লিষ্টরা দাবি করছেন।
ভারতফেরত শরণার্থী ও অভ্যন্তরীণ উদ্বাস্তুদের পুনর্বাসনও একই সংকটের অংশ। পার্বত্য চুক্তির পর ভারত থেকে ফিরে আসা শরণার্থী ও অভ্যন্তরীণ উদ্বাস্তুদের চিহ্নিত ও পুনর্বাসনের জন্য টাস্কফোর্স গঠন করা হয়।
সংশ্লিষ্টদের দাবি, ভারত থেকে প্রত্যাগত প্রায় ৩৭ হাজার পরিবারকে প্যাকেজের মাধ্যমে ফিরিয়ে আনা হলেও অনেক পরিবার এখনো তাদের পুরোনো বসতভিটা বা জমি ফিরে পায়নি। অভ্যন্তরীণ উদ্বাস্তুদের ক্ষেত্রেও দীর্ঘদিন ধরে তালিকা, যাচাই ও পুনর্বাসন প্রক্রিয়া অমীমাংসিত রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে চুক্তির অন্যতম মৌলিক উদ্দেশ্য ভূমি ও বসতভিটা নিয়ে দীর্ঘস্থায়ী অনিশ্চয়তার অবসান এখনো পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি বলে পাহাড়ের বিভিন্ন সংগঠনের অভিযোগ।
- নিনে কায়ুআন তাল্লাচা: সীমান্তের খলচান্দায় কোচদের জীবন
পাহাড়ের পাশাপাশি সমতলের আদিবাসী জনগোষ্ঠীর বাস্তবতাও কম কঠিন নয়। শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার পোড়াগাঁও ইউনিয়নের সীমান্তঘেঁষা খলচান্দা গ্রামের কোচ সম্প্রদায়ের প্রায় ৭০ পরিবার দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা, চিকিৎসা, যোগাযোগ ও জীবিকার নানা সংকটে বসবাস করছে। ৬৮ বছর বয়সী সতীশ কোচের বক্তব্যে সেই বাস্তবতারই প্রতিফলন। নিজের ২৫ শতাংশ জমি থাকার পরও বুনো হাতির তাণ্ডবে বছরের পর বছর ফসল ঘরে তুলতে না পেরে এবার তিনি জমিতে আবাদই করেননি।
তার ভাষায়, নিনে কায়ুআন তাল্লাচা কেউ আমাদের খোঁজখবর নেয় না।
খলচান্দার ভৌগোলিক বিচ্ছিন্নতা তাদের সংকটকে আরও তীব্র করেছে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, গ্রামের কেউ অসুস্থ হলে প্রায় চার কিলোমিটার দূরের বারোমারি বাজার থেকে ভ্যান বা অটোরিকশা আনতে হয়; এরপর প্রায় ১৭ কিলোমিটার দূরের উপজেলা হাসপাতালে নিতে হয়। ফলে জরুরি চিকিৎসা অনেক পরিবারের নাগালের বাইরে চলে যায়। শিশুদের শিক্ষার ক্ষেত্রেও একই ধরনের সমস্যা রয়েছে। সীমান্তবর্তী দুর্গম এলাকার কারণে নিয়মিত বিদ্যালয়ে যাতায়াত কঠিন, আর দারিদ্র্য ও অনিশ্চিত জীবিকার কারণে অনেক শিশুর পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যায়।
ট্রাইবাল ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি কোপেন্দ্র নকরেকের মতে, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সমস্যা শুধু সুযোগ-সুবিধার ঘাটতিতে সীমাবদ্ধ নয়; তাদের অস্তিত্ব ও অধিকারও সংকটে। তিনি সাংবিধানিক স্বীকৃতির পাশাপাশি পৃথক ভূমি কমিশনের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন। গারো পাহাড় বন্য প্রাণী ও নদী রক্ষা পরিষদের উপদেষ্টা বিপ্লব দে কেটু দুর্গম যোগাযোগ, শিক্ষা-চিকিৎসার সংকট ও বুনো হাতির আতঙ্ককে খলচান্দার কোচদের প্রধান সমস্যাগুলোর মধ্যে উল্লেখ করেছেন। স্থানীয় সংসদ সদস্য ফাহিম চৌধুরীও যোগাযোগব্যবস্থার দুরবস্থার কথা স্বীকার করে বর্ষা শেষে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।
এই ঘটনাটি দেখিয়ে দেয়, সমতলের আদিবাসী জনগোষ্ঠীর সংকট সব সময় ভূমি দখল বা পরিচয়ের রাজনীতিতে সীমাবদ্ধ নয়। কোথাও বন ও বন্য প্রাণীর সঙ্গে সংঘাত, কোথাও রাস্তা ও হাসপাতালের দূরত্ব, কোথাও শিক্ষা থেকে ঝরে পড়া, আবার কোথাও কৃষিজমি ও জীবিকার অনিশ্চয়তা সব মিলিয়ে তাদের বঞ্চনার ধরন অঞ্চলভেদে আলাদা।
আরও পড়ুন: জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস আজ, দেশজুড়ে নানা কর্মসূচি
- প্রকৃতি, ভূমি ও জীবিকা একই সুতোয় বাঁধা
বাংলাদেশের আদিবাসী জনগোষ্ঠীর জীবন ও প্রকৃতির সম্পর্ক বহু পুরোনো। পাহাড়, বন, নদী, ঝরনা, জলাশয় ও কৃষিজমি তাদের কাছে কেবল অর্থনৈতিক সম্পদ নয়; এগুলো একই সঙ্গে সামাজিক সম্পর্ক, সংস্কৃতি, খাদ্যব্যবস্থা, চিকিৎসা, ধর্মীয় বিশ্বাস, পারিবারিক ঐতিহ্য ও পরিচয়ের অংশ। খাসিয়াদের পানচাষ, পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর জুমচাষ, গারো ও হাজংদের কৃষি, বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর বনজ সম্পদনির্ভর জীবন, ঐতিহ্যগত ভেষজ চিকিৎসা কিংবা নদী-জলাশয়কেন্দ্রিক জীবিকা সবকিছুর সঙ্গে পরিবেশের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বন উজাড়, ভূমি ব্যবহার পরিবর্তন, জলাশয় সংকোচন, পর্যটন অবকাঠামো, উন্নয়ন প্রকল্প, কৃষিজমির রূপান্তর এবং ভূমি-সংক্রান্ত বিরোধ নিয়ে আদিবাসী সংগঠনগুলো উদ্বেগ জানিয়ে আসছে।
তাদের বক্তব্য, প্রকৃতি ও ভূমি থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়লে শুধু একটি পরিবারের আয় কমে না; একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত হয় ভাষা, খাদ্যসংস্কৃতি, ঐতিহ্যগত জ্ঞান, সামাজিক সম্পর্ক ও প্রজন্মান্তরের জীবনব্যবস্থা।
২০২৬ সালের জাতিসংঘের প্রতিপাদ্যের সঙ্গেও এই বিষয়টির গভীর সম্পর্ক রয়েছে। আদিবাসী ধাত্রীদের ঐতিহ্যগত জ্ঞান আসলে একটি জনগোষ্ঠীর বৃহত্তর জ্ঞানব্যবস্থার অংশ যেখানে উদ্ভিদ, খাদ্য, মাতৃস্বাস্থ্য, শিশু পরিচর্যা, স্থানীয় পরিবেশ এবং সামাজিক সহযোগিতার জ্ঞান প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে সঞ্চারিত হয়। জাতিসংঘও বলছে, আদিবাসী ধাত্রীদের ভূমিকা স্বাস্থ্যসেবার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক ধারাবাহিকতা ও আন্তঃপ্রজন্মের জ্ঞান সংরক্ষণের সঙ্গে যুক্ত।
বাংলাদেশেও ঐতিহ্যগত স্বাস্থ্যজ্ঞান ও স্থানীয় চিকিৎসাপদ্ধতির ব্যবহার বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর মধ্যে এখনো বিদ্যমান। কিন্তু আধুনিক স্বাস্থ্যব্যবস্থার সঙ্গে এসব জ্ঞানের সম্পর্ক কী হবে, কোন জ্ঞান বৈজ্ঞানিকভাবে মূল্যায়নযোগ্য, কোনটি সংরক্ষণ করা দরকার এবং কোথায় আধুনিক চিকিৎসার সঙ্গে সমন্বয় করা সম্ভব এসব নিয়ে প্রাতিষ্ঠানিক গবেষণা ও নীতিনির্ধারণের সুযোগ এখনো সীমিত। ফলে একদিকে গ্রামীণ ও দুর্গম অঞ্চলে সাংস্কৃতিকভাবে উপযোগী স্বাস্থ্যসেবার ঘাটতি থেকে যাচ্ছে, অন্যদিকে পুরোনো জ্ঞান হারিয়ে যাওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।
- শিক্ষা-স্বাস্থ্য থেকে রাজনৈতিক অংশগ্রহণ বঞ্চনার বিস্তৃত চিত্র
আদিবাসী জনগোষ্ঠীর সমস্যাকে শুধু পাহাড়ি ভূমি বিরোধ বা সাংস্কৃতিক অধিকারের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে বাস্তব চিত্র অসম্পূর্ণ থেকে যায়। দুর্গম অঞ্চলে বিদ্যালয় ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রের স্বল্পতা, মাতৃস্বাস্থ্যসেবায় প্রবেশাধিকারের সীমাবদ্ধতা, ভাষাগত প্রতিবন্ধকতা, দারিদ্র্য, কর্মসংস্থানের সংকট এবং যোগাযোগব্যবস্থার দুর্বলতা অনেক পরিবারকে প্রজন্মের পর প্রজন্ম পিছিয়ে রাখছে। কোনো কোনো এলাকায় শিশুরা মাতৃভাষায় প্রাথমিক শিক্ষা না পাওয়ায় বিদ্যালয়ে তাদের মানিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত বাধার মুখে পড়ে। আবার দুর্গম পাহাড়ি বা সীমান্তবর্তী এলাকায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থাকলেও নিয়মিত যাতায়াতের সুযোগ না থাকায় শিক্ষার্থী ঝরে পড়ার ঝুঁকি বাড়ে।
স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে দূরত্ব একটি বড় সমস্যা। খলচান্দার মতো এলাকায় জরুরি রোগীকে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে উপজেলা হাসপাতালে নিতে হয়। পাহাড়ের অনেক দুর্গম এলাকাতেও একই ধরনের বাস্তবতা রয়েছে। বিশেষ করে গর্ভবতী নারী, নবজাতক ও শিশুদের জন্য দ্রুত চিকিৎসা পাওয়ার সুযোগ সীমিত হলে ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়। এ কারণেই ২০২৬ সালের আন্তর্জাতিক দিবসের প্রতিপাদ্যে আদিবাসী ধাত্রীদের ভূমিকা সামনে আনা বাংলাদেশের মতো দেশেও তাৎপর্যপূর্ণ। তবে ঐতিহ্যগত ধাত্রীদের স্বীকৃতি দেওয়ার অর্থ আধুনিক চিকিৎসার বিকল্প তৈরি করা নয়; বরং নিরাপদ মাতৃস্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি স্থানীয় জ্ঞান, সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপট এবং নারীদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের অধিকারকে সম্মান করা।
রাজনৈতিক অংশগ্রহণও গুরুত্বপূর্ণ। আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ভূমি, বন, নদী, পর্যটন, অবকাঠামো, শিক্ষা বা স্বাস্থ্য নিয়ে যেসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, সেসব সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট জনগোষ্ঠীর কার্যকর অংশগ্রহণ কতটা রয়েছে এ প্রশ্নের উত্তর সবসময় সন্তোষজনক নয়। তাদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত তাদের অংশগ্রহণ ছাড়া নয় এই নীতিকে কার্যকর করতে হলে স্থানীয় পর্যায় থেকে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত প্রতিনিধিত্ব, পরামর্শ ও জবাবদিহির কাঠামো শক্তিশালী করতে হবে।
- দিবসের কর্মসূচি, কিন্তু প্রশ্ন রয়ে যায় বাস্তবায়নে
আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস উপলক্ষে আজ রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের উদ্যোগে র্যালি, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। দেশের পার্বত্য তিন জেলা রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানেও বিভিন্ন সংগঠনের উদ্যোগে শোভাযাত্রা, সমাবেশ ও সাংস্কৃতিক কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। সিলেট, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, ময়মনসিংহ, শেরপুর, টাঙ্গাইল, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, খুলনা, রাজশাহী, দিনাজপুর ও রংপুরসহ বিভিন্ন এলাকায়ও দিবসটি উপলক্ষে কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। বৃহত্তর সিলেট অঞ্চলে আদিবাসী সংস্কৃতির বহুত্ব বিশেষভাবে দৃশ্যমান। ২০২৬ সালের জুনে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে আয়োজিত তিন দিনের হারমনি ফেস্টিভ্যাল-এ সিলেট বিভাগের ২৭টি আদিবাসী জনগোষ্ঠীর সংস্কৃতি, খাবার, কারুশিল্প, নৃত্য ও ঐতিহ্য তুলে ধরা হয়েছিল।
তবে প্রতিবছর দিবসটি ঘিরে আলোচনা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও অধিকার আদায়ের দাবি উঠলেও মূল প্রশ্ন থেকে যায় বাস্তবায়নে। ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তির প্রক্রিয়া কতটা দ্রুত ও কার্যকর হবে, উদ্বাস্তু পরিবারগুলো কবে তাদের জমি ফেরত পাবে, সমতলের আদিবাসীদের ভূমি রক্ষায় কী ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা হবে, বিপন্ন ভাষাগুলো কীভাবে সংরক্ষণ করা হবে, দুর্গম অঞ্চলে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা কীভাবে পৌঁছাবে এবং রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ কতটা বাড়বে এসব প্রশ্নের উত্তরই নির্ধারণ করবে দিবসটির আলোচনা কতটা বাস্তব পরিবর্তনে রূপ নেয়।
আদিবাসী জনগোষ্ঠীর অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলো দীর্ঘদিন ধরে সাংবিধানিক স্বীকৃতি, ভূমি অধিকার, পৃথক ভূমি কমিশন, শান্তিচুক্তির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন, ভাষা ও সংস্কৃতি সংরক্ষণ এবং নিরাপত্তার দাবি জানিয়ে আসছে। পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়ন এবং ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি না হওয়াকে পাহাড়ের অস্থিরতার অন্যতম কারণ হিসেবে তারা দেখছে। অন্যদিকে সরকারিভাবে ৫০টি গেজেটভুক্ত ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক অধিকার সংরক্ষণের কাঠামো বিদ্যমান থাকলেও পরিচয় ও অধিকার প্রশ্নে আরও বিস্তৃত রাজনৈতিক সমঝোতার দাবি রয়ে গেছে।
- উদযাপনের বাইরে যে অঙ্গীকার প্রয়োজন
আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবসের তাৎপর্য তাই শুধু নাচ-গান, পোশাক, খাবার বা সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য প্রদর্শনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। একটি জনগোষ্ঠীর সংস্কৃতি তখনই নিরাপদ থাকে, যখন তার ভূমি, ভাষা, জীবিকা, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, সামাজিক নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক অধিকারও নিরাপদ থাকে। কোনো জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্যকে উৎসবের মঞ্চে তুলে ধরে একই সময়ে তার বসতভিটা, বন, পাহাড়, জলাশয় বা জীবিকার ওপর অনিশ্চয়তা তৈরি হলে সেই সাংস্কৃতিক উদযাপন পূর্ণাঙ্গ হয় না।
বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো উন্নয়ন ও অধিকারকে পরস্পরের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে না দেখে সমন্বিত করা। এমন উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রয়োজন, যেখানে রাস্তা, পর্যটন, বিদ্যুৎ, কৃষি, শিল্প বা অবকাঠামো নির্মাণের আগে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ভূমি, পরিবেশ, সংস্কৃতি ও জীবিকার ওপর সম্ভাব্য প্রভাব বিবেচনা করা হবে। একই সঙ্গে স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে সিদ্ধান্ত গ্রহণের অংশীদার করতে হবে। আদিবাসী নারীদের বিশেষ করে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, ভূমি ও জীবিকা সংক্রান্ত সিদ্ধান্তে অংশগ্রহণ বাড়ানো জরুরি।
২০২৬ সালের প্রতিপাদ্যও মূলত সেই বৃহত্তর বাস্তবতার কথাই মনে করিয়ে দেয়। আদিবাসী ধাত্রীদের সম্মান করার অর্থ শুধু কয়েকজন স্থানীয় স্বাস্থ্যকর্মীর অবদানকে স্বীকৃতি দেওয়া নয়; এর মধ্য দিয়ে আদিবাসী জ্ঞানব্যবস্থা, নারীর নেতৃত্ব, সাংস্কৃতিক ধারাবাহিকতা এবং একটি জনগোষ্ঠীর নিজস্ব জীবনদর্শনের মর্যাদা দেওয়ার প্রশ্ন সামনে আসে।
জাতিসংঘও বলছে, আদিবাসী জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্য ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রগুলোর উচিত প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ, প্রশিক্ষণে বিনিয়োগ এবং সাংস্কৃতিকভাবে উপযোগী স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা।
আজকের দিনে বাংলাদেশের সামনে তাই প্রশ্ন একটাই নয় আদিবাসী শব্দটি সংবিধানে থাকবে কি না। এর চেয়েও বড় প্রশ্ন হলো, রাষ্ট্র তার সব জনগোষ্ঠীর পরিচয়, মর্যাদা, ভূমি, সংস্কৃতি ও ভবিষ্যৎকে কতটা সমান গুরুত্ব দিচ্ছে। পাহাড়ে ভূমি বিরোধ, সমতলে জমি ও জীবিকার সংকট, সীমান্তবর্তী এলাকায় চিকিৎসা ও যোগাযোগের দুরবস্থা, বিপন্ন ভাষা, শিক্ষায় বৈষম্য কিংবা ঐতিহ্যগত জ্ঞানের অবক্ষয় এসব আলাদা আলাদা সমস্যা নয়; এগুলো একই বৃহত্তর অধিকার সংকটের বিভিন্ন রূপ।
দিবস আসে, দিবস যায়। প্রতিবছর নতুন প্রতিপাদ্য সামনে আসে, সভা-সমাবেশ হয়, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়, অধিকার ও মর্যাদার কথা বলা হয়। কিন্তু সতীশ কোচের কেউ আমাদের খোঁজখবর নেয় না আক্ষেপ কিংবা নিজের জমি ফিরে না পাওয়া জ্ঞান লাল চাকমাদের বাস্তবতা বদলাতে না পারলে দিবসের আনুষ্ঠানিকতা অর্থহীন হয়ে পড়বে। আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবসের প্রকৃত সার্থকতা হবে তখনই, যখন একটি জনগোষ্ঠীকে শুধু তার সংস্কৃতির জন্য প্রশংসা করা হবে না, বরং তার ভূমি, ভাষা, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, জীবিকা, নিরাপত্তা, আত্মপরিচয় ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের অধিকারও বাস্তবে নিশ্চিত করা হবে।
একটি বহুত্ববাদী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশে উন্নয়ন মানে শুধু নতুন রাস্তা, নতুন স্থাপনা বা নতুন প্রকল্প নয়; উন্নয়ন মানে এমন একটি রাষ্ট্রব্যবস্থা, যেখানে কোনো জনগোষ্ঠী নিজের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে তার জন্মভূমি, সংস্কৃতি কিংবা প্রজন্মান্তরের জ্ঞান বিসর্জন দিতে বাধ্য হবে না। আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস ২০২৬ সেই প্রশ্নটিই আবার সামনে এনে দিয়েছে।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








