লাইফস্টাইল ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১২:১১, ৮ আগস্ট ২০২৬

প্রেশার কুকার ব্যবহারে যে ভুলগুলো বিপদ ডেকে আনতে পারে

প্রেশার কুকার ব্যবহারে যে ভুলগুলো বিপদ ডেকে আনতে পারে

ছবি: সংগৃহীত

রান্নাঘরের অন্যতম প্রয়োজনীয় ও সময় সাশ্রয়ী যন্ত্র প্রেশার কুকার। তবে সামান্য অসাবধানতা বা কিছু ভুল ব্যবহারের কারণে এই প্রয়োজনীয় যন্ত্রই বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে।

প্রেশার কুকার বিস্ফোরণের অনেক ঘটনা যান্ত্রিক ত্রুটির পাশাপাশি ব্যবহারকারীর অসাবধানতা ও ভুল ব্যবহারের কারণেও ঘটে। তাই দুর্ঘটনা এড়াতে প্রেশার কুকার ব্যবহারের সময় কিছু গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম মেনে চলা জরুরি।

অতিরিক্ত খাবার দেবেন না
প্রেশার কুকারে কখনোই অতিরিক্ত খাবার বা উপকরণ দেওয়া উচিত নয়। সাধারণত কুকারের ধারণক্ষমতার দুই-তৃতীয়াংশের বেশি ভরা ঠিক নয়। বিশেষ করে ডাল, স্যুপ বা ঝোলজাতীয় খাবার রান্নার সময় আরও কিছুটা জায়গা ফাঁকা রাখা প্রয়োজন। এসব খাবার ফুটে ফেনা তৈরি করতে পারে, যা সেফটি ভালভ বা ভেন্ট পাইপ আটকে দিতে পারে।

এ ছাড়া রান্নার জন্য পর্যাপ্ত পানি ব্যবহার করাও জরুরি। পানি কম থাকলে কুকার অতিরিক্ত গরম হয়ে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

নিয়মিত পরীক্ষা করুন গুরুত্বপূর্ণ অংশ
নিরাপদে রান্নার জন্য প্রেশার কুকারের রাবারের গ্যাসকেট, সেফটি ভালভ, ভেন্ট পাইপ ও হুইসেল নিয়মিত পরীক্ষা করা উচিত। গ্যাসকেট শক্ত, ফেটে যাওয়া বা ঢিলে হয়ে গেলে দ্রুত তা পরিবর্তন করতে হবে।

ভেন্ট পাইপ ও হুইসেলে খাবারের কোনো কণা বা ময়লা আটকে আছে কি না, সেটিও নিয়মিত পরীক্ষা করে পরিষ্কার করা জরুরি।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, কুকারের ভেতরের চাপ সম্পূর্ণ বের হওয়ার আগে কখনোই জোর করে ঢাকনা খোলার চেষ্টা করা যাবে না। রান্না শেষে নিরাপদভাবে চাপ কমে যাওয়ার পরই ঢাকনা খুলতে হবে।

পুরোনো বা ক্ষতিগ্রস্ত কুকার ব্যবহার নয়
খুব পুরোনো, জীর্ণ বা ক্ষতিগ্রস্ত প্রেশার কুকার ব্যবহার না করাই নিরাপদ। ঢাকনার লক, কুকারের মূল অংশ বা সেফটি সিস্টেমে কোনো সমস্যা দেখা দিলে তা অবহেলা না করে দ্রুত মেরামত বা প্রয়োজনীয় অংশ পরিবর্তন করতে হবে।

প্রয়োজনে কুকারের জন্য প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের অনুমোদিত বা নির্ধারিত স্পেয়ার পার্টস ব্যবহার করা উচিত।

আরও পড়ুন: চিপসের প্যাকেট অর্ধেক খালি থাকে কেন?

অস্বাভাবিক কিছু হলে সঙ্গে সঙ্গে চুলা বন্ধ করুন
রান্নার সময় কুকার থেকে অস্বাভাবিক শব্দ হলে, অতিরিক্ত বাষ্প বের হলে কিংবা হুইসেলে কোনো সমস্যা দেখা দিলে সঙ্গে সঙ্গে চুলা বন্ধ করে দিন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত কুকারের কাছে গিয়ে ঢাকনা খোলার চেষ্টা করবেন না।

প্রেশার কুকার ব্যবহারে সামান্য সতর্কতা বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে পারে। তাই নিয়ম মেনে কুকার ব্যবহার করুন এবং রান্নাঘরের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিন।

নিউজবাংলাদেশ.কম/এসবি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়