আন্তর্জাতিক ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১২:১৬, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

হুতিদের হামলার মুখে সৌদি আরবে মক্কা জোটের সামরিক প্রধানদের বৈঠক

হুতিদের হামলার মুখে সৌদি আরবে মক্কা জোটের সামরিক প্রধানদের বৈঠক

ছবি: সংগৃহীত

ইয়েমেনে সংঘাত বৃদ্ধি এবং সৌদি আরবের ওপর হুতি বিদ্রোহীদের অব্যাহত হামলার প্রেক্ষাপটে সামরিক সহযোগিতা আরও সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে বৈঠকে বসেছেন তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তানের সামরিক প্রধানেরা। 

লন্ডনভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল আরব আল-জাদিদ-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাম্প্রতিক এই বৈঠকে জোটের সদস্য দেশগুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদারের ওপর সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

এর আগে তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, দেশটির চিফ অব জেনারেল স্টাফ জেনারেল সেলচুক বায়রাকতারোগলু জোটের সামরিক প্রধানদের এই বৈঠকে অংশ নিতে সৌদি আরব সফর করছেন। গত শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) আঙ্কারা তিন কর্মকর্তার সামরিক পোশাক পরিহিত ছবি প্রকাশ করে বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করলেও নিরাপত্তার স্বার্থে এর সুনির্দিষ্ট স্থান প্রকাশ করা হয়নি।

দেড় মাসেরও বেশি সময় আগে স্বাক্ষরিত মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার অংশ হিসেবেই এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হলো। এর আগে গত আগস্টের শেষ দিকে ইস্তাম্বুলে এই চুক্তির আওতাধীন রাজনৈতিক ও কৌশলগত প্রতিরক্ষা কমিটির প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল। নতুন এই সামরিক জোটের মূল লক্ষ্য হলো তিন দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা শিল্প ও সামরিক প্রশিক্ষণের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা এবং সম্মিলিত প্রতিরোধক্ষমতা বৃদ্ধি করা। 

চুক্তির অন্যতম প্রধান ধারা অনুযায়ী, এই তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র আক্রমণকে তিনটি দেশের ওপরই আক্রমণ হিসেবে গণ্য করা হবে।

এদিকে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনের ফাঁকে নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা তিন দেশের সামরিক প্রধানদের এই জরুরি বৈঠকের প্রস্তুতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। বৈঠকে সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান, পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার এবং তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান জোটের সচিবালয়, বিভিন্ন কমিটি ও ওয়ার্কিং গ্রুপ প্রতিষ্ঠার অগ্রগতি পর্যালোচনা করেন।

আরও পড়ুন: ইরানবিরোধী নিষেধাজ্ঞায় ৩ মুসলিম দেশ, ধন্যবাদ যুক্তরাষ্ট্রের

মন্ত্রীদের এই বৈঠকে মক্কা এবং সৌদি আরবের বেসামরিক ও অর্থনৈতিক স্থাপনাগুলোতে চালানো সাম্প্রতিক হামলার তীব্র নিন্দা জানানো হয়। একই সঙ্গে সৌদি সশস্ত্র বাহিনীর নেওয়া আত্মরক্ষামূলক পদক্ষেপের ভূয়সী প্রশংসা করেন তারা। জাতিসংঘের সনদের ৫১ অনুচ্ছেদের আওতায় নিজেদের নিরাপত্তা রক্ষার্থে রিয়াদের যেকোনো প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের পূর্ণ অধিকার রয়েছে বলে বৈঠকে একমত পোষণ করা হয়। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক আইন, রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব রক্ষা, অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা এবং সামুদ্রিক নৌ চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তাঁরা। চলমান আঞ্চলিক সংকটগুলোর স্থায়ী সমাধান ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় যৌথভাবে কাজ করার অঙ্গীকারও পুনর্ব্যক্ত করেন তিন দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিকে সঠিক পথে একটি শক্তিশালী পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেন। 

তিনি বলেন, এত গুরুত্বপূর্ণ একটি উদ্যোগ বাস্তবায়নের পথে কিছু চ্যালেঞ্জ থাকা স্বাভাবিক, তবে জোটকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার কাজ সম্পন্ন হলে এই তিন দেশ আরও অপ্রতিরোধ্য ও শক্তিশালী হয়ে উঠবে।

অন্যদিকে, গত বুধবার পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়, অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল নওমান মাহমুদকে এই জোটের প্রথম মহাসচিব হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। জোটের সচিবালয়ের সদর দপ্তর হিসেবে ইতোমধ্যে রিয়াদকে নির্ধারণ করা হয়েছে। 

চুক্তি অনুযায়ী, মহাসচিবের পদে প্রথম তিন বছরের মেয়াদে পাকিস্তান দায়িত্ব পালন করবে এবং পরবর্তীতে এই পদ তিন দেশের মধ্যে পর্যায়ক্রমে আবর্তিত হবে।

এর আগে ইয়েমেনের সংঘাতের তীব্রতা রিয়াদের নিরাপত্তা হুমকির মুখে ফেললে এই ত্রিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা জোট পুরোপুরি সক্রিয় করা হতে পারে বলে সতর্ক করেছিলেন পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ। 

বিশ্লেষকদের মতে, পরিবর্তিত মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে নিরাপত্তা ও কৌশলগত ভারসাম্য রক্ষায় এই ত্রিমুখী সামরিক জোট একটি অত্যন্ত প্রভাবশালী ও কার্যকর শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে যাচ্ছে।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়