হাসানুজ্জামান হাসান || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১১:২৭, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

স্কুল ফিডিংয়ে বাড়ছে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি

স্কুল ফিডিংয়ে বাড়ছে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি

ছবি: নিউজবাংলাদেশ

লালমনিরহাটের পাটগ্রাম ও কালীগঞ্জ উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে মিড ডে মিল বা স্কুল ফিডিং কর্মসূচি চালুর পর থেকে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। গত বছরের ১ ডিসেম্বর থেকে পরীক্ষামূলক ও সম্প্রসারিত এই কর্মসূচি চালুর পর থেকেই বিদ্যালয়গুলোতে খুদে শিক্ষার্থীর সংখ্যা যেমন বাড়ছে, তেমনি পুষ্টিহীনতা ও ঝরে পড়ার হারও উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে।

উপজেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, পাটগ্রাম উপজেলার ১৪৫টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২৫ হাজার ৩৫৬ জন এবং কালীগঞ্জ উপজেলার ১৬২টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২২ হাজার ৪৪ জন শিক্ষার্থীর মাঝে এই পুষ্টিকর খাবার সরবরাহ করা হচ্ছে। শিশুদের প্রাথমিক স্তরেই পুষ্টির ঘাটতি পূরণ, শতভাগ উপস্থিতি নিশ্চিত করা এবং বিদ্যালয়বিমুখতা রোধ করার মূল লক্ষ্য নিয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের পুষ্টিচাহিদা মেটাতে সপ্তাহের পাঁচ দিনই নিয়ম করে বনরুটি, কলা, সেদ্ধ ডিম, দুধ ও ফর্টিফাইড বিস্কুট প্রদান করা হচ্ছে।

মাঠপর্যায়ে এই কর্মসূচির সুফলও মিলতে শুরু করেছে। কালীগঞ্জ উপজেলার পণ্ডিতপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আম্বিয়া খাতুন জানান, অতীতে অনেক শিক্ষার্থীকে খালি পেটে বিদ্যালয়ে আসতে হতো, যার ফলে দীর্ঘ সময় ক্ষুধার্ত থেকে তারা ক্লাসের প্রতি অনীহা প্রকাশ করত। এখন প্রতিদিনের পুষ্টিকর ও সুস্বাদু খাবারের ব্যবস্থা থাকায় শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি যেমন বেড়েছে, তেমনি ক্ষুধার ক্লান্তি দূর হওয়ায় ক্লাসে তাদের মনোযোগও বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।

প্রকল্পটির কারিগরি ও সরবরাহ ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পালন করছে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ইকো সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন (ইএসডিএফ)। 

আরও পড়ুন: চুয়েট উপাচার্যকে লাল কার্ড দেখালেন শিক্ষার্থীরা

সংস্থাটির স্কুল ফিডিং প্রকল্পের জেনারেল ম্যানেজার আশিক আহমেদ জেবাল জানান, সরকারের এই জনকল্যাণমুখী উদ্যোগটিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। শিশুদের হাতে মানসম্মত খাবার পৌঁছানোর বিষয়টি নিশ্চিত করতে সার্বক্ষণিক তদারকি রাখা হয়েছে।

খাবারের গুণগত মান বজায় রাখার বিষয়ে বিশেষ নজর দিচ্ছে স্থানীয় সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোও। উভয় উপজেলার বিদ্যালয়গুলোতে বনরুটি সরবরাহের দায়িত্বে থাকা আল মদিনা বেকারি অ্যান্ড কনফেকশনারি-র স্বত্বাধিকারী খলিলুর রহমান জানান, বনরুটির সর্বোচ্চ মান রক্ষায় তাদের নিজস্ব ল্যাবরেটরি ও ফুড টেকনোলজিস্ট নিয়োজিত আছেন। প্রতিদিন উৎপাদিত রুটির মান পরীক্ষা করেই তা বিদ্যালয়গুলোতে পাঠানো হয়।

শিক্ষার্থীরাও মিড ডে মিল চালুর পর থেকে বিদ্যালয়ে আসার বাড়তি আনন্দ পাচ্ছে। পাটগ্রামের মুন্সীটারি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী ইসরাত জাহান জানায়, আগে ক্ষুধা লাগলে মনোযোগ দিয়ে ক্লাস করা কষ্টকর হতো। এখন বিরতিতে পেটভরে খাবার পাওয়ার কারণে সবকটি ক্লাস বেশ আনন্দের সঙ্গেই করতে পারে তারা।

বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনে করছেন, এই কর্মসূচির ফলে শুধু উপস্থিতির হারই বাড়ছে না, বরং গ্রামীণ জনপদের শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশেও দীর্ঘমেয়াদী সুফল মিলবে। 

পাটগ্রাম উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবদুল হামিদ সরকার বলেন, দুপুরের বিরতিতে পুষ্টিকর খাবারের নিশ্চয়তা থাকায় বর্ষাকাল কিংবা অন্যান্য প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেও শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়মুখী হওয়ার প্রবণতা লক্ষণীয়ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। খাবারের তালিকায় বৈচিত্র্য আসায় শিক্ষার্থীদের মাঝে আগ্রহ তৈরি হয়েছে, যা সামগ্রিক প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়