জেলা সংবাদদাতা || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৬:৩৫, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
আপডেট: ১৬:৩৭, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

চুয়েট উপাচার্যকে লাল কার্ড দেখালেন শিক্ষার্থীরা

চুয়েট উপাচার্যকে লাল কার্ড দেখালেন শিক্ষার্থীরা

ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) নতুন উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে প্রত্যাখ্যান করে তার উদ্দেশে লাল কার্ড দেখিয়েছে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল থেকে নতুন উপাচার্যের বিরুদ্ধে এ কর্মসূচি পালন করেন তারা।

একই দাবিতে শিক্ষক-কর্মকর্তাদের কর্মবিরতিও চলছে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে।

দুপুর ২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টার সংলগ্ন সড়ক থেকে লাল কার্ড প্রদর্শনের মাধ্যমে মিছিল শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। বিভিন্ন আবাসিক হল থেকে শিক্ষার্থীরা মিছিলে যোগ দেন। মিছিলটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে স্বাধীনতা চত্বর ঘুরে শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে গিয়ে শেষ হয়।

এ সময় শিক্ষার্থীদের হাতে লাল কার্ড দেখা যায়। মিছিল থেকে অনলাইন ভিসি মানি না, রেড কার্ড টু অনলাইন ভিসিসহ বিভিন্ন স্লোগান দেওয়া হয়।

নবনিযুক্ত উপাচার্য ক্যাম্পাসে আসতে পারেন-এমন খবরে শুক্রবার দিবাগত রাত থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে অবস্থান নেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। রাতভর সেখানে অবস্থান করে ক্যাম্পাসে প্রবেশকারী যানবাহন ও ব্যক্তিদের বিষয়ে নজর রাখেন তারা। শনিবার সকালেও প্রধান ফটকসহ ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে শিক্ষার্থীদের অবস্থান অব্যাহত ছিল।

সকালে আন্দোলনের নতুন কর্মসূচি হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ চত্বর ও একাডেমিক ভবনের দেয়ালে প্রতিবাদী ও ব্যঙ্গাত্মক গ্রাফিতি আঁকেন শিক্ষার্থীরা। সকাল ১০টার দিকে শুরু হওয়া এসব গ্রাফিতিতে উপাচার্য পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার এবং অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে স্বপদে পুনর্বহালের দাবি তুলে ধরা হয়।

আরও পড়ুন: নভেম্বরের মাঝামাঝি এইচএসসি ফল প্রকাশের প্রস্তুতি

চুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে অপসারণ করে নতুন উপাচার্য নিয়োগের পর থেকেই আন্দোলনে নামেন শিক্ষার্থীরা। গত ২১ সেপ্টেম্বর সরকার অধ্যাপক সায়েমকে সরিয়ে কুয়েটের ইলেকট্রনিক্স অ্যান্ড টেলিকমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং (ইটিই) বিভাগের অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে চুয়েটের নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেয়। এরপর থেকেই ক্যাম্পাসে প্রতিবাদ শুরু হয়।

প্রথম দিকে অধ্যাপক সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষার্থীরা। পরে আন্দোলন আরও বিস্তৃত হয়। একপর্যায়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে শাটডাউন কর্মসূচি পালন করা হয়। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অনুষ্ঠিত হয় মানববন্ধন ও বিক্ষোভ। আন্দোলনের তৃতীয় দিনে শিক্ষার্থীরা গণস্বাক্ষর কর্মসূচি পালন করেন। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকায় আয়োজিত ওই কর্মসূচিতে পরিচয়পত্রসহ স্বাক্ষর করে উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবির প্রতি সমর্থন জানান শিক্ষার্থীরা।

চতুর্থ দিনে শাটডাউনের পাশাপাশি ক্যাম্পাসে প্রতিবাদী গ্রাফিতি, স্লোগান ও বিভিন্ন কর্মসূচি পালিত হয়। একই সময়ে উপাচার্য পুনর্বহালের দাবিতে শিক্ষক-কর্মকর্তাদের কর্মসূচিও জোরদার হয়।

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে গত ২৪ সেপ্টেম্বর রাতে ভার্চুয়াল সভায় জরুরি সেবা ছাড়া ক্যাম্পাসে সর্বাত্মক কর্মবিরতির ঘোষণা দেয় চুয়েট শিক্ষক সমিতি। একই দাবিতে কর্মসূচিতে সংহতি জানায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসার্স ও কর্মচারী সমিতিও। শিক্ষার্থীদের শাটডাউন, প্রধান ফটকে অবস্থান এবং শিক্ষক-কর্মকর্তাদের কর্মবিরতির কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রমে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে।

এর মধ্যে নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম গণমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে চলমান আন্দোলনকে ক্ষুদ্র উল্লেখ করে ক্যাম্পাসে ৩০ থেকে ৩৫ জন শিক্ষার্থী অবস্থান করছেন বলে দাবি করেন। একই সঙ্গে ক্যাম্পাসে তালা খুলে দিয়ে তাকে বরণ করার প্রস্তুতি চলছে বলেও জানান তিনি। তার এই বক্তব্যের প্রতিবাদে শনিবার নবনিযুক্ত উপাচার্যকে লাল কার্ড দেখানোর কর্মসূচি ঘোষণা করেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। পরে দুপুরে এ কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিক্ষোভ মিছিল করেন তারা।

এ ছাড়া আন্দোলনের সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করতে বিকেল ৪টায় সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছেন শিক্ষার্থীরা।

নিউজবাংলাদেশ.কম/এনডি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়