জেলা সংবাদদাতা || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৪:৩৯, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

গোপালগঞ্জে শাপলা বিক্রি করে জীবিকা চলে ৩ হাজার পরিবারের

গোপালগঞ্জে শাপলা বিক্রি করে জীবিকা চলে ৩ হাজার পরিবারের

ছবি: সংগৃহীত

গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার বিলাঞ্চলে বর্ষা মৌসুমে প্রাকৃতিকভাবে জন্ম নেওয়া শাপলা ফুল এখন হাজারো মানুষের জীবিকার উৎস। খাল-বিল ও জলাশয় থেকে শাপলা সংগ্রহ করে বাজারে বিক্রি করছেন উপজেলার প্রায় তিন হাজার মানুষ। এতে একদিকে যেমন স্থানীয় সবজির চাহিদা পূরণ হচ্ছে, অন্যদিকে কর্মহীন মানুষের জন্য তৈরি হয়েছে আয়ের সুযোগ।

কাশিয়ানী একটি বিল অধ্যুষিত এলাকা। বর্ষা মৌসুমে উপজেলার বিভিন্ন খাল-বিল ও জলাশয় পানিতে তলিয়ে যায়। এ সময় বোরো ধান, পাট ও আমন ধানের জমিতে প্রাকৃতিকভাবে জন্ম নেয় শাপলা। কৃষিকাজে ব্যস্ততা কমে যাওয়ায় অনেক কৃষক, বেকার ও অন্যান্য পেশার মানুষ এ মৌসুমি পেশায় যুক্ত হন।

উপজেলার সিংগা, রাহুথড়, হাতিয়াড়াসহ বিভিন্ন বিল থেকে ভোরে নৌকা নিয়ে শাপলা সংগ্রহ করেন নারী-পুরুষেরা। কোনো পুঁজির প্রয়োজন না হওয়ায় অনেকের কাছে শাপলা সংগ্রহ ও বিক্রি লাভজনক পেশা হয়ে উঠেছে।

শাপলা বিক্রিকে কেন্দ্র করে উপজেলার রাহুথড়ে গড়ে উঠেছে পাইকারি বাজার। ভোরের আলো ফুটতেই আশপাশের গ্রাম ও প্রত্যন্ত এলাকা থেকে শাপলা সংগ্রহকারীরা নৌকায় করে সেখানে আসেন। ক্রেতা-বিক্রেতার সমাগমে মুখর হয়ে ওঠে বাজার। সড়কের পাশে সাজিয়ে রাখা সাদা শাপলায় ছেয়ে যায় পুরো বাজার।

পাইকাররা এসব শাপলা কিনে জেলা সদরসহ পার্শ্ববর্তী যশোর, মাগুরা, ঝিনাইদহ, নড়াইল ও লোহাগড়ায় নিয়ে বিক্রি করেন।

রাহুথড় শাপলার পাইকারি আড়তের ইজারাদার শংকর কুমার বসু বাসসকে বলেন, প্রতিদিন সকালে বিভিন্ন এলাকা থেকে নারী-পুরুষেরা নৌকায় করে শাপলা নিয়ে পাইকারি বাজারে আসেন। পাইকাররা এসব শাপলা কিনে ভ্যান, ইজিবাইক ও নছিমনে করে কাশিয়ানী সদর, যশোর, খুলনা, আলফাডাঙ্গা ও ভাটিয়াপাড়ায় নিয়ে বিক্রি করেন। প্রতিদিন প্রায় ২০ থেকে ৩০ গাড়ি শাপলা এখান থেকে বিভিন্ন এলাকায় যায়।

শাপলা সংগ্রহকারী গোবিন্দ বিশ্বাস বলেন, আমি দীর্ঘ ১০ বছর ধরে বর্ষাকালে শাপলা বিক্রি করে সংসার চালাচ্ছি। প্রতিদিন প্রায় ৫০০ থেকে ৭০০ টাকার শাপলা সংগ্রহ করতে পারি। ভোরে রাহুথড় বাজারে পাইকারি দামে বিক্রি করে দিই।

আরও পড়ুন: বন্যার ধকল পেরিয়ে চট্টগ্রামে প্রায় শেষ আমন আবাদ

কাশিয়ানী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. এজাজুল করীম বাসসকে বলেন, শাপলা মানুষের পুষ্টির চাহিদা পূরণের পাশাপাশি কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করছে। বর্ষাকালে কাশিয়ানীর বিলাঞ্চলে কৃষকদের তেমন কোনো ফসল থাকে না। এ সময় তাঁরা বিল থেকে শাপলা সংগ্রহ করে বাজারে বিক্রি করে সংসারের খরচ জোগান। উপজেলার প্রায় তিন হাজার পরিবার শাপলা সংগ্রহ করে জীবিকা নির্বাহ করছে।

নিউজবাংলাদেশ.কম/এসবি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়