স্টাফ রিপোর্টার || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১০:৩৯, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

গাড়ির স্টিয়ারিং থেকে ফলের বাগান, মিজানুরের সাফল্যের গল্প

গাড়ির স্টিয়ারিং থেকে ফলের বাগান, মিজানুরের সাফল্যের গল্প

ছবি: সংগৃহীত

জীবিকার তাগিদে একসময় গাড়ির স্টিয়ারিং হাতে ছুটে বেড়াতেন মিজানুর রহমান। ব্যস্ততার মধ্যেও ছিল নিজের কিছু করার স্বপ্ন। শুধু নিজের ভাগ্য বদল নয়, এলাকার মানুষের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির ইচ্ছাও ছিল তার। সেই স্বপ্ন থেকেই ২০২১ সালে শুরু করেন মিশ্র ফলের চাষ।

শুরুতে অভিজ্ঞতার ঘাটতি ও নানা সীমাবদ্ধতা থাকলেও ধৈর্য, পরিশ্রম ও কৃষির প্রতি ভালোবাসায় ধীরে ধীরে গড়ে তোলেন তিনটি ফলের বাগান। বর্তমানে আড়াই বিঘা জমিতে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন জাতের ফল চাষ করছেন তিনি। পাশাপাশি উৎপাদন করছেন উন্নত জাতের ফলের চারাও।

মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার বালিদিয়া ইউনিয়নের ছোট কলধারী গ্রামের বাসিন্দা মো. মিজানুর রহমান পেশায় গাড়িচালক। গাড়ি চালানোর পাশাপাশি কৃষিকাজকে তিনি নিজের স্বপ্ন ও আয়ের অন্যতম মাধ্যম হিসেবে বেছে নিয়েছেন।

তার বাগানে রয়েছে ভিয়েতনামি মাল্টা, ১২ মাসি মাল্টা, মাল্টা পয়সা বারি-১, বাউ-৩ ভিয়েতনামি জাত, চায়না ও দার্জিলিং কমলা, বেদানা বারি-৪ ও বারি-৭, পেঁপে এবং বিভিন্ন জাতের লেবু।

ইতোমধ্যে বাগানের বেশ কিছু গাছে ফলন এসেছে। গাছের ডালে ঝুলছে মাল্টা, কমলা, বেদানাসহ বিভিন্ন ফল। ফলন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় বাজারেও তৈরি হয়েছে চাহিদা। স্থানীয় ফলের বাগান, হাট-বাজার ও বড় মোকামে বিক্রি হচ্ছে তার বাগানের উৎপাদিত ফল।

শুধু ফল উৎপাদনেই থেমে নেই মিজানুর রহমানের উদ্যোগ। বিভিন্ন উন্নত জাতের ফলের চারা উৎপাদন ও বিক্রিও করছেন তিনি। এতে নিজের আয়ের পাশাপাশি আশপাশের কৃষকরাও সহজে উন্নত জাতের চারা সংগ্রহের সুযোগ পাচ্ছেন।

মিজানুর রহমান বলেন, মানুষের ফলের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি স্থানীয়ভাবে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও নিজের জীবিকা নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই ফলের বাগান করার উদ্যোগ নিয়েছেন। শুরুতে নতুন জাতের ফল, গাছের পরিচর্যা ও রোগবালাই নিয়ন্ত্রণ সম্পর্কে তেমন অভিজ্ঞতা ছিল না। ধীরে ধীরে অভিজ্ঞতা অর্জন করে বাগান বড় করেছেন।

তিনি বলেন, নিজের উদ্যোগে কিছু করার ইচ্ছা থেকেই ফলের বাগান শুরু করেছিলেন। এখন বিভিন্ন জাতের ফল উৎপাদনের পাশাপাশি উন্নত জাতের চারাও বিক্রি করছেন। মানুষের কাছ থেকে ভালো সাড়া পাচ্ছেন। ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে বাগান করার পরিকল্পনা রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, মিজানুর রহমানের উদ্যোগ এলাকায় আগ্রহ তৈরি করেছে। পেশায় গাড়িচালক হয়েও অবসর সময়ে কৃষিকাজে যুক্ত হয়ে তিনি নিজের উদ্যোগে বাগান গড়ে তুলেছেন। তার কাছ থেকে অনেকেই ফলের চারা সংগ্রহ করছেন এবং নতুন করে বাগান করার বিষয়ে আগ্রহী হচ্ছেন।

স্থানীয় কৃষক করিম বলেন, আগে অনেকে মনে করতেন ভালো ফলন পেতে বড় জমি ও বেশি অর্থের প্রয়োজন। কিন্তু মিজানুর রহমানের বাগান দেখে বোঝা যাচ্ছে, পরিকল্পনা করে বিভিন্ন জাতের ফল চাষ করেও সফল হওয়া সম্ভব।

মহম্মদপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইশরাত জাহান শিলু বলেন, মিজানুর রহমানের উদ্যোগ প্রশংসনীয়। পেশায় গাড়িচালক হয়েও তিনি মিশ্র ফলের বাগান গড়ে তুলে এলাকায় দৃষ্টান্ত তৈরি করেছেন এবং কয়েকজনের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করেছেন।

তিনি বলেন, এ ধরনের উদ্যোগ বাড়লে স্থানীয়ভাবে ফলের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি হবে। পরিকল্পনা ও আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে মিজানুর রহমানের মতো উদ্যোক্তারা আরও এগিয়ে যেতে পারেন।

আরও পড়ুন: পাটখড়িতে বাড়তি আয়, মেহেরপুরে পাট চাষে কৃষকের আগ্রহ বাড়ছে

একসময় জীবিকার প্রয়োজনে যে হাতে ছিল গাড়ির স্টিয়ারিং, এখন সেই হাতেই পরিচর্যা করছেন নানা জাতের ফলের গাছ। ছোট কলধারীর এই মিশ্র ফলের বাগান তাই শুধু কৃষি উদ্যোগ নয়; এটি পরিশ্রম, পরিকল্পনা ও স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার একটি উদাহরণ।

নিউজবাংলাদেশ.কম/এসবি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়