আন্তর্জাতিক ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৯:৫৬, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

হরমুজ খুলতে যুক্তরাষ্ট্রকে ৭ দিনের রোডম্যাপ প্রস্তাব ইরানের

হরমুজ খুলতে যুক্তরাষ্ট্রকে ৭ দিনের রোডম্যাপ প্রস্তাব ইরানের

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান দীর্ঘ সাত মাসের সামরিক সংঘাতের অবসান এবং কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির নৌঅবরোধ তুলে নিতে ওয়াশিংটনের কাছে সাত দিনের একটি সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ প্রস্তাব করেছে ইরান। নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এই তথ্য জানান ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি। কাতার ও পাকিস্তানের মতো মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে এই পরিকল্পনাটি হোয়াইট হাউসের কাছে পাঠানো হয়েছে।

প্রস্তাবের মূল শর্তাবলি অনুযায়ী, মার্কিন প্রশাসন পরিকল্পনাটি আনুষ্ঠানিকভাবে মেনে নেওয়ার পর থেকেই সাত দিনের একটি কঠোর সময়সীমা শুরু হবে। এই রূপরেখার অধীনে গাজা ও লেবাননসহ মধ্যপ্রাচ্যের সব ফ্রন্টে আগামী সাত দিনের মধ্যে সব ধরনের সামরিক সংঘাত ও বৈরী কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ করতে হবে। একই সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আটকে থাকা ইরানের প্রায় ১ হাজার ২০০ কোটি ডলার সমমূল্যের জব্দকৃত আর্থিক সম্পদ অবিলম্বে মুক্ত করতে হবে এবং ইরানি তেল রপ্তানির ওপর থেকে সমস্ত নিষেধাজ্ঞা ও নৌঅবরোধ পুরোপুরি তুলে নিতে হবে। সমস্ত শর্ত বাস্তবায়নের সাপেক্ষে সপ্তম দিনের মাথায় হরমুজ প্রণালি বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে এবং এর ঠিক পরপরই ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে পুনরায় আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক আলোচনা শুরু হবে।

ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে যুক্তরাষ্ট্র এই শর্তগুলো মেনে নিলেই তেহরান অবিলম্বে তা বাস্তবায়নে প্রস্তুত রয়েছে। চলতি সপ্তাহে নিউইয়র্কে মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিশেষ প্রতিনিধির সঙ্গে আরাকচির একাধিক বৈঠক হয়েছে। চীন এই কূটনৈতিক উদ্যোগকে প্রকাশ্য সমর্থন জানিয়েছে এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সাম্প্রতিক বৈঠকে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ইরানের সঙ্গে একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর জন্য মার্কিন প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। এছাড়া ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে জানিয়েছেন যে যুক্তরাষ্ট্র তাদের পূর্বের সমঝোতা বা প্রতিশ্রুতিতে ফিরে এলে তেহরান ইতিবাচক সাড়া দিতে প্রস্তুত রয়েছে।

আরও পড়ুন: সৌদি রক্ষায় হুতিদের বিরুদ্ধে সমন্বিত প্রস্তুতিতে মক্কা প্রতিরক্ষা জোট

হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে তেহরানের সঙ্গে গঠনমূলক আলোচনা চলমান থাকলেও যুক্তরাষ্ট্র তড়িহড়ি করে কোনো চুক্তিতে সই করবে না। 

রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও জেনিভা গ্র্যাজুয়েট ইনস্টিটিউটের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক অধ্যাপক সাইরাস শায়েগের মতে, দুই পক্ষের মৌলিক অবস্থানে এখনো বড় কোনো পরিবর্তন আসেনি। ইরান সংঘাতের মাধ্যমে অর্জিত প্রভাব অক্ষুণ্ণ রেখে জুনের সমঝোতায় ফিরতে চাইছে, যা ওয়াশিংটনের জন্য সহজে গ্রহণযোগ্য নয়। তাছাড়া আগামী নভেম্বরে মার্কিন কংগ্রেসের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এই যুদ্ধ বন্ধে বড় কোনো স্থায়ী চুক্তির সম্ভাবনা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে সংশয় রয়েছে, যদিও ইরানি পক্ষ মনে করছে নির্বাচনের আগেই একটি কার্যকর চুক্তিতে পৌঁছানো উভয় দেশের জন্যই সবচেয়ে কল্যাণকর হবে।

দীর্ঘ সাত মাস ধরে চলা এই সংঘাতে হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় বিশ্ববাজারে তেল ও জ্বালানি সরবরাহে মারাত্মক বিঘ্ন ঘটেছে, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে। বর্তমান পরিস্থিতিতে হোয়াইট হাউস এই ৭ দিনের রোডম্যাপ মেনে নেয় কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়