নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৬:৪২, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

‘দেশে স্বাধীনতা-গণতন্ত্রবিরোধী শক্তির কোনো স্থান নেই’

‘দেশে স্বাধীনতা-গণতন্ত্রবিরোধী শক্তির কোনো স্থান নেই’

ছবি: সংগৃহীত

দেশে কোনো দেশবিরোধী, গণতন্ত্রবিরোধী এবং স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ববিরোধী শক্তির কোনো স্থান বা অবস্থান নেই বলে দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে ঘোষণা দিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। 

তিনি হুশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, যারা বাংলাদেশকে একটি উপনিবেশ বা তাবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করতে চায়, বিএনপি এবং জাতীয়তাবাদী ওলামা দল তাদের বিরুদ্ধে রাজপথে, মোড়ে মোড়ে এবং পথে-প্রান্তরে কঠিন ও অপ্রতিরোধ্য ব্যারিকেড গড়ে তুলবে।

শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বাদ জুমা রাজধানীর জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে পরিকল্পিত সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টার বিরুদ্ধে জাতীয়তাবাদী ওলামা দলের উদ্যোগে আয়োজিত প্রতিবাদ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। 

ওলামা দলের আহ্বায়ক মাওলানা গাজী মো. সেলিম রেজার সভাপতিত্বে সমাবেশে বিএনপি ও এর অঙ্গ-সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। সমাবেশ শেষে বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেট থেকে একটি বিশাল বিক্ষোভ মিছিল বের হয়, যা শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। মিছিলে নেতাকর্মীরা দেশের গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত রাখা এবং ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেন।

আরও পড়ুন: সংকট মোকাবিলায় সরকারের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা অব্যাহত: রিজভী

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দেওয়া ঐতিহাসিক প্রথম ভাষণ প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, এই ভাষণের মধ্য দিয়ে সারা বিশ্বের শান্তিকামী মানুষের মনের কথাই প্রতিধ্বনিত হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, জাতিসংঘে তিন প্রজন্মের ধারাবাহিকতার প্রতিনিধিত্ব করেছেন প্রধানমন্ত্রী। এর আগে ১৯৮০ সালে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং ১৯৯২ সালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এই বিশ্বমঞ্চে জাতির পক্ষে বক্তব্য রেখেছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বক্তব্যের মূল দিকগুলো তুলে ধরে রিজভী বলেন, জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেছেন যে, মারণাস্ত্রের পরিবর্তে যুক্তিতর্ক, কূটনীতি, শিক্ষা এবং মানবতাই হলো পরিবর্তনের মূল হাতিয়ার। বিশ্বের প্রতিটি রাষ্ট্রের সঙ্গে পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং সমমর্যাদার ভিত্তিতে বৈদেশিক সম্পর্ক বজায় রাখার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে এই ভাষণে। ফিলিস্তিনে স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দাবির পাশাপাশি মিয়ানমারে নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের মর্যাদাপূর্ণ ও নিরাপদ প্রত্যাবাসনের জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এছাড়া যুদ্ধ মানুষের জীবনযাত্রা দুর্বিষহ করে তোলে, খাদ্য, জ্বালানি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি ঘটায় এবং কলকারখানা বন্ধ করে বেকারত্ব বাড়ায় এমন বাস্তবমুখী সত্যও বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরা হয়েছে।

বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিএনপি নেতা রুহুল কবির রিজভী বলেন, বিএনপি কখনো কোনো মধ্যরাতের বা ভোটারবিহীন নির্বাচনে ক্ষমতা দখল করেনি। সব সময় অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমেই জনগণের ভোটে বিএনপি ও তার সমমনা জোট রাষ্ট্রক্ষমতায় এসেছে। দেশের মানুষের রাজনৈতিক অধিকার, সামাজিক সুরক্ষা এবং সার্বিক কল্যাণে বর্তমান সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। একটি কুচক্রী মহল আগুন সন্ত্রাস ও সুপরিকল্পিত নৈরাজ্যের মাধ্যমে দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রাকে ব্যাহত করতে চায়। গাড়িতে আগুন দিয়ে দেশকে অস্থিতিশীল করতে চাওয়া এসব অপশক্তির বিরুদ্ধে ওলামা দল ও দেশপ্রেমিক জনতা সর্বদা সজাগ রয়েছে। নেতাকর্মীদের যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় নির্ভীক থাকার আহ্বান জানিয়ে রিজভী বলেন, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় জাতীয়তাবাদী শক্তি কখনো আপস করবে না।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়