নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৬:০৬, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পাকিস্তান সফর কবে, সাংবাদিকদের প্রশ্নে যা বললেন তারেক রহমান

পাকিস্তান সফর কবে, সাংবাদিকদের প্রশ্নে যা বললেন তারেক রহমান

ছবি: সংগৃহীত

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের ফাঁকে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দপ্তরের সেক্রেটারিয়েট বিল্ডিংয়ের ৩৪ তলায় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী মুহাম্মদ শাহবাজ শরিফের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। উভয় দেশের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এবং সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে প্রাপ্ত পৃথক বিবৃতিতে এই বৈঠ কের বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়েছে। 

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে তারেক রহমান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ার পর দুই দেশের শীর্ষ এই নেতার মধ্যে এটিই প্রথম আনুষ্ঠানিক সাক্ষাৎ ও বৈঠক।

বৈঠকের শুরুতেই পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ বাংলাদেশের ৮১তম জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করায় ড. খলিলুর রহমান এবং বাংলাদেশ সরকারকে উষ্ণ অভিনন্দন জানান। পাশাপাশি, বিশ্ব সংস্থার বিভিন্ন লক্ষ্য ও তৎপরতা এগিয়ে নিতে বাংলাদেশের প্রতিটি প্রচেষ্টার প্রতি পাকিস্তানের পক্ষ থেকে পূর্ণ সমর্থনের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি। বৈঠকে দুই দেশের শীর্ষ নেতা পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বর্তমান পরিস্থিতি এবং সামগ্রিক অগ্রগতির নানা দিক নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা করেন। 

এ সময় পাকিস্তান-বাংলাদেশ সম্পর্কের ইতিবাচক গতিধারা দেখে উভয় নেতা গভীর সন্তোষ প্রকাশ করেন। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ বাংলাদেশের সঙ্গে পারস্পরিকভাবে লাভজনক ও কার্যকর দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও বহুমাত্রিক ও গভীর করার ক্ষেত্রে তার দেশের দৃঢ় সংকল্পের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। জবাবে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও একই রূপ ইতিবাচক মনোভাব ব্যক্ত করেন এবং তার সরকার বাংলাদেশ-পাকিস্তান সম্পর্ককে অনন্য উচ্চতায় নিতে ও আরও জোরদার করতে গভীরভাবে আগ্রহী বলে জানান।

দুই দেশের জনগণের পারস্পরিক কল্যাণ ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত করতে ভবিষ্যতে সহযোগিতার নতুন নতুন ক্ষেত্রগুলো চিহ্নিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বৈঠকে অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব জোরদার করার পাশাপাশি বাণিজ্য সম্প্রসারণ, সরাসরি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ বা কানেক্টিভিটি বাড়ানো, শিক্ষাখাতে সহযোগিতা, পর্যটন শিল্পের বিকাশ এবং জনগণের সঙ্গে জনগণের যোগাযোগ (পিপল টু পিপল কন্টাক্ট) আরও সুদৃঢ় করার সুনির্দিষ্ট অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। দুই দেশের মধ্যকার দীর্ঘদিনের আস্থার সংকট কাটিয়ে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সমঝোতা ও সহযোগিতার মূল ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে সম্পর্ককে সামনের দিকে এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন দুই সরকারপ্রধান।

আরও পড়ুন: জাতিসংঘে বাংলায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পূর্ণ ভাষণ

বৈঠক শেষে অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত পরিসরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের বর্তমান সভাপতি ড. খলিলুর রহমান। 

সিঙ্গাপুরভিত্তিক সংবাদমাধ্যম এশিয়া ওয়ান-এর খবরে প্রকাশ, এ সময় প্রধানমন্ত্রীর কাছে সাংবাদিকরা জানতে চান যে তিনি কবে নাগাদ আনুষ্ঠানিক পাকিস্তান সফরের পরিকল্পনা করছেন। 

এর জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত ও কূটনৈতিক ভঙ্গিতে বলেন, আমরা একটি দিনক্ষণ ঠিক করব। আমরা সময়ের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেব। তার এই মন্তব্য কূটনৈতিক মহলে যথেষ্ট ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে।

দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের নানা বিষয়ের পাশাপাশি বৈঠকে বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতি, স্থিতিশীলতা এবং সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও খোলামেলা আলোচনা হয়েছে। বর্তমান পরিবর্তিত বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে আঞ্চলিক সহযোগিতা বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই বলে উল্লেখ করেন দুই নেতা। এছাড়া জাতিসংঘসহ বিভিন্ন বহুপক্ষীয় ফোরামে পারস্পরিক সমন্বয় ও কূটনৈতিক যোগাযোগ আরও সুদৃঢ় করার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়। 

বৈঠকে উভয় পক্ষ একমত পোষণ করে যে, অভিন্ন স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোতে মতপার্থক্য দূর করে নিয়মিত যোগাযোগ ও উচ্চপর্যায়ের সংলাপ অব্যাহত রাখা জরুরি। প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব এ কে এম নাজমুল হক এই বৈঠকের সার্বিক বিষয় নিশ্চিত করে জানান যে, অত্যন্ত গঠনমূলক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে এই দ্বিপক্ষীয় বৈঠক সম্পন্ন হয়েছে।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের এই উচ্চপর্যায়ের অধিবেশনে যোগদানের ফাঁকে বিশ্বনেতাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ধারাবাহিক কূটনৈতিক বৈঠকের অংশ হিসেবে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এই বৈঠকটি দ্বিপক্ষীয় ও আঞ্চলিক কূটনীতিতে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়