নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ২০:১৪, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
আপডেট: ২০:১৯, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

‘ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় অবশ্যই নাসীরুদ্দীনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা উচিত’

‘ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় অবশ্যই নাসীরুদ্দীনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা উচিত’

যুগ্ম কমিশনার (দক্ষিণ) মো. তোফায়েল আহমেদ মিয়া। ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া ককটেল বিস্ফোরণ ও নাশকতার ঘটনার প্রেক্ষাপটে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক (বা সমন্বয়ক) নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা উচিত বলে মনে করছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। 

শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার (ক্রাইম প্রিভেনশন-দক্ষিণ) মো. তোফায়েল আহমেদ মিয়া।

সম্প্রতি রাজধানীর নেভিগলি ও এর আশপাশের এলাকায় প্রতিবাদ মিছিল শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী একটি মন্তব্য করেন। 

তিনি বলেছিলেন, আমরা তো তিনটি দাবিতে রাজপথে আছি। আওয়ামী লীগকে বাংলাদেশে বাদ দেওয়া, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন এবং জুলাইয়ের ঘটনার বিচার। এই দাবিগুলো সরকার মানছে না! দাবিগুলো মানলে তো ককটেল আর ফুটবে না ঢাকা শহরে।

তার এই বক্তব্যের মাধ্যমে মূলত ইঙ্গিত করা হয়েছিল যে, তাদের প্রধান রাজনৈতিক দাবিগুলো মানা হলে এবং সংশ্লিষ্ট দলটিকে পুরোপুরি নিষিদ্ধ বা নিবৃত্ত করা গেলে রাজধানীতে এ ধরনের ককটেল বিস্ফোরণ বা নাশকতার ঘটনাগুলো বন্ধ হয়ে যাবে।

সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকরা যুগ্ম কমিশনার তোফায়েল আহমেদ মিয়ার কাছে জানতে চান যে, রাজধানীতে সম্প্রতি যেসব ককটেল বিস্ফোরণ ঘটছে, সেগুলোর সঙ্গে কেবল কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠনের লোকজন জড়িত, নাকি এর নেপথ্যে অন্য কোনো কারণ বা ব্যক্তি রয়েছে।

আরও পড়ুন: রাজধানীতে দিনভর একের পর এক ককটেল বিস্ফোরণ, কাফরুলে বাসে আগুন

জবাবে ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার মো. তোফায়েল আহমেদ মিয়া স্পষ্ট করে জানান, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী এই বক্তব্য কেন দিয়েছেন, তা পরিষ্কার হওয়া দরকার। 

তিনি বলেন, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে হবে তিনি এই বক্তব্যটা কেন দিয়েছেন। আমার কাছে মনে হয়, অবশ্যই তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা উচিত। তা না হলে সে এই কথা বলল কেন?

তবে তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান যে, এটি সম্পূর্ণ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও তদন্তকারী কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।

এদিকে সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপির পক্ষ থেকে রাজধানীতে সাম্প্রতিক নাশকতার বিরুদ্ধে চলা অভিযানের বিস্তারিত তুলে ধরা হয়। এর আগে শ্যামপুর মডেল থানা পুলিশ ও দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে অভিযান চালিয়ে বিস্ফোরক দ্রব্য, ককটেল তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জাম এবং অসৎ উদ্দেশ্যে প্রস্তুত করা প্রায় ৯ হাজার পিস কাগজের মুখোশ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় জাহিদ হাসান ইমন (৩০) নামের এক দুষ্কৃতিকারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। 

পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত ইমন জানিয়েছে, লালবাগের এক নেতার মাধ্যমে এসব মুখোশ ও সরঞ্জাম তার কাছে পাঠানো হয়েছিল এবং পরবর্তীতে সেগুলো বিভিন্ন নেতাকর্মীর মধ্যে বিতরণের পরিকল্পনা ছিল।

রাজধানীর সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং ককটেল বিস্ফোরণের মূল হোতাদের চিহ্নিত করতে গোয়েন্দা নজরদারি ও পুলিশি অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ডিএমপি।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়