স্পোর্টস ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১১:১৯, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

৩-২ গোলে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে স্পেনের জয়

৩-২ গোলে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে স্পেনের জয়

ছবি: সংগৃহীত

উয়েফা নেশন্স লিগের লিগ এ পর্বের উদ্বোধনী ম্যাচে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেনের কাছে ৩-২ গোলে হেরে গেছে থমাস টুখেলের ইংল্যান্ড। লন্ডনের ঐতিহাসিক ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই হাই-ভোল্টেজ ম্যাচে প্রথমার্ধে এগিয়ে থেকেও রক্ষণভাগের মারাত্মক কিছু ব্যক্তিগত ভুলের খেসারত দিতে হয়েছে স্বাগতিকদের। এই জয়ে ৩৯ ম্যাচ ধরে অপরাজিত থাকা লা রোজা বা স্প্যানিশরা পূর্ণ তিন পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছাড়ে।

লন্ডনের ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় রাতে মুখোমুখি হয় দুই পরাশক্তি। ম্যাচ শুরুর মাত্র ১০৭ সেকেন্ড বা দ্বিতীয় মিনিটেই এগিয়ে যায় বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেন। নিজেদের রক্ষণভাগে বলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বড় ধরনের ভুল করে বসেন ইংলিশ ডিফেন্ডার মার্ক গুয়েহি। তার ভুলে বল পেয়ে যান তরুণ সেনসেশন লামিন ইয়ামাল, যিনি দ্রুত বক্সে ঢুকে নির্ভুল নিশানায় গোলরক্ষক জেমস ট্র্যাফোর্ডকে পরাস্ত করে স্পেনকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে নেন।

তবে দ্রুতই ম্যাচে ঘুরে দাঁড়ায় স্বাগতিক ইংল্যান্ড। ৩৬ মিনিটে জুড বেলিংহামের সঙ্গে দারুণ এক ওয়ান-টু বোঝাপড়ায় দারুণ পাল্টা আক্রমণ শানায় ইংলিশরা। বেলিংহামের পাস থেকে বক্সের কিনারা থেকে নিখুঁত শটে বল জালে জড়িয়ে সমতা ফেরান অ্যান্থনি গর্ডন। এর রেশ কাটতে না কাটতেই মাত্র তিন থেকে চার মিনিটের ব্যবধানে ম্যাচের চিত্র বদলে দেয় থমাস টুখেলের দল। অধিনায়ক হ্যারি কেইনের নেওয়া হেডের বল মার্ক কুকুরেয়েলার গায়ে ও বুকে লেগে দিক পরিবর্তন করে জালে ঢুকে গেলে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় ইংল্যান্ড। প্রথমার্ধের বাকি সময় এই ব্যবধান ধরে রেখেই বিরতিতে যায় তারা।

ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধেও নাটকীয়তার কমতি ছিল না। খেলা শুরুর আট মিনিট পর (৬০তম মিনিটে) ব্যবধান দ্বিগুণ করার সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছিল ইংল্যান্ড। বক্সের ভেতরে রদ্রির ফাউলের শিকার হন জুড বেলিংহাম। ভিডিও সহকারী রেফারি (VAR)-এর পর্যালোচনার পর পেনাল্টি পায় স্বাগতিকরা। কিন্তু পেনাল্টি স্পটকিক নিতে গিয়ে দুর্ভাগ্যের শিকার হন ইংলিশ অধিনায়ক হ্যারি কেইন; শট নেওয়ার সময় তাঁর পা সামান্য পিছলে যায় এবং বল ক্রসবারের ভেতরের লেগে ফিরে আসে।

পেনাল্টি মিসের এই চ চ্যুতিই ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট প্রমাণিত হয়। ঠিক ওই মুহূর্তের সুযোগ কাজে লাগিয়ে খেলার নিয়ন্ত্রণ নেয় লুইস দে লা ফুয়েন্তের দল। ৬০ মিনিটে নিকো ও'রাইলির নিজেদের অর্ধে করা ভুল পাসের সুযোগ লুফে নেন বদলি খেলোয়াড় আলেক্স বায়েনা, যিনি জোরালো শটে স্পেনকে ২-২ সমতায় ফেরান। ওরাইলি এই ভুলের পর নিজের হাত তুলে ক্ষমা চাইলেও তার মূল্য দিতে হয় দলকে। এর ঠিক চৌদ্দ মিনিট পর (৭৪তম মিনিটে) স্পেনকে জয়সূচক গোল এনে দেন মিকেল ওইয়ারজাবাল। বায়েনার নিখুঁত পাস থেকে গোলরক্ষক জেমস ট্র্যাফোর্ডকে বুদ্ধিদীপ্ত এক ডিঙ্কে পরাস্ত করে বল জালে পাঠান তিনি। উল্লেখ্য, এর আগে ২০২৪ ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালেও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জয়সূচক গোলটি করেছিলেন এই ওইয়ারজাবালই।

আরও পড়ুন: মাঠের বাইরে বেকহ্যামের বাজিমাত, বিশ্বকাপে আয় ১১০০ কোটি টাকা

ম্যাচের শেষ দিকে সমতায় ফিরতে মরিয়া চেষ্টা চালায় ইংল্যান্ড। তবে স্প্যানিশ রক্ষণ ও গোলরক্ষক তা সফল হতে দেননি। যোগ করা সময়েও গোলের দেখা মেলেনি। ফলে ৩-২ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে স্পেন।

ম্যাচ শেষে দলের শুরুটাকে সবচেয়ে ভয়াবহ ও বাজে হিসেবে উল্লেখ করে ইংল্যান্ডের কোচ থমাস টুখেল জানান, এই ধরনের বিশ্বমানের প্রতিপক্ষের বিপক্ষে শুরুতেই পিছিয়ে পড়া ম্যাচটিকে অত্যন্ত কঠিন করে তোলে। তবে প্রথমার্ধের মাঝামাঝি থেকে দল যেভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে লড়েছে, তাতে তিনি সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন। 

টুখেল স্পষ্টতই উল্লেখ করেন যে, স্পেনের তৃতীয় গোলটি দুর্দান্ত হলেও তাদের প্রথম দুটি গোলই এসেছে ইংল্যান্ডের রক্ষণভাগের বড় ব্যক্তিগত ভুল থেকে। ডেকলান রাইস চোটের কারণে এই ম্যাচে অনুপস্থিত থাকায় মিডফিল্ডে কিছুটা ভারসাম্যহীনতা তৈরি হয়েছিল বলেও আলোচনা চলছে। তবে টুখেল কেবল কাউন্টার-অ্যাটাকিং ফুটবলের ওপর নির্ভর করতে চান না, বরং প্রতিপক্ষের অর্ধে আরও নিখুঁত ও ধারালো হওয়ার ওপর জোর দিয়েছেন।

অন্যদিকে, স্প্যানিশ কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে জানান যে তার দল ম্যাচের প্রতিটি পরিস্থিতির সঙ্গে দারুণভাবে মানিয়ে নিয়েছে। ইংল্যান্ডের স্কোয়াডে যেকোনো মুহূর্তে ম্যাচের ভাগ্য বদলে দেওয়ার মতো অসাধারণ প্রতিভা থাকা সত্ত্বেও স্পেন পুরো ম্যাচ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে পেরেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। ইংলিশ ফরোয়ার্ড অ্যান্থনি গর্ডন ম্যাচ শেষে দাবি করেন, দুই দলের মানের মধ্যে বড় কোনো ব্যবধান ছিল না; পেনাল্টিটি গোল এালে ম্যাচের ফল অন্য রকম হতে পারত। আর অধিনায়ক হ্যারি কেইন মনে করেন, বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ও ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে তার দল সমানে সমান লড়াই করেছে, যা ভবিষ্যতের ম্যাচগুলোতে আত্মবিশ্বাস জোগাবে।

এই রাউন্ডের অন্য ম্যাচগুলোতেও ছিল রোমাঞ্চের ছড়াছড়ি। গ্রুপ এ৩-এর অপর ম্যাচে নতুন কোচ স্লাভেন বিলিচের অধীনে মাঠে নেমে চেক প্রজাতন্ত্রকে ২-১ গোলে হারিয়েছে ক্রোয়েশিয়া। ম্যাচের বিরতির দুই মিনিট পর গোল করে ক্রোয়েশিয়াকে এগিয়ে দেন দলের ৪১ বছর বয়সী চিরসবুজ অধিনায়ক লুকা মদরিচ। ৫৪ মিনিটে আদাম কারাবেচ সমতা ফেরালেও ৭৭ মিনিটে মার্কো পাসালিচের গোল নিশ্চিত করে ক্রোয়েশিয়ার জয়।

লিগ বি১-এ নতুন কোচ সেবাস্তিয়ান পোকোনিওলির অধীনে মাঠে নেমে স্লোভেনিয়ার সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করেছে স্কটল্যান্ড। তারা আক্রমণাত্মক ফুটবলের আভাস দিলেও ফিনিশিংয়ের অভাবে গোলের দেখা পায়নি। একই লিগের অন্য ম্যাচে নর্থ মেসিডোনিয়াকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে দুর্দান্ত শুরু করেছে সুইজারল্যান্ড। অন্যদিকে গ্রুপ সি১-এ সান মারিনোকে ৭-০ গোলের বিশাল ব্যবধানে বিধ্বস্ত করেছে ফিনল্যান্ড, যেখানে দুর্দান্ত হ্যাটট্রিক করেছেন স্ট্রাইকার জোয়েল পোহিয়ানপালো।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়