চার দশকে প্রথম ব্যক্তিগত পদক, উশুতে ইতিহাস গড়লেন জিন্নাত
নারী উশুকা জিন্নাত আক্তার। ছবি: সংগৃহীত
জাপানের আইচি ও নাগোয়াতে চলমান এশিয়ান গেমসে লাল-সবুজের প্রতিনিধি হিসেবে ইতিহাস গড়েছেন নারী উশুকা জিন্নাত আক্তার। মেয়েদের ৫২ কেজি ওজন শ্রেণির ফাইট ইভেন্টে সেমিফাইনালে উন্নীত হয়ে দেশের জন্য অন্তত ব্রোঞ্জ পদক নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর এই অ্যাথলেট। উশু ফেডারেশন ও বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের (বিওএ) মাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। দীর্ঘ ৪০ বছরের অপেক্ষা ঘুচে যাওয়ায় দেশের ক্রীড়াঙ্গনে বইছে আনন্দের বন্যা।
প্রতিযোগিতার প্রথম রাউন্ডে বাই পেয়ে সরাসরি দ্বিতীয় রাউন্ডে পা রেখেছিলেন জিন্নাত। এরপর কোয়ার্টার ফাইনালে তার প্রতিপক্ষ ছিলেন ইন্দোনেশিয়ার প্রতিযোগী তিসারা দিয়া ফ্লোরেন্টিনা (ইনা ফ্লোরেন্তিনা)। তবে নির্ধারিত ওজনসীমা বজায় রাখতে ব্যর্থ হওয়ায় ইন্দোনেশিয়ান প্রতিদ্বন্দী ডিসকোয়ালিফাইড হন। এর ফলে রিংয়ে কোনো ম্যাচ না খেলেই ওয়াকওভারের সুবাদে সেমিফাইনালের টিকিট পান জিন্নাত।
জিন্নাত আক্তার বলেন, আমি মানষিকভাবে প্রস্তুত ছিলাম ফাইট করার। খেলা হয়নি, তবে পদক নিশ্চিত হয়েছে। আমি কতটা খুশি, তা ভাষায় প্রকাশ করতে পারব না।
উশুর আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী, এই ইভেন্টে ছয়জনের বেশি প্রতিযোগী থাকায় সেমিফাইনালে পরাজিত হওয়া দুই অ্যাথলেটকেই ব্রোঞ্জ পদক প্রদান করা হয়। ফলে সেমিফাইনালে ওঠার সঙ্গেই জিন্নাতের গলায় অন্তত ব্রোঞ্জ পদক ঝোলা নিশ্চিত হয়ে যায়।
আরও পড়ুন: গোলশূন্য ড্রয়ে মিয়ানমারকে রুখে দিল বাংলাদেশ
এর আগে এশিয়ান গেমসের ব্যক্তিগত ইভেন্টে বাংলাদেশের একমাত্র পদকটি এসেছিল দীর্ঘ ১৯৮৬ সালের সিউল আসর থেকে। সেবার বক্সিংয়ের লাইট হেভিওয়েট (৮১ কেজি) বিভাগে ব্রোঞ্জ পদক জিতে দেশের নাম উজ্জ্বল করেছিলেন বক্সার মোশাররফ হোসেন। এরপর বিভিন্ন আসরে দলীয়ভাবে কাবাডি বা ক্রিকেটে কিছু সাফল্য এলেও ব্যক্তিগত ইভেন্টে দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে কোনো পদক ধরা দিচ্ছিল না।
নেত্রকোনার কৃতি সন্তান জিন্নাত ২০১৯ সাল থেকে ঘরোয়া জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপে টানা সাতবার সোনা জিতে নিজের আধিপত্য ধরে রেখেছেন। প্রথমবার কোনো আন্তর্জাতিক বড় আসরে খেলতে নেমেই তিনি এই ঐতিহাসিক কীর্তি গড়লেন।
ব্রোঞ্জ নিশ্চিত করেই সন্তুষ্ট থাকতে নারাজ জিন্নাত আক্তার। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সেমিফাইনালে চীনের এক শক্তিশালী প্রতিযোগীর মুখোমুখি হবেন তিনি। এই গুরুত্বপূর্ণ লড়াইয়ে জয়লাভ করতে পারলে ফাইনালে পৌঁছে স্বর্ণ অথবা অন্তত রৌপ্য পদক নিশ্চিত করার সুবর্ণ সুযোগ থাকবে তার সামনে। এদিকে উশুতে সাফল্য এলেও এই দিনেই পুরুষদের ৫৬ কেজি ওজন শ্রেণির কোয়ার্টার ফাইনালে চীনের প্রতিযোগী জিয়ামিনের কাছে নকআউট হয়ে প্রতিযোগিতা থেকে ছিটকে গেছেন বাংলাদেশের আরেক প্রতিযোগী সজীব হোসেন।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








