আন্তর্জাতিক ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ২১:১২, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মার্কিন ডুবো ড্রোন নিয়ে ইরানের নতুন উদ্যোগ

মার্কিন ডুবো ড্রোন নিয়ে ইরানের নতুন উদ্যোগ

ছবি: সংগৃহীত

হরমুজ প্রণালির প্রবেশমুখে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি অত্যাধুনিক স্বয়ংক্রিয় পানির নিচে চলাচলকারী ডুবো ড্রোন বা এইউভি জব্দ করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। জব্দ করার পর থেকেই এই প্রযুক্তির ব্যবচ্ছেদ ও অনুকরণ বা রিভার্স ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের কাজ শুরু করার ঘোষণা দিয়েছে তেহরান। আইআরজিসির মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হোসেইন মোহেব্বি সম্প্রতি প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

আইআরজিসির তথ্যমতে, প্রায় সাত মাস ধরে চলা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের সময় ইরানি বাহিনীর হাতে বেশ কিছু উন্নত মার্কিন সামরিক সরঞ্জাম এসেছে। 

শীর্ষস্থানীয় প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের হাতে আসা এই যানটি মার্কিন প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অ্যান্ডুরিল ইন্ডাস্ট্রিজ-এর তৈরি ডাইভ-এলডি মডেলের একটি স্বয়ংক্রিয় ডুবোযান। প্রায় ৫.৮ মিটার লম্বা এবং প্রায় ২.৭ টন ওজনের এই যানটি দীর্ঘ পাল্লার নজরদারি, সমুদ্র তলদেশের মানচিত্র তৈরি, সামুদ্রিক অবকাঠামো পরিদর্শন এবং মাইন কাউন্টারমেজার মিশনে ব্যবহারের জন্য বিশেষভাবে নকশা করা হয়েছে। এটি পানির নিচে প্রায় ১০ দিন পর্যন্ত একটানা সক্রিয় থাকতে পারে এবং ৬,০০০ মিটার পর্যন্ত গভীরতায় কাজ করতে সক্ষম।

আইআরজিসির মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হোসেইন মোহেব্বি দাবি করেছেন, সাম্প্রতিক মার্কিন-ইসরায়েলি সংঘাত প্রমাণ করেছে যে ওয়াশিংটনের সবচেয়ে উন্নত প্রতিরক্ষা প্রযুক্তিগুলো এখন ইরানের নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণের আওতাভুক্ত। 

আরও পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্রের বদলে চীনে গেল এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানের যন্ত্রাংশ

মার্কিন এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই ফাইটার জেটে ব্যবহৃত বিশেষ সংকর ধাতু, রাডারে ধরা না পড়ার স্টেলথ প্রযুক্তি, উড্ডয়ন সক্ষমতা এবং অস্ত্র বহনের ক্ষমতাকে ইরানের নিজস্ব ও উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা সফলভাবে নিশানায় পরিণত করেছিল। এছাড়া ইরানের সামরিক বহরে বর্তমানে বিভিন্ন ধরনের যুদ্ধবিমান, সহায়ক বিমান, পরিবহন ও গোয়েন্দা বিমান ছাড়াও বিভিন্ন চালকবিহীন নৌযান ও ডুবো যান রয়েছে বলে তিনি জানান।

এই ঘটনার পর আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ও সামরিক বিশ্লেষকদের মাঝে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। রয়টার্স ও আল-জাজিরার মতো গণমাধ্যমে প্রকাশ পাওয়া বিশ্লেষকদের মতে, জব্দ করা এই ডুবো ড্রোন থেকে ইরানের সরাসরি কোনো বড় বা নির্ণায়ক সামরিক সুবিধা পাওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। 

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রাথমিক ভাষ্য অনুযায়ী, ড্রোনটি প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে নির্ধারিত পথ হারিয়েছিল। তবে এই ঘটনা বিশ্বমঞ্চে যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তিগত অজেয়তার ভাবমূর্তির জন্য একটি বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি করেছে। ইরান অতীতেও বিভিন্ন মার্কিন ড্রোন ও সামরিক সরঞ্জাম জব্দ করে রিভার্স ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে নিজস্ব প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধির দাবি করে আসলেও, এই আধুনিক ডুবোযানের প্রযুক্তি তারা কতটা সফলভাবে নিজেদের সামরিক বহরে যুক্ত করতে পারবে, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে প্রশ্ন থেকেই গেছে।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়