নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৯:৫৪, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

গাজী নজরুলের এমপি পদ নিয়ে পুলিশের পদক্ষেপের অপেক্ষায় স্পিকার

গাজী নজরুলের এমপি পদ নিয়ে পুলিশের পদক্ষেপের অপেক্ষায় স্পিকার

ছবি: সংগৃহীত

সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) গাজী নজরুল ইসলামের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এবং তার দ্বিতীয় স্ত্রীর অপমৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। দল থেকে বহিষ্কারের পর সংসদ সদস্য পদ বহাল থাকা নিয়ে সংবিধানের বিভিন্ন অনুচ্ছেদ ও বিধান নতুন করে সামনে এসেছে।

জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে, কোনো রাজনৈতিক দল থেকে সংসদ সদস্যকে বহিষ্কার করা হলে তার সংসদ সদস্য পদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে শূন্য হয় না। বাংলাদেশের সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো সংসদ সদস্য যদি নিজে থেকে দল থেকে পদত্যাগ করেন কিংবা সংসদে দলের বিপক্ষে ভোট দেন, কেবল তখনই তার আসন শূন্য হতে পারে। কিন্তু দলীয় সিদ্ধান্তে বহিষ্কারের ক্ষেত্রে আসন হারানোর কোনো স্পষ্ট বিধান সংবিধানে নেই।

সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদে সংসদ সদস্য পদে থাকার যোগ্যতার বিষয়ে বলা হয়েছে যে, নৈতিক স্খলনজনিত কোনো ফৌজদারি অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়ে যদি কেউ অন্তত দুই বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন এবং তার মুক্তির পর পাঁচ বছর পার না হয়, কেবল তখনই তিনি সংসদ সদস্য পদে থাকার অযোগ্য বিবেচিত হবেন। এর বাইরে কোনো বিতর্ক দেখা দিলে সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য নির্বাচন কমিশনের কাছে পাঠানো হয় এবং এ ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে গণ্য হয়।

আরও পড়ুন: গাজী নজরুলের এমপি পদ নিয়ে স্পিকারের চিঠির অপেক্ষায় ইসি

চলতি বছরের জুলাই মাসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সংসদ সদস্য গাজী নজরুলের একটি ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। পরবর্তীতে তিনি দাবি করেন যে ভিডিওর ওই তরুণী তার দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুন এবং প্রথম স্ত্রীর সম্মতিতে গত জুনে তারা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন। 

তবে এই ঘটনায় দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হওয়ার অভিযোগে গত ২২ জুলাই জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের বৈঠকে গঠনতন্ত্রের ৬২ নম্বর ধারা অনুযায়ী তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। দলীয় তদন্তে তার নৈতিক স্খলন প্রমাণিত হয়েছে বলে দাবি করে জামায়াত, এবং পরবর্তীতে তাকে সংসদীয় কমিটিগুলো থেকেও বাদ দেওয়া হয়।

দলীয় বহিষ্কার ও নানা বিতর্কের রেশ কাটতে না কাটতেই গত ২০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের ন্যাম ভবনের ৫ নম্বর বিল্ডিংয়ের একটি ফ্ল্যাট থেকে গাজী নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রী ১৯ বছর বয়সী মরিয়ম খাতুনের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এই ঘটনায় মরিয়মের বাবা মো. মাসুম বিল্লাহ শেরেবাংলা নগর থানায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম, তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা বেগম এবং মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানকে আসামি করা হয়।

মামলার পর পুলিশ গাজী নজরুল ও তার প্রথম স্ত্রীকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে। আদালতের মাধ্যমে রিমান্ড শেষে প্রথম স্ত্রী মাকছুদাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। 

অন্যদিকে মরিয়মের মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে ২১ সেপ্টেম্বর রাতে সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা ইউনিয়নের পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করা হয়েছে, যেখানে বিশ্বাসভঙ্গ ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত থাকার ইঙ্গিত রয়েছে বলে জানা গেছে।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়