নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৮:১৪, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ভারতে বাংলাদেশের নতুন হাইকমিশনার আসাদ আলম

ভারতে বাংলাদেশের নতুন হাইকমিশনার আসাদ আলম

ছবি: সংগৃহীত

ভারতের নতুন হাইকমিশনার হিসেবে নিয়োগ পেতে যাচ্ছেন বর্তমান পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম। তার এই নিয়োগে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদন বা অ্যাগ্রিমেন্ট দিয়েছে নয়াদিল্লি। 

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) ভারতের পক্ষ থেকে এই সম্মতিপত্র বা অ্যাগ্রিমেন্ট-এর অনুলিপি ঢাকায় হস্তান্তর করা হয়। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদনে কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে নতুন হাইকমিশনারের নিয়োগ নিয়ে তৈরি হওয়া যাবতীয় জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটল। 

কূটনৈতিক নিয়ম অনুযায়ী, কোনো দেশের রাষ্ট্রদূত বা হাইকমিশনার হিসেবে মনোনীত ব্যক্তিকে গ্রহণে স্বাগতিক দেশের আনুষ্ঠানিক সম্মতি হলো অ্যাগ্রিমেন্ট, যা পাওয়ার পরই নিয়োগ প্রক্রিয়া চূড়ান্তভাবে এগোয়।

ভারতের কাছে আসাদ আলম সিয়ামকে পরবর্তী হাইকমিশনার হিসেবে নিয়োগের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে প্রস্তাব (এগ্রিমো) পাঠিয়েছিল বাংলাদেশ। গত ১৩ জুলাই ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তার নাম প্রস্তাব করা হয়েছিল। দীর্ঘ এক মাসেরও বেশি সময় পর সেই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে নয়াদিল্লি তাতে সম্মতি জানাল। বর্তমান হাইকমিশনার এম রিয়াজ হামিদুল্লাহর স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন আসাদ আলম সিয়াম। এম রিয়াজ হামিদুল্লাহ আগামী অক্টোবরের মাঝামাঝি জেনেভায় জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে নতুন দায়িত্ব গ্রহণ করতে পারেন। 

উল্লেখ্য, ভারত থেকে সাবেক মন্ত্রী ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব দিনেশ ত্রিবেদীকে ঢাকায় নতুন দূত হিসেবে পাঠানোর পর বাংলাদেশও তাদের সবচেয়ে জ্যেষ্ঠ ও অভিজ্ঞ এই কূটনীতিককে দিল্লিতে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয়। ২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে দুই দেশের সম্পর্কে কিছু টানাপড়েন তৈরি হয়েছিল। পরবর্তীতে নতুন রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক পুনর্গঠন ও গতিশীল করার অংশ হিসেবে দুই পক্ষই পারস্পরিক সম্পর্ক মেরামতের উদ্যোগ নিয়েছে, যদিও ভারতে শেখ হাসিনার উপস্থিতি ঢাকার কূটনৈতিক মহলে এখনও একটি বড় আলোচনার বিষয় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

আরও পড়ুন: সাবেক এমপি মাহফুজুর রহমান মিতা গ্রেফতার

নতুন হাইকমিশনার আসাদ আলম সিয়াম একজন পেশাদার ও ক্যারিয়ার কূটনীতিক। তিনি ১৯৯৫ সালে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের (বিসিএস) ১৫তম ব্যাচে পররাষ্ট্র ক্যাডারে যোগ দেন। শিক্ষাজীবনে তিনি বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) থেকে স্থাপত্যে স্নাতক এবং পরবর্তীকালে নেদারল্যান্ডসের মাস্ট্রিচট স্কুল অব ম্যানেজমেন্ট থেকে এমবিএ ডিগ্রি অর্জন করেন। এ ছাড়া তিনি কাঠমান্ডুর সার্ক সচিবালয়, হাওয়াইয়ের এপিসিএসএস, সিউলের আইএফএএনএস এবং ঢাকার জাতীয় প্রতিরক্ষা কলেজ (এনডিসি) থেকে বেশ কয়েকটি পেশাদার উচ্চতর কোর্স সম্পন্ন করেছেন। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে ২০২৫ সালের ২০ জুন তিনি বাংলাদেশের পররাষ্ট্রসচিব হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। পররাষ্ট্রসচিব পদের দায়িত্ব নেওয়ার আগে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এবং বিশ্বব্যাংক-আইএমএফে স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে অত্যন্ত সফলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

দীর্ঘ ও বর্ণাঢ্য কূটনৈতিক জীবনে আসাদ আলম সিয়াম দেশে ও বিদেশে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বেশ কয়েকটি পদে আসীন ছিলেন। তিনি অস্ট্রিয়া ও ফিলিপাইনে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। অস্ট্রিয়ায় দায়িত্ব পালনের সময় একযোগে হাঙ্গেরি, স্লোভেনিয়া ও স্লোভাকিয়ায় তার সমবর্তী (কনকারেন্ট) দায়িত্ব ছিল। এ ছাড়া ফিলিপাইনে দায়িত্ব পালনকালে তিনি পালাউসহ বিভিন্ন আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক দায়িত্ব দক্ষতার সঙ্গে সামলান। 

এর আগে তিনি ইতালির মিলানে বাংলাদেশের প্রথম কনসাল জেনারেল, যুক্তরাজ্যের ম্যানচেস্টারে সহকারী হাইকমিশনার এবং জাকার্তা, ব্যাংককসহ বিভিন্ন মিশনে গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক দায়িত্ব পালন করেন। ব্যাংককে ইউএন এসকাপে তিনি বিকল্প স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবেও কাজ করেছেন। পেশাগত জীবনে তিনি ভিয়েনায় অবস্থিত জাতিসংঘের বিভিন্ন কার্যালয় এবং ওপেক তহবিলে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ছিলেন। তাছাড়া তিনি অসংখ্য দ্বিপক্ষীয়, আঞ্চলিক ও বহুপক্ষীয় আলোচনায় বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সদর দপ্তরেও তিনি বিভিন্ন নীতিনির্ধারণী ও গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। এর মধ্যে প্রধান প্রটোকল কর্মকর্তা (চিফ অব প্রটোকল), ইউরোপ ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন অনুবিভাগের মহাপরিচালক, ফরেন সার্ভিস একাডেমির রেক্টর এবং ইন্সপেক্টর জেনারেল অব মিশনস (আইজিএম)-এর দায়িত্ব অন্যতম। পেশাগত দক্ষতা, গভীর কূটনৈতিক অভিজ্ঞতা ও দূরদর্শিতার কারণে নয়াদিল্লির মতো অত্যন্ত কৌশলগত ও গুরুত্বপূর্ণ মিশনে তাকে প্রধান করে পাঠানোর সিদ্ধান্ত দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে নতুন গতি আনবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়