ডেঙ্গুতে একদিনে ৫ মৃত্যু, হাসপাতালে ১,৮৭২
ফাইল ছবি
দেশে ডেঙ্গুর সংক্রমণ ও মৃত্যুর পরিসংখ্যানে উদ্বেগজনক চিত্র অব্যাহত রয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গু বিষয়ক নিয়মিত বুলেটিন অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরও ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সঙ্গে এই সময়ে চলতি বছরের একক দিনে সর্বোচ্চ ১ হাজার ৮৭২ জন নতুন ডেঙ্গু রোগী দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্য দিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুতে মোট মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৯৫ জনে এবং হাসপাতালে মোট ভর্তি রোগীর সংখ্যা পৌঁছেছে ৬৫ হাজার ৪৯৯ জনে।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হওয়া ১ হাজার ৮৭২ জনের মধ্যে বরিশাল বিভাগে ১৯০ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ২৮৫ জন, খুলনা বিভাগে ৩১৬ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ১০৫ জন, রাজশাহী বিভাগে ১৬২ জন, রংপুর বিভাগে ৬৭ জন এবং সিলেট বিভাগে ৬ জন রয়েছেন। এছাড়া ঢাকা বিভাগে সিটি করপোরেশনের বাইরে ৩৯১ জন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ১৫৮ জন এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ১৯১ জন নতুন রোগী ভর্তি হয়েছেন।
বর্তমান পরিস্থিতি বিশ্লেষণে দেখা যায়, ঢাকা বিভাগসহ খুলনা, চট্টগ্রাম ও বরিশাল বিভাগে ডেঙ্গু আক্রান্তের হার সবচেয়ে বেশি এবং ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনেও সংক্রমণ অত্যন্ত তীব্র আকার ধারণ করেছে।
আরও পড়ুন: ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় ৬ মৃত্যু, ভর্তি ১,৬৫৫
চলতি বছরের ডেঙ্গু পরিস্থিতির মাসভিত্তিক ও তুলনামূলক পরিসংখ্যান পর্যালোচনায় দেখা যায়, চলতি সেপ্টেম্বর মাস ডেঙ্গুর জন্য সবচেয়ে বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে। শুধুমাত্র সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম ২২ দিনেই মারা গেছেন ৯৮ জন, যা মাসভিত্তিক হিসাবে চলতি বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। এর আগে আগস্ট মাসে মারা গেছেন ৪৩ জন, জুলাইয়ে ৩৬ জন, জুনে ১৩ জন, মে মাসে ১ জন এবং জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে দুজন করে ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়েছিল।
এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছেন ১ হাজার ৪৭৭ জন এবং এ পর্যন্ত মোট ৬০ হাজার ৫৬০ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ১ হাজার ৪৭৭ জন রোগী।
বিগত বছরগুলোর সঙ্গে তুলনা করলে দেখা যায়, ২০২৩ সালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে সর্বকালের রেকর্ড ভেঙে ১ হাজার ৭০৫ জনের মৃত্যু হয়েছিল এবং হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন ৩ লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন। পরবর্তীতে ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট ১ লাখ ১ হাজার ২১৪ জন আক্রান্ত এবং ৫৭৫ জনের মৃত্যু হয়।
এছাড়া ২০২৫ সালে ডেঙ্গুতে মোট ৪১৩ জনের মৃত্যুর পাশাপাশি আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ১ লাখ ২ হাজার ৮৬১ জন।
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতে, বর্ষা মৌসুমের দীর্ঘস্থায়িত্ব, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে অনিয়মিত বৃষ্টিপাত এবং মশক নিধনে কার্যকর দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপের অভাবে ডেঙ্গুর প্রকোপ দিন দিন দীর্ঘায়িত ও মারাত্মক রূপ নিচ্ছে।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








