হামের প্রাদুর্ভাব: ২৪ ঘণ্টায় আরও ৬ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ১৩০৫
ফাইল ছবি
দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে আরও ছয়টি শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ৩০৫ জন শিশু হাম কিংবা এর উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছে।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাম-বিষয়ক নিয়মিত হালনাগাদ প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া শিশুরা সবাই হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন ছিল, তবে ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে এই সময়ে সরাসরি কোনো শিশুর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে শুরু হওয়া এই হামের প্রাদুর্ভাবে এখন পর্যন্ত দেশজুড়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা ১ হাজার ৬৩ জনে দাঁড়িয়েছে।
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া ছয় শিশুর মধ্যে ঢাকা ও সিলেট বিভাগে দুজন করে এবং চট্টগ্রাম ও বরিশাল বিভাগে একজন করে শিশু রয়েছে। সবচেয়ে বেশি রোগী শনাক্ত হয়েছে রাজধানী ঢাকাসহ ঢাকা বিভাগে। এই বিভাগে একদিনেই ৪২৯ জন সন্দেহজনক এবং ৫৯ জন নিশ্চিত হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে।
অন্যদিকে সবচেয়ে কম আক্রান্তের খবর পাওয়া গেছে রংপুর বিভাগ থেকে, যেখানে ২৬ জন সন্দেহজনক হাম রোগী শনাক্ত হয়েছেন এবং তাদের সবাইকেই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে নতুন করে ১ হাজার ২১৫ শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে এবং সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ১ হাজার ২৩৩ জন শিশু।
আরও পড়ুন: হাম উপসর্গে আরও ৪ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ১২৩৬
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান বলছে, গত ১৫ মার্চ থেকে ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সারা দেশে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে মোট ১ হাজার ৬৩ শিশুর প্রাণহানি ঘটেছে। এর মধ্যে সরাসরি নিশ্চিত হামে মারা গেছে ১০১ জন এবং হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে ৯৬২ জন শিশু। এই নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে মোট আক্রান্তের সংখ্যা পৌঁছেছে ২ লাখ ১ হাজার ৬৮১ জনে। যার মধ্যে ল্যাব পরীক্ষায় নিশ্চিত হাম রোগী হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন ২০ হাজার ৬৪৬ জন এবং বাকি ১ লাখ ৮১ হাজার ৩৫ জন রোগী হামের নানা উপসর্গ নিয়ে ভুগছেন।
চলতি বছরে এখন পর্যন্ত সর্বমোট ১ লাখ ৫৯ হাজার ৮০৪ জন শিশু হাম ও এর উপসর্গজনিত কারণে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছে। এর মধ্যে সফল চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে ১ লাখ ৫৩ হাজার ৪৪৮ জন শিশু ছাড়পত্র নিয়ে বাড়ি ফিরে গেছে।
চিকিৎসাবিজ্ঞান ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্য অনুযায়ী, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ যা দ্রুত বাতাস ও ড্রপলেটের মাধ্যমে ছড়ায়। পুষ্টিহীনতা, টিকাদানের ঘাটতি এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকার কারণে শিশুদের ক্ষেত্রে হামের জটিলতা অনেক সময় মারাত্মক নিউমোনিয়া বা এনসেফালাইটিসের রূপ নিতে পারে, যা পরবর্তীতে প্রাণঘাতী হয়ে ওঠে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা দেশের প্রতিটি অঞ্চলে শিশুদের টিকাদান কর্মসূচি আরও জোরদার করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেছেন। বিশেষ করে যাদের বয়স টিকা নেওয়ার উপযুক্ত কিন্তু এখনো পূর্ণাঙ্গ ডোজ সম্পন্ন হয়নি, তাদের দ্রুত টিকার আওতায় আনার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা। একই সঙ্গে কোনো শিশুর শরীরে হামের লক্ষণ দেখা দিলে কালবিলম্ব না করে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার তাগিদ দিয়েছেন তারা।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








