নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ২১:৪৩, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

হারানো পাসপোর্ট রি-ইস্যুতে ১০ হাজার টাকা জরিমানা

হারানো পাসপোর্ট রি-ইস্যুতে ১০ হাজার টাকা জরিমানা

ফাইল ছবি

পাসপোর্ট হারিয়ে যাওয়া বা চুরি হওয়ার ঘটনা রোধ এবং এর অপব্যবহারের মাধ্যমে সম্ভাব্য জাতীয় নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবিলায় নতুন এবং কঠোর নির্দেশনা জারি করেছে সরকার। 

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগের বহিরাগমন-৪ শাখা থেকে এই সংক্রান্ত একটি নতুন পরিপত্র জারি করা হয়, যা অবিলম্বে কার্যকর হয়েছে। 

উপসচিব মোহাম্মদ নুরুজ্জামান স্বাক্ষরিত এই পরিপত্রে পাসপোর্ট হারানো, চুরি বা বিনষ্ট হওয়ার পর পুনরায় ইস্যু (রি-ইস্যু) করার ক্ষেত্রে ফি ছাড়াও অতিরিক্ত দণ্ড ফি এবং সুনির্দিষ্ট কিছু বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়েছে।

সাম্প্রতিক সময়ে দেশের অভ্যন্তরে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক ব্যক্তি পাসপোর্ট হারিয়ে যাওয়ার বা চুরি হওয়ার মিথ্যা বা প্রকৃত ঘোষণা দিয়ে পুনরায় পাসপোর্টের জন্য আবেদন করছেন। পাসপোর্ট একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল আন্তর্জাতিক ভ্রমণ দলিল হওয়ায় এর অপব্যবহারের মাধ্যমে মানবপাচার, অবৈধ অনুপ্রবেশ এবং রাষ্ট্রবিরোধী কার্যকলাপসহ গুরুতর নিরাপত্তা সংকট তৈরির আশঙ্কা থাকে। এসব বিষয় গভীরভাবে বিবেচনা করে সরকার এই কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে।

নয়া পরিপত্র অনুযায়ী, কোনো নাগরিকের পাসপোর্ট যদি প্রথমবার হারায়, চুরি হয় বা বিনষ্ট হয়, তবে শুধুমাত্র নিয়মিত নির্ধারিত পাসপোর্ট ফি প্রদান করেই তা পুনরায় সংগ্রহ করা যাবে; এক্ষেত্রে কোনো অতিরিক্ত দণ্ড ফি দিতে হবে না। তবে পরবর্তীতে অর্থাৎ দ্বিতীয়বার বা তার বেশি যতবার পাসপোর্ট হারাবে কিংবা নষ্ট হবে, প্রতিবারের জন্য নির্ধারিত পাসপোর্ট ফির অতিরিক্ত ১০ হাজার টাকা করে দণ্ড ফি বা জরিমানা দিতে হবে।

পাসপোর্ট হারিয়ে গেলে বা চুরি হলে কালক্ষেপণ না করে দ্রুত বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের নির্ধারিত ওয়েবসাইট বা অনলাইন মাধ্যমে বিষয়টি রিপোর্ট করতে হবে। একই সঙ্গে নিকটস্থ থানায় অবিলম্বে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে হবে। সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ ৭২ ঘণ্টার মধ্যে জিডির সত্যতা ও সঠিকতা যাচাই করে বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর বা নিকটস্থ পাসপোর্ট অফিসে প্রতিবেদন পাঠাবে। তবে কোনো কারণে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে পুলিশের প্রতিবেদন পাওয়া না গেলে, জিডির কপি সংযুক্ত করেই পাসপোর্ট পুনঃইস্যুর আবেদন করা যাবে। পরবর্তীতে অধিদপ্তর লস্ট সার্কুলার জারি করে রি-ইস্যুর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবে।

জিডি যাচাইয়ের সময় যদি প্রমাণিত হয় যে, বিদেশ গমনের ভিসা পাওয়ার উদ্দেশ্যে কোনো ব্যক্তি, ট্রাভেল এজেন্সি বা প্রতিষ্ঠানের কাছে পাসপোর্ট জমা দেওয়া হয়েছিল এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষ সেটি অবৈধভাবে আটকে রেখেছে যা তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধার বা ফেরত পাওয়া সম্ভব নয় তবে পূর্ববর্তী পাসপোর্টটি বাতিল বা রিভোক করে নতুন পাসপোর্ট ইস্যু করার সুযোগ রাখা হয়েছে। এক্ষেত্রে দেশীয় ট্রাভেল এজেন্সিগুলোর দৌরাত্ম্য ও সাধারণ মানুষের হয়রানি কমাতে থানায় সুনির্দিষ্ট অভিযোগ করার আইনি সুযোগও রয়েছে।

হারানো বা চুরি হওয়া পাসপোর্টের যাবতীয় তথ্য পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশের বিশেষ শাখা (এসবি) তাদের ইমিগ্রেশন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমে (আইএমএস) তা তাৎক্ষণিকভাবে হালনাগাদ করবে। এছাড়া নিরাপত্তার স্বার্থে প্রয়োজনে আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোলকে বিষয়টি অবহিত করা এবং বিধি অনুযায়ী পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আরও পড়ুন: বাসের ভাড়া কিলোমিটারে বাড়লো ১৭ পয়সা

দেশের বাইরে অবস্থানকালে কোনো প্রবাসী কর্মীর পাসপোর্ট হারানো, চুরি বা বিনষ্ট হওয়ার ঘটনা ঘটলে তাকে নির্ধারিত অনলাইন মাধ্যমে রিপোর্ট করার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশ দূতাবাস, হাইকমিশন বা কনস্যুলেটে আবশ্যিকভাবে অবহিত করতে হবে। পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট মিশন লস্ট সার্কুলার জারি করে পাসপোর্ট পুনঃইস্যুর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবে এবং সেই তথ্য দেশের সংশ্লিষ্ট যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠাবে। 

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, অনেক সময় প্রবাসীরা প্রবাসে ভালো চাকরি বা কফিল পরিবর্তনের সুযোগ পেলেও চুক্তিজনিত কারণে তা করতে পারেন না; ফলে শর্টকাটে পাসপোর্ট হারানোর অজুহাত দিয়ে নতুন পাসপোর্ট তোলার প্রবণতা রোধেও এই কড়াকড়ি কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

নতুন নির্দেশিকায় স্পষ্ট করা হয়েছে যে, হারানো বা চুরি যাওয়া পাসপোর্ট পুনঃইস্যু করার সময় আবেদনকারীর নাম, জন্মতারিখ, বাবা ও মায়ের নাম এই মৌলিক পরিচয়গত কোনো তথ্যই সম্পূর্ণ পরিবর্তন করা যাবে না। তবে প্রচলিত আইন ও বিধি অনুযায়ী অনুমোদিত সংশোধন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বৈধ ও সঠিক তথ্য সংশোধনের বিষয়টি আলাদাভাবে বিবেচনা করা হবে। এছাড়া নতুন ইস্যুকৃত পাসপোর্টের ডেটাপেজে স্পষ্ট অক্ষরে প্রিভিয়াস পাসপোর্ট ইজ রিপোর্টেড টু বি লস্ট কথাটি উল্লেখ থাকবে এবং কেন্দ্রীয় ডেটাবেজে আগের পাসপোর্টের অবস্থা লস্ট বা রিভোকড হিসেবে স্থায়ীভাবে আপডেট করা হবে।

কোনো পাসপোর্ট যদি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত বা বিনষ্ট হয় এবং তার শনাক্তযোগ্য অংশ বাহকের দখলে থাকে, তবে সেই অংশ সমর্পণের ভিত্তিতে নিয়মমাফিক নতুন পাসপোর্ট ইস্যু করা হবে। কিন্তু পাসপোর্টটি যদি এমনভাবে সম্পূর্ণ বিনষ্ট হয় যে বাহককে শনাক্ত করার মতো বিন্দুমাত্র অংশও প্রদর্শন করা সম্ভব নয়, তবে সেটি পুরোপুরি হারানো পাসপোর্টের সমতুল্য হিসেবে গণ্য করে সেই অনুযায়ী নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, হারানো বা চুরি গেছে মর্মে রিপোর্ট করার পর পরবর্তীতে যদি পুরোনো পাসপোর্টটি খুঁজে পাওয়া যায় কিংবা উদ্ধার করা হয়, তবুও সেটি আর কোনোভাবেই পুনরায় সক্রিয় করা যাবে না এবং তা দিয়ে কোনো অবস্থাতেই বিদেশ ভ্রমণ বা ইমিগ্রেশন পার হওয়া যাবে না। পাসপোর্ট পাওয়া গেলে তৎক্ষণাৎ তা থানাকে অবহিত করতে হবে এবং অনলাইন মাধ্যমে জানাতে হবে। প্রবাসীদের ক্ষেত্রে স্থানীয় বাংলাদেশ মিশনকে জানাতে হবে। কর্তৃপক্ষ পরবর্তীতে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ডাটাবেজ ও ইমিগ্রেশন অ্যালার্ট হালনাগাদ করে নেবে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এই কঠোর সিদ্ধান্ত দেশের সার্বিক অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা রক্ষা, ট্রাভেল এজেন্সিগুলোর অবৈধ দৌরাত্ম্য বন্ধ এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে পাসপোর্টের সুরক্ষা ও গ্রহণযোগ্যতা বহুগুণ বাড়িয়ে তুলবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়