গোলশূন্য ড্রয়ে মিয়ানমারকে রুখে দিল বাংলাদেশ
ছবি: সংগৃহীত
জাপানের ওসাকার নাগাই স্টেডিয়ামে এশিয়ান গেমসের নারী ফুটবলের গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে মিয়ানমারের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র করেছে বাংলাদেশ। জাপানে অনুষ্ঠিত এফ গ্রুপের এই ম্যাচে দুদলই গোলের একাধিক সুযোগ তৈরি করেও তা কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয়। এর ফলে তিন ম্যাচে জয়হীন ও কোনো গোল না পেলেও এক পয়েন্ট নিয়ে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিল পিটার বাটলারের শিষ্যরা। গ্রুপের প্রথম দুই ম্যাচে উত্তর কোরিয়ার কাছে ১০-০ এবং দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে ৬-০ গোলে হেরে আগেই কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার পথ কঠিন হয়ে গিয়েছিল লাল-সবুজের প্রতিনিধিদের।
ম্যাচের শুরু থেকেই মিয়ানমার আক্রমণাত্মক ফুটবলের পরিচয় দেয়। ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের চেয়ে এগিয়ে থাকা দলটি ম্যাচের শুরু থেকেই বাংলাদেশের রক্ষণে চাপ সৃষ্টি করে। দ্বিতীয় মিনিটে মিয়ানমারের টানা দুটি শট রুখে দিতে হয় রক্ষণভাগকে। ম্যাচের দশ মিনিটের মাথায় বাংলাদেশের গোলরক্ষক রূপনা চাকমাকে একা পেয়েও গোল করতে ব্যর্থ হয় মিয়ানমারের আক্রমণভাগ। তবে প্রথমার্ধে বাংলাদেশের রক্ষণ ও গোলরক্ষক রূপনা ত্রাতা হিসেবে আবির্ভূত হন। ২৭ মিনিটে মিয়ানমারের একটি বিপজ্জনক শট এবং প্রথমার্ধের বিভিন্ন সময়ে উইন থেইঙ্গি তুনের আক্রমণগুলো দারুণ দক্ষতায় প্রতিহত করেন রূপনা।
অন্যদিকে, প্রথমার্ধের শেষদিকে আক্রমণে কিছুটা গতি আনার চেষ্টা করে বাংলাদেশ। ১৯ মিনিটে আফঈদা খন্দকারের একটি ফ্রি-কিক এবং ৩৮ থেকে ৩৯ মিনিটের মাথায় মিয়ানমারের ডিফেন্ডারের ভুলে বল পেয়ে ঋতুপর্ণা চাকমার নেওয়া শট পোস্টের ওপর দিয়ে চলে যায়। গত বছর মিয়ানমারের মাটিতে এশিয়ান কাপ বাছাইয়ে এই দলটির বিপক্ষে জয়ের নায়ক ঋতুপর্ণা এ দিনও মাঠে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে মিয়ানমার লিগে খেলার সুবাদে দেশটির ফুটবল সম্পর্কে অভিজ্ঞতা থাকা সত্ত্বেও ফরোয়ার্ড লাইন ও মিডফিল্ডের মধ্যে যথাযথ সমন্বয়হীনতার কারণে কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা পায়নি বাংলাদেশ।
আরও পড়ুন: এশিয়ান গেমসের প্রস্তুতিতে সবার আগে জাপানে ঋতুপর্ণারা
দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচের চিত্র অপরিবর্তিত থাকে, যেখানে মিয়ানমার বেশি সময় বলের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের কাছে রাখে। ৭৭ মিনিটে মিয়ানমার গোল করার এক সহজ সুযোগ পেলেও বদলি খেলোয়াড়ের শট অসাধারণ দক্ষতায় ফিরিয়ে দেন গোলরক্ষক রূপনা চাকমা। এর ঠিক পরেই আফঈদা খন্দকার ডি-বক্সের ভেতর দারুণভাবে প্রতিপক্ষের শট ব্লক করে দলকে রক্ষা করেন। শেষ দিকে বাংলাদেশ অধিনায়ক মারিয়া মান্দার গড়া আক্রমণে কর্নার পেলেও তা থেকে ব্যবধান গড়া সম্ভব হয়নি। ম্যাচের নির্ধারিত ৯০ মিনিট ও অতিরিক্ত সময়েও কোনো দল জালের দেখা না পেলে রেফারি শেষ বাঁশি বাজান।
টুর্নামেন্টজুড়ে বাংলাদেশের রক্ষণভাগকে কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হয়েছে। আসরের তিন ম্যাচে প্রতিপক্ষের কাছে মোট ১৬টি গোল হজম করতে হয়েছে বাংলাদেশকে। এর আগে প্রথম দুই ম্যাচে বড় ব্যবধানে হারলেও শেষ ম্যাচে রক্ষণ অক্ষত রেখে মাঠ ছাড়তে পারাকে দলের জন্য কিছুটা স্বস্তির বিষয় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। মিয়ানমারও তিন ম্যাচে এক পয়েন্ট সংগ্রহ করলেও গোল ব্যবধানে এগিয়ে থাকায় গ্রুপে তৃতীয় স্থান লাভ করে। অন্যদিকে বাংলাদেশ চতুর্থ স্থানে থেকে এবারের মতো এশিয়ান গেমস মিশন শেষ করল। আন্তর্জাতিক ফুটবলের এই মহাযজ্ঞে অভিজ্ঞতা অর্জন এবং ভুলত্রুটি শুধরে ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী হয়ে ফিরে আসার প্রত্যয় নিয়েই ওসাকার মাঠ ছাড়ে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








