নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৮:১০, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পলায়নের অভিযোগে পুলিশের শীর্ষ ৬ কর্মকর্তা চাকরিচ্যুত

পলায়নের অভিযোগে পুলিশের শীর্ষ ৬ কর্মকর্তা চাকরিচ্যুত

ফাইল ছবি

কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকা ও পলায়নের অভিযোগে ঢাকা জেলার সাবেক পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামানসহ ছয় পুলিশ কর্মকর্তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করেছে সরকার। 

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ থেকে পৃথক প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে তাদের বিরুদ্ধে এ প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। 

প্রজ্ঞাপনগুলোতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরীর স্বাক্ষর রয়েছে। পৃথক আদেশে বরখাস্ত হওয়া অন্য কর্মকর্তারা হলেন সাবেক পুলিশ সুপার আরিফুর রহমান মন্ডল, সচিবালয়ের নিরাপত্তায় দায়িত্ব পালন করা সাবেক অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার রাজীব দাস, সাবেক অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ জায়েদুল আলম, অ্যান্টি টেররিজম ইউনিটের (এটিইউ) সাবেক পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ছানোয়ার হোসেন এবং সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পলাশ রঞ্জন দে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এ পদক্ষেপকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর কর্মস্থলে অনুপস্থিত বা পলাতক হয়ে পড়া পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে চলমান প্রশাসনিক ব্যবস্থার ধারাবাহিকতা হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর আগে জুলাই মাসে সরকার জানিয়েছিল, গণঅভ্যুত্থানের পর কর্মস্থলে অনুপস্থিত ও পলাতক থাকা ৫৭ পুলিশ কর্মকর্তাকে পর্যায়ক্রমে চাকরি থেকে বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। 

সে সময় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (শৃঙ্খলা) কাজী সাইফুল ইসলাম জানিয়েছিলেন, ৫ আগস্টের পর পুলিশের অন্তত ৮২ জন ক্যাডার কর্মকর্তা পলাতক ছিলেন এবং তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া শেষে ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ৫৭ জনের একটি তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছিল। ওই তালিকায় বর্তমান ছয় কর্মকর্তার মধ্যে আসাদুজ্জামান, আরিফুর রহমান মন্ডল, মোহাম্মদ জায়েদুল আলম, রাজীব দাস, মোহাম্মদ ছানোয়ার হোসেন ও পলাশ রঞ্জন দের নামও ছিল।

সরকারের ওই উদ্যোগের পর ধাপে ধাপে আরও কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। গত ১২ আগস্ট কর্মস্থলে অননুমোদিতভাবে অনুপস্থিত থাকা ও পলায়নের অভিযোগে ঢাকা মহানগর পুলিশের সাবেক যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার, সাবেক যুগ্ম কমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী, ওয়ারী বিভাগের সাবেক উপপুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ ইকবাল হোসাইন, ডিএমপির সহকারী পুলিশ কমিশনার মো. গোলাম রুহানীসহ ছয় কর্মকর্তাকে বরখাস্তের তথ্য প্রকাশ করা হয়। ওই সময় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে সরকারি কর্মচারীদের শৃঙ্খলা ও আপিলবিষয়ক বিধানের আওতায় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানানো হয়েছিল।

আরও পড়ুন: আইজিপিসহ ৯২ পুলিশ সদস্য পাচ্ছেন মর্যাদাপূর্ণ পুলিশ পদক

পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে পলায়নের অভিযোগে এর আগেও বড় পরিসরে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ২০২৫ সালের আগস্টে সাবেক ডিএমপি কমিশনার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদসহ ১৮ পুলিশ কর্মকর্তাকে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকা ও পলায়নের অভিযোগে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছিল। ওই তালিকায় ঢাকা জেলার সাবেক পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান এবং অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ জায়েদুল আলমের নামও ছিল। সংশ্লিষ্ট প্রজ্ঞাপনে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর বিধি ৩(গ)-এর আওতায় পলায়নকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করে বিধি ১২(১) অনুযায়ী সাময়িক বরখাস্তের কথা বলা হয়েছিল।

ছয় কর্মকর্তার কর্মজীবনের দায়িত্বের ক্ষেত্রও ছিল ভিন্ন ভিন্ন। মোহাম্মদ জায়েদুল আলম এর আগে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং পরে অতিরিক্ত ডিআইজি পদে পদোন্নতি পান। ২০২২ সালে তাকে ডিএমপির লজিস্টিকস বিভাগের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। মোহাম্মদ ছানোয়ার হোসেন অ্যান্টি টেররিজম ইউনিটের পুলিশ সুপার (অপারেশনস) হিসেবে দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালন করেছেন এবং বিভিন্ন জঙ্গিবিরোধী অভিযানে গণমাধ্যমকে ব্রিফ করেছেন।

অন্যদিকে পলাশ রঞ্জন দের বিরুদ্ধে কর্মস্থলে অনুমতি ছাড়া অনুপস্থিত থাকার অভিযোগে আগেও বিভাগীয় প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল। 

প্রকাশিত সরকারি নথির ভিত্তিতে পাওয়া তথ্যে দেখা যায়, তাকে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর বিধি ৩(খ) ও ৩(গ)-এর অধীনে যথাক্রমে অসদাচরণ ও পলায়নের অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছিল। মোহাম্মদ ছানোয়ার হোসেনের নামও এর আগে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকা কর্মকর্তাদের তালিকায় এসেছে; সরকারি নথিভিত্তিক প্রতিবেদনে তার বিরুদ্ধে সাময়িক বরখাস্তের প্রশাসনিক পদক্ষেপের তথ্য প্রকাশিত হয়েছিল।

পুলিশে পলাতক বা দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে সরকারের এই ধারাবাহিক ব্যবস্থা মূলত চাকরির শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং সরকারি দায়িত্ব পালনে অনুপস্থিতির অভিযোগের নিষ্পত্তির অংশ হিসেবে নেওয়া হচ্ছে। জুলাইয়ে প্রকাশিত তালিকায় ডিআইজি, অতিরিক্ত ডিআইজি, পুলিশ সুপার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, সহকারী পুলিশ সুপার ও সহকারী পুলিশ কমিশনার পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের নাম ছিল। ওই তালিকার কয়েকজন তখন সাময়িক বরখাস্ত অবস্থায় ছিলেন। পরবর্তী সময়ে পৃথক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তাদের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত চাকরিচ্যুতির ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

সোমবারের ছয় কর্মকর্তার বরখাস্তের আদেশের ফলে পলায়ন বা কর্মস্থলে অননুমোদিত অনুপস্থিতির অভিযোগে পুলিশ বাহিনীর সাবেক ও বর্তমান বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে নেওয়া ধারাবাহিক প্রশাসনিক ব্যবস্থায় আরও একটি ধাপ যুক্ত হলো। 

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পৃথক প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, নতুন ছয় কর্মকর্তার ক্ষেত্রে বরখাস্তের আদেশ জারির সঙ্গে সঙ্গেই কার্যকর হয়েছে।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়